বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

নবীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ৭নং ওয়ার্ডে ৪ প্রার্থীর বিরামহীন প্রচারণা

Muktir Lorai / ১৫০ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০

মাসুদ আহমদ শিকদার:
হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার প্রচারনায় ব্যস্ত সময় যাচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজের পক্ষে আকৃষ্ট করতে দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। নতুন পুরাতন প্রার্থীদের প্রচারণায় মুখর নবীগঞ্জ পৌর এলাকার অলি-গলি, পাড়া-মহল্লার সর্বত্র। পৌরসভার নির্বাচনকে সামনে রেখে থাকছে ৬নং ওয়ার্ডের হালচাল। ছালামতপুর, নহরপুর ও নোয়াপাড়া গ্রাম নিয়ে গঠিত ৭নং ওয়ার্ডে প্রায় ৫ হাজার লোকের বসবাস। এই ওয়ার্ডে নারী, পুরুষ মিলিয়ে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ২শ ৫৩। এই ওয়ার্ডের একমাত্র ভোট সেন্টার নহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদে নতুন পুরাতন প্রার্থীদের প্রচারনায় সরগরম প্রতিটি পাড়া মহল্লা। আধুনিক নাগরিক সুবিধা সম্বলিত একটি মডেল ওয়ার্ড গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ কবির মিয়া, সাবেক কমিশনার আলহাজ্ব রুহুল আমীন রফু, ফখরুজ্জামান তালুকদার বুলবুল ও মোঃ আব্দুল মালিক।

মোঃ কবির মিয়া : ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪র্থ নির্বাচনে ৭নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে বিজয়ী হয়ে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন তিনি। আলাপকালে মোঃ কবির মিয়া জানান, আমি বিগত নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে জনগনকে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো শতভাগ পালন করার চেষ্টা করেছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, নোয়াপাড়া মসজিদ সংলগ্ন একটি ঈদগাহ নির্মান করেছি। নোয়াপাড়া কবরস্থানে সমীনা প্রাচির নির্মান করছি। বিগত ১৭ বছরে যে কাজটি করা সম্ভব হয়নি, শফিক কন্ট্রাক্টরের বাড়ী থেকে মুহিনুর মাস্টারের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আরসিসি ঢালাই করে দেয়া হয়। প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমান স্ট্রিট লাইট স্থাপন করেছি। সুপেয় পানির সুবিধা নিশ্চিত করতে অনেকস্থানে গভীর নলকূপ স্থাপন করে দিয়েছে। অন্যান্য ওয়ার্ডের তুলনায় অধিক হারে ভয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধি ভাতা ও বিধবা ভাতা দিয়েছি।
আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হতে পাড়লে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোন কোন কাজগুলো করতে চান, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আগামীতে নির্বাচিত হতে পাড়লে নোয়াপাড়া গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মান করতে চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ। এছাড়াও প্রয়োজনীয় রাস্তাঘাট সংস্কারের চেষ্টা করবো এবং সম্পূর্ণ ওয়ার্ডে গ্যাস ও পানির সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করবো।

আলহাজ রুহুল আমীন রফু : ১৯৯৭ সালে নবীগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর তৎকালীন ইউএনও জহিরুল ইসলাম কে পৌরসভার প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হলে ঐ পরিষদের সদস্য হয়ে ৭নং ওয়ার্ডের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এর পর ১৯৯৯ সালে পৌরসভার ১ম নির্বাচনে কমিশনার পদে বিজয়ী হন তিনি এবং এর পরের ২ নির্বাচনেও কাউন্সিলর পদে বিজয়ী হয়ে টানা ৩ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়াও ছালামতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভুমি দাতাও তিনি। তার দায়িত্বকালীন সময়ে নবীগঞ্জ পৌর গরু বাজরটি ছালামতপুরে স্থানান্তর করা হয় এবং পৌর বাস টার্মিনালটিও স্থানান্তর করা হয় তার আমলেই।
আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হতে পাড়লে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কি কি কাজ করতে চান তিনি এমন প্রশ্নের জবাবে জানান, আমার এলাকায় সবছেয়ে বেশী সমস্যা হচ্ছে পানি নিষ্কানের সমস্যা। আমি নির্বাচিত হতে পারলে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবো। ছালামতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার অনোপযোগী, এই মাঠেটিতে মাটি ভরাট করতে পারলে বাচ্চারা খেলাধুলা করতে পারবে। আমি মাঠেটিকে খেলা উপযোগী করার চেষ্টা করবো। এছাড়াও রাস্তাঘাট, স্ট্রিট লাইট, বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধিভাতাসহ নাগরিক সুযোগ সুবিধাগুলো নিশ্চিত করার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ।

এছাড়াও অপর ২ প্রার্থী ফখরুজ্জামান তালুকদার বুলবুল ও মোঃ আব্দুল মালিক ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের প্রতিশ্রুতি ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ, ২০ মার্চ ১৯৯৭ সালে নবীগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর ওই ওয়ার্ডে কমিশনার/কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ১৯৯৯ সালে নবীগঞ্জ পৌর পরিষদের প্রথম নির্বাচন থেকে কমিশনার পদে বিজয়ী হয়ে ২২ মার্চ ১৯৯৯ইং থেকে ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ পর্যন্ত কাউন্সিলর টানা ৩ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন আলহাজ রুহুল আমীন রফু।

পৌর পরিষদের চতুর্থ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর। এই নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে বিজয়ী হয়ে ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ইং থেকে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করে আসছেন বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ কবির মিয়া।


এই বিভাগের আরো সংবাদ
Translate »
Translate »