শিরোনাম
বরগুনার ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটি গঠন পঞ্চগড়ে সারের জন্য দীর্ঘ লাইন, ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই বাগেরহাটে সজীব ওয়াজেদ জয় পরিষদ কর্তৃক জাতীয় শোক দিবস পালিত বোদায় ইউএনওর ফোন নম্বর ক্লোন করে প্রতারণার চেষ্টা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটিতে জাতীয় শোক দিবস পালিত রূপসায় শ্রমীক নেতা আবুল হোসেনের স্বরণসভা ও দোয়া অনুষ্টিত বরগুনায় ছাত্রলীগের উপর পুলিশের বেধড়ক মারধর এর প্রতিবাদে আমতলীতে বিক্ষোভ বরগুনায় ছাত্রলীগকে পেটানো পুলিশ কর্মকর্তাকে ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত টাঙ্গাইলে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে সিএনজির ধাক্কায় দুজন নিহত কুমিল্লায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে ৭ রাইস মিলকে জরিমানা
বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও স্বীকৃতি নেই ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার আব্দুর রহমানের

Muktir Lorai / ৭০ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় রবিবার, ২৬ জুন, ২০২২

স্টাফ রিপোর্টারঃ ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার সাং- দারমা, ডাকঘর- মজলিশপুর, থানা- ব্রাহ্মণবাড়ী মৃত মোছলেহ উদ্দিনের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুর রহমান, মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহকারী একজন অবহেলিত বীর মুক্তিযোদ্ধা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন তিনি। যুদ্ধকালীন সময়ে ১৯৭১ সালে ভারতের আগরতলায় অবস্থিত “কলকলিয়া ট্রেনিং সেন্টার” কর্ণেল হেলাল মোর্শেদ এর অধীন দীর্ঘ ১ মাস গেরিলা প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করে ৩নং সেক্টর কমান্ডার “জেনারেল শফিউল্লাহ” এর অধীন নাসিরনগর এলাকায় মুক্তিবাহিনীর মাধ্যমে গেরিলা যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করে দীর্ঘ ৯ মাস যুুদ্ধ শেষে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ট্যাংকের পাড় নামক স্থানে “ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়” প্রাঙ্গনে অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যায় তার কাছে থাকা যুদ্ধে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র জমা প্রদান করেন। অস্ত্র প্রদানকালে জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী কর্তৃক স্বাক্ষরিত মুক্তিযোদ্ধা সাময়িক সনদপত্র নং- ২০৯২৮ সনদ গ্রহণ করেন। মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তার মুক্তিবার্তা (সবুজ তালিকা) নং- ০২১২০১১৪০২ এবং সাময়িক সনদপত্র নং- ম-১৩৮০১৮ হলেও তিনি বর্তমানে আর দশ জন সাধারণ মানুষের ন্যায় জীবন অতিবাহীত করছেন।

মুক্তিকামী জনতার দৈনিক মুক্তির লড়াই পত্রিকার অনুসন্ধানে জানা যায়, একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হওয়া স্বত্তে¡ও তার নাম মুক্তিযোদ্ধাদের লালবইয়ে অন্তর্ভূক্ত হয়নি। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও পাচ্ছেন না মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি। উক্ত বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আব্দুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদের অভিভাবক, আপনার কাছে অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের সাথে জানাইতেছি যে, আমার নাম মুক্তিযোদ্ধাদের লালবইয়ে অন্তর্ভূক্ত না থাকায় আমাকে যাচাই বাছাই তালিকায় আমার নাম উল্লেখ করে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ২৩/০১/২০১৭খ্রিঃ তারিখের ৩০০(৯)নং স্মারক মূলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় এবং ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর কর্তৃক স্মারক নং-০৫.৪২.১৩১২.০০০.১২.০০৯.১৭-১৪৮, তাং- ০৯/০২/২০১৭খ্রিঃ মূলে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই দায়িত্বরত কমিটি কর্তৃক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রস্তুতকালে আমি নোটিশ পাই। উক্ত নোটিশ অনুযায়ী আমার সকল কাগজপত্রদি ও ৩ জন স্বাক্ষী যথাক্রমে- (১). বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ বজলুর রহমান, লাল মুক্তিবার্তা নং- ২১২০১১৫০০, সাং- দারমা, ডাকঘর- মজলশপুর, থানা- সদর, জেলা- ব্রাহ্মণবড়িয়া। মোবাইল নং- ০১৭২৫-২৫৭১৭৬, (২). বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ধন মিয়া, লাল মুক্তিবার্তা নং- ০২১২০১১৫০৭, সাং-জাফরগঞ্জ, ডাকঘর- মজলিশপুর, থানা- সদর, জেলা- ব্রাহ্মণবড়িয়া। মোবাইল নং- ০১৭৫৬-৩২২০৬৮ এবং (৩). বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ফজলুর রহমান, লাল মুক্তিবার্তা নং- ০২১২০১১১৩২, সাং- খাটিয়াহাতা, ডাকঘর- সরাইল, থানা-সরাইল, জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া। মোবাইল নং- ০১৭১৬-৫৩১৮৪। সেই অনুযায়ী আমি নির্ধারিত স্থানে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর কর্তৃক যাচাই-বাছাই এর নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হই এবং মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাই কমিটির নিকট আমার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনকারী হিসেবে সত্যতা এবং প্রামাণ্য বক্তব্য, সকল কাগজপত্র ও উপরোক্ত ৩ জন স্বাক্ষীগনসহ স্বাক্ষ্য পেশ করি। অদ্যবধি আমার নাম গেজেটে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি এবং আমার নাম জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) রীট আবেদন করি।
পরবর্তীতে আমার নাম মুক্তিযোদ্ধার গেজেটে না থাকাতে অক্টোবর ২০২০খ্রিঃ সাল হইতে সরকার কর্তৃক ঘোষিত সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা ও ভাতাদি হইতে আমাকে বঞ্চিত করা হয়। যাহা আমার জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। আমি নিরুপায় হয়ে বর্তমান মাননীয় মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় মহোদয়ের কার্যালয়ে স্ব-শরীরে উপস্থিত হইয়া মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে আমার সকল কাগজপত্রাদি ও সকলপ্রকার তথ্যাদি পেশ করি। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় আমার প্রদর্শিত কাগজপত্র ও বক্তব্য শ্রবণক্রমে আমাকে আইনী জটিলতার কারণে কোন প্রকার সহযোগীতা করতে পারবে না বলে জানায়। পরবর্তীতে দীর্ঘ একটি সময়ের পর উপরে উল্লেখিত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর, স্মারক নং- ০৫.৪২.১৩১২.০০০.১২.০০৯.১৭-১৪৮, তাং-০৯/০২/২০১৭খ্রিঃ স্মারক মূলে প্রেরণকৃত কমিটি কর্তৃক স্বাক্ষরিত তালিকাটির একটি কপি সংগ্রহ করি। উক্ত যাচাই বাছাই কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সুপারিশকৃত লিপিবদ্ধ হইলেও আমার নামটি উক্ত কমিটি সুপারিশ না করে আমাকে অনুপস্থিত দেখায় এবং মন্তব্য করেন যে, অনুপস্থিত থাকার কারণে আমার নাম সুপারিশ করা গেল না।
অথচ আমি সেখানে আমার নি¤েœবর্ণীত স্বাক্ষীগনদের নিয়ে স্ব-শরীরে হাজির হই এবং সকল কিছু উপস্থাপন করা সত্যেও আমাকে এমন অমানবিকভাবে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় আমার নামটি ঝুলিয়ে রেখেছে। আমাকে নিয়ে উক্ত কমিটির চরম অবহেলার পাত্র হয়ে এসেছি এতদিন, যা আমার জন্য অসহায়ত্ব ছাড়া আর কিছুই না। আমি কেন এই অবহেলার শিকার তার উত্তর আজও আমার অজানা। উক্ত যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক সকলের স্বাক্ষরিত অনুপস্থিত তালিকায় ১৭নং ক্রমিকে আমার নামটি অন্তর্ভূক্ত করা হয়। উক্ত কমিটি আমার নামে সম্পূর্ণ মনগড়া এবং মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করার কারণে পরবর্তীতে আমি অদ্যবধি পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে আমি একজন প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা অধিকারের জন্য হন্নহয়ে ঘুরেও কোন সদউত্তর পাইনি। আজ আমি বিষন্নঅসহায় হয়ে অন্য কোন উপায় না পেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী আপনার নিকট দারস্থ হতে বাধ্য হই। একটি দূর্ঘটনায় আমার একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায় এবং বর্তমানে আমি বার্ধক্যজনিত কারণে ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা ও কিডনি জনিত রোগসহ আরো বিভিন্ন কঠিন রোগে আক্রান্ত যার চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল।


এই বিভাগের আরো সংবাদ
Translate »
Translate »