বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

ক্রমবর্ধমান আত্মহত্যাঃ একটি সামাজিক সমস্যা এবং কিছু প্রস্তাবনা

Muktir Lorai / ৪৩১ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২১
বরুড়ায় ক্রমবর্ধমান আত্মহত্যাঃ একটি সামাজিক সমস্যা এবং কিছু প্রস্তাবনা
ছবি: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান

বিশ্বায়নের এ পৃথিবীতে নগরায়ন, শিল্পায়ন, আধুনিকয়ান, উন্নত সমাজ এবং সংস্কৃতির সংস্পর্শে আমাদের সমাজ যেমনি প্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তেমনি ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন আন্তঃজটিলতা, হতাশা, ক্লান্তিময় জীবনাচরণ, পেশাগত একগোঁয়েমি, সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব এবং দৃষ্টিভঙ্গির দ্বান্দ্বিক সমস্যাসমূহ ইত্যাদি কারণে বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থায় বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার পাশাপশি আত্মহত্যার মত কঠিন সমস্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। আত্মহত্যা এমন একটি সমস্যা যাতে মানুষ কোন প্রতিকূল পরিবেশে কি তার করণীয়, কি তার সিদ্ধান্ত হবে তা নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হয়, এমন অবস্থায় নিজের মূল্যবান জীবনকেও এতটুকু মূল্যহীন ও অর্থহীন মনে করে নিজেকে আত্নহননের দিকে এগিয়ে যান। আর এ আত্মহত্যার ঘটনা এখন গ্রাম-শহর, ধনী-দরিদ্র, উচ্চবিত্ত-নিম্নবিত্ত এবং পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে প্রতিনিয়তই ঘটছে যা সমাজ চিন্তাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, চিকিৎসাবিদ এবং প্রশাসনে নিযুক্ত ব্যক্তিত্ববর্গ সকলকেই চরমভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলছে। সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইম (Emile Durkheim) যিনি ১৮৫৮ সালে ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেন, তিনি তাঁর আত্মহত্যা তত্ত্বে (Suicide Theory) মানুষের আত্মহত্যার প্রবণতা, কেন মানুষ আত্মহত্যা করেন, কাদের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেশি থাকে এসকল বিষয়ে সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। তিনি আত্মহত্যাকে একটি সামাজিক ঘটনা হিসেবে (অর্থাৎ এটা শুধু ব্যক্তির নিজস্ব বিষয় নয়) অভিহিত করেন। তিনি আত্মহত্যাকে Primary a social phenomena in terms of break-down of the vital bond of life হিসেবে ব্যাখ্যা প্রদান করেন। ১৮৯৭ সালে এমিল ডুর্খেইমের আত্মহত্যার উপর ‘Le Sucide (যা ফ্রান্স ভাষায় লিখিত)’ একটি Classical Study প্রকাশিত হয়, যেখানে আত্মহত্যার মূল Psycho-Pathic, Heredity, Climate, Poverty, Unhappy love ev Other personal factors-কোনটাকেই যথার্থ কারণ বলে অভিহিত করেননি। তিনি আত্মহত্যাকে সামাজিক সংহতি এবং সামাজিক সম্পর্কের শূন্যতার ফলশ্রুতি হিসেবে অভিহিত করেন। এমিল ডুর্খেইমের মতে, মহিলাদের চেয়ে পুরুষ, বিবাহিতদের চেয়ে অবিবাহিত পুরুষ/মহিলা, পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ ব্যক্তিদের চেয়ে পারিবারিক সম্পর্কের বাইরে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তিনি আত্মহত্যার মূলে ঋতুবৈচিত্র্যের বিভিন্ন Factors কিভাবে কাজ করে সে ব্যাপারেও ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন।

এমিল ডুর্খেইম তাঁর আত্মহত্যা বিশ্লেষণে চার ধরনের আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করেন। যেমন- আত্মকেন্দ্রিক আত্মহত্যা (Egoistic Suicide)- যখন কোন ব্যক্তি সামাজিকভাবে নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে করেন বা অনুভব করেন এবং মনে করেন সমাজে তার কোন স্থান নেই তখন ব্যক্তির মধ্যে এ ধরনের আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যায়। এক্ষেত্রে সমাজের সাথে ব্যক্তির Integration কম হয়ে থাকে; পরার্থপর আত্মহত্যা (Altruistic Suicide)- ব্যক্তির সাথে সমাজের সম্পর্ক যখন অনেক বেশি গভীর (High integration) হয়, তখন ব্যক্তির মধ্যে পরার্থপর আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যায়। এ ধরনের আত্মহত্যা বিশেষ করে যারা Suicide Bomber তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়; নৈরাজ্য আত্মহত্যা (Anomic Suicide)- যখন নির্দিষ্ট কিছু সামাজিক ভারসাম্য ছন্দপতন হয় (Low regulation), এমন অবস্থায় ব্যক্তির মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যায় এবং আত্নহত্যা করেন। যেমন- কেউ অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া হলে বা হঠাৎ লটারিতে অনেক টাকা পেলে ব্যক্তির আচরণেও ভারসাম্যহীনতা লক্ষ্য করা যায় যা তাদেরকে আত্মহত্যার পথে পরিচালিত করে; এবং ভাগ্যহত আত্মহত্যা (Fatalistic Suicide)- এমিল ডুর্খেইমের মতে এ ধরনের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে যখন সমাজে Over regulation লক্ষ্য করা যায়। যেমনঃ দাস বা যারা Bonded labor (অন্যের অধীনে নিদ্দিষ্ট সময় নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধ্য) তাদের মধ্যে এ ভাগ্যহত আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যায়। আমাদের বিদ্যমান সমাজে সচরাচর আত্মকেন্দ্রিক আত্মহত্যা (Egoistic Suicide) বেশি পরিলক্ষিত হয়। চরম মানসিক অশান্তি, ব্যক্তিগত হতাশা ও লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতা, সামাজিক অসঙ্গতি, মানসিক টেনশন, উন্নত সমাজ ব্যবস্থা ও সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে নেয়া এবং খাপ খাইয়ে নিতে নিজস্ব অক্ষমতা, প্রেমে ব্যর্থতা, পারিপার্শ্বিক উপস্থিত নতুন নতুন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারা ইত্যাদি কারণে আমাদের বিদ্যমান সমাজে আত্মহত্যার হার প্রতিনিয়তই বেড়ে চলছে। তদুপরি, কোভিড-১৯ সময়কালীন এবং পরবর্তী দেড় বছরে আমাদের সমাজে বিভিন্ন অস্থিরতা যেমন বেড়েছে, তেমনি মানুষের মধ্যে চরম হতাশা, অর্থনৈতিক দুর্দশা, দারিদ্র্যসৃষ্ট আন্তঃসম্পর্কের বিভিন্ন জটিলতা এবং সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ইত্যাদি কারণে আত্মহত্যার হার প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে।

বরুড়া- কুমিল্লা জেলার একটি সমৃদ্ধ জনপদ তথা উপজেলা যা শিক্ষা-সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং অর্থনীতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে অনেক অগ্রসর। এ উপজেলায় অনেক অগ্রগতি এবং সফলতার পাশাপশি আত্মহত্যার মতো সামাজিক সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। গত কয়েক বছরে স্কুল-কলেজের ছাত্র/ছাত্রী, তরুণ-তরুণী, গৃহবধুসহ বিভিন্ন বয়সী অনেক মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় যা আমাদের সার্বিক সমাজ কাঠামোয় একটা ভয়াবহ দিক। আর এ সমস্যার জন্য কিছু ঋধপঃড়ৎং দায়ী- কোভিড সময়কালীন মানসিক অস্থিরতা, দারিদ্র্য, পারিবারিক কলহ-দ্বন্দ্ব, আন্তঃসম্পর্কের মধ্যকার জটিলতা, মহামারী পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্তহীতনার জটিলতা, পারস্পরিক সম্পর্কের বিচ্ছিন্নতা, মহামারীসৃষ্ট চরম হতাশা, একাডেমিক অনগ্রসরতা, জীবনের লক্ষ্য এবং বাস্তবতার মধ্যকার দূরত্বের ব্যাপকতা, পিতা-মাতার সাথে সন্তানদের মনোমালিণ্য, আধুনিক প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারসৃষ্ট সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব, প্রবাসী স্বামীর পরিবারে স্ত্রীর বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক সংকট এবং অল্প বয়সী মেয়েদের বিয়েতে পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের মনস্তাত্ত্বিক চাপ ইত্যাদি। আর এভাবে যদি আত্মহত্যার হার ক্রমবর্ধমান হারে বাড়তে থাকে তাহলে তা বরুড়ায় আগামী প্রজন্মের জন্য একটা বৃহৎ সামাজিক ব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হবে এবং আমাদের বিদ্যমান সমাজ কাঠামো হবে বিবিধ সমস্যায় আক্রান্ত এবং জর্জরিত। তাই বরুড়ার সমাজ ব্যবস্থায় আগামীর প্রজন্মের সঠিক সামাজিকীকরণ, পারিবারিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ এবং সুন্দর ভবিষ্যত বিনির্মাণের জন্যই আত্মহত্যার মত ভয়াবহ আত্মঘাতী সামাজিক সমস্যা নিরসনের জন্য সবাইকে এখনই চিন্তা করতে হবে, সমাজ বিশ্লেষক এবং প্রশাসকদের সমস্যার বিশ্লেষণ এবং সমাধানকল্পে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন এবং বাস্তবায়ন করতে হবে।

একজন সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক, সমাজ গবেষক এবং সর্বোপরি বরুড়ার একজন সন্তান হিসেবে মাননীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় এবং সম্মানীত উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে নীতি নির্ধারনী ফোরামে উপজেলা পর্যায়ে দুইজন মনোবিজ্ঞানী নিয়োগে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের সুপাশি প্রদানের জন্য অনুরোধ করছি। যদি উপজেলা পর্যায়ে দুইজন মনোবিজ্ঞানীর কাউন্সেলিং নিশ্চিত করা সম্ভব হয় এবং গ্রাম পর্যায়ের মানুষ যথাযথ অবহিত থাকেন তাহলে হতাশাগ্রস্ত, দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত, পারিবারিক বিভিন্ন সম্পর্কের জটিলতায় আবর্তিত এবং সিদ্ধান্তহীনতায় আবর্তিত মানুষেরা তাদের বিভিন্ন সমস্যাসমূহ, মনের আভ্যন্তরীণ কষ্টের কথাগুলো (যা মনোবিজ্ঞানীদের কাছে অবশ্যই গোপন থাকবে) ব্যাখ্যা এবং প্রকাশপূর্বক যথোপযুক্ত সমাধান ও করণীসমূহ সম্পর্কে অবহিত হতে পারবেন, মনোবিজ্ঞানীদের যথার্থ কাউন্সেলিং পর্যায়ে মুক্তমনে মনোবিজ্ঞানীদের (অভিভাবকের মতো) সাথে শেয়ার করার সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন এবং তদুপরি জীবনের জটিল সমস্যাসমূহের সর্বোচ্চ যথাযথ সমাধান প্রাপ্ত হয়ে আত্মহত্যার মতো আত্মঘাতি পরিকল্পনা থেকে নিজেকে অনেকটাই দূরে সরিয়ে রাখতে সমর্থ হবেন।

একজন শিক্ষক হিসেবে নিজস্ব জ্ঞান, অনুভব এবং অভিজ্ঞতার আলোকে আত্মহত্যা মতো আত্নঘাতি সামাজিক সমস্যা নিরসনের জন্য কিছু প্রস্তাবনা এবং করণীয় (প্রশাসন, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকবৃন্দের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে) উপস্থাপন করা হলো-

১. একটি পরিবার সন্তানদের জীবনের জন্য প্রথম প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান যেখানে তাদের যথাযথ সামাজিকীকরণের শিক্ষা প্রদান করা হয়। অভিভাবকগণ (পিতা/মাতা/বড় ভাই) যদি তাদের সন্তানদের/ছোট ভাই-বোনদের নৈতিক শিক্ষা, করণীয়-বর্জনীয় এবং ভাল-মন্দ বিষয়ে পারিবারিকভাবে শিক্ষাটুকু প্রদান করে থাকেন তাহলে সন্তানেরা/ছোট ভাই-বোনেরা যথার্থ সভ্য এবং সামাজিকীকরণ শিক্ষা গ্রহন করতে সমর্থ হবেন যা তাদেরকে ইতিবাচকভাবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করবে এবং জীবনের অনেক প্রতিকূলতায়ও আত্নহত্যার মতো আত্নঘাতি সিদ্ধান্ত থেকে নিজেকে দূরে রাখতে সমর্থ হবেন;

২. উপজেলা পর্যায়ে প্রতি দুইমাস অন্তর স্কুল-কলেজের ছাত্র/ছাত্রীদের উপস্থিতিতে হতাশাগ্রস্থতা, আন্তঃসম্পর্ক সুদৃঢ়করণ, শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে ছোট পরিসরে আলোচনাসভা বা সেমিনার আয়োজন করা যেতে পারে। এতে করে তারা জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং পর্যালোচনা থেকে যেমন জীবন এবং বাস্তবতার প্রেক্ষিতে যথার্থ জ্ঞান, উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং ইতিবাচক সাহস অর্জনে সমর্থ হবেন, তেমনি জীবনের বাস্তবতায় নিজের করণীয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহনে সামর্থবান হবেন যা তাদের মানসিক দৃঢ়তাকে এবং আগামীর ভবিষ্য করতে পারে অনেক সুদৃঢ়;

৩. বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিজ নিজ বিভাগসমূহে ছাত্র/ছাত্রী উপদেষ্টা (বিভাগের শিক্ষকদের মধ্য হতে) নিয়োগ লক্ষ করা যাচ্ছে যাতে করে ছাত্র/ছাত্রীরা তাদের মনস্তাত্ত্বিক সমস্যাবলী তাদের উপদেষ্টাগণের নিকট মুক্ত মনে প্রকাশ করতে পারেন এবং সমাধান পেতে সমর্থন হন। বিশ^বিদ্যালয়ের মত স্কুল-কলেজগুলোতেও যদি এমন ব্যবস্থা গ্রহন করা যায় তাহলে শিক্ষার্থীরা তাদের যথার্থ মনস্তাত্ত্বিক সাপোর্ট পেতে সমর্থ হবেন এবং নিজের জীবনের যথার্থ মর্যাদা উপলব্দি করতে সমর্থ হবেন যা তাদেরকে আত্মহত্যার প্রবণতা থেকে অনেকটা দূরে সরিয়ে রাখতে পারে। কারণ শিক্ষকের দেয়া ইতিবাচক পরামর্শ, শিক্ষা, নৈতিক জ্ঞান, সৎ সাহস এবং সঠিক পথের দিক-নির্দেশনা শিক্ষার্থীদের জীবনে পিতা-মাতার আশীর্বাদের পর সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ এবং জীবনকে উন্নত করার সবচেয়ে বড় জ্ঞান;

৪. পরিবারের অভিভাবকদের ন্যায় শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যদি শিক্ষকেরা ছাত্র/ছাত্রীদের নৈতিক শিক্ষা প্রদান করেন, উৎসাহ-অনুপ্রেরণা প্রদান করে উদ্দীপিত করতে সমর্থ হন তাহলে তারা মনস্তাত্ত্বিকভাবে সবসময় এগিয়ে থাকবেন, দুঃশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে ভবিষ্যৎ বিনির্মানে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে সমর্থ হবেন;

৫. বরুড়া জনপদে প্রায় প্রতিটি গ্রামে অনেক সংখ্যক প্রবাসী রয়েছেন যারা নিজেদের পরিবারকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রবাসে অবস্থান করছেন। আর সেজন্য প্রবাসীদের অধিকাংশ স্ত্রী তাদের শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর সাথে যৌথ পরিবারে অবস্থান করছেন যারা স্বামীর পরিবারের বিভিন্ন আন্তঃসম্পর্ক জটিলতার জন্য বিবিধ মানসিক চাপের সম্মুখীন হন, নিজের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়াবলী সহজে শেয়ার করতে সমর্থ হচ্ছেন না, বিভিন্ন দুঃশ্চিন্তায় আবর্তিত থাকেন যা অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যা প্রবণের জন্যও দায়ী। স্বামীর পরিবারের সদস্যরা (বিশেষত শ^শুর-শ^াশুড়ী) যদি তাদের ছেলের অনুপস্থিতিতে স্ত্রীকে উপযুক্ত মনস্তাত্ত্বিক সাপোর্ট প্রদান করেন, হাসি-আনন্দে সুখ-দুঃখটুকু শেয়ার করেন, সন্তানের স্ত্রীদেরকে তাদের জীবন সাজানোর উৎসাহ ও অনুপ্রাণিত করেন তাহলে প্রবাসীদের স্ত্রীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা অনেকাংশ কমে আসবে।

আমরা যদি আমাদের সমাজের সমস্যাগুলো সকলে একটু করে শেয়ার করি, চিন্তা করি, আলোচনা-পর্যালোচনা, বিশ্লেষণ করি এবং সবাই মিলে সমস্যাগুলো সমাধানকল্পে নিজ-নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসি, তাহলে একজন সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে আমার বিশ^াস বরুড়ার মতো সমৃদ্ধ জনপদ থেকে আত্মহত্যার প্রবণতা এবং ক্রমবর্ধমান আত্মহত্যার হার অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং গড়ে উঠবে একটি সবুজ ও আনন্দময় জনপদ।

লেখকঃ
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান
সহকারী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ এবং
সহকারী প্রভোস্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, সিলেট।


এই বিভাগের আরো সংবাদ
Translate »
Translate »