বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

সরাইলে লকডাউনে স্বাভাবিক ছিল অটোরিকশা ও সিএনজি চলাচল

Muktir Lorai / ১৪০ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার, ২৩ জুলাই, ২০২১

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে তৃতীয় দফা লকডাউনের প্রথম দিনে স্বাভাবিক ছিল অটোরিকশা ও সিএনজি চলাচল।

অন্যদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইলের বিশ্বরোড মোড় থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জ সরাইল নাসিরনগর ও কুট্রাপাড়া হাইওয়ে থানার সামনে থেকে চান্দুরা মাধবপুরের দিকে বেপরোয়া গতিতে চলতে দেখা যায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা। পুলিশের উপস্থিতিতেই নির্বিঘ্নে চলছে এসব যানবাহন।

প্রতিটি অটোরিকশায় চালকসহ ৬ জনকে চলতে দেখা যায়। কোথাও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা যায়নি। আর মাস্ক তো অনেকের মুখে ছিলোই না।

কঠোর লকডাউনে মহাসড়কে সিএনজি কেন? জানতে চাইলে চালকরা জানিয়ে দেন গাড়িতে ভাইয়ের (সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ব্যক্তি) নম্বর আছে। ভাইয়েরা আশেপাশেই কোথাও বসে আছেন। তাই চলাচল করতে কোন অসুবিধা নেই।

শুক্রবার সরজমিনে সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সরাইলের বিভিন্ন সড়ক মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, আগের ১৪ দিনের লকডাউন থেকে আরো ঢিলেঢালা ভাবে চলছে এখনকার লকডাউন।

সরাইলের প্রধান সড়কে অটোরিকশা গুলো লাইন ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তারা যাত্রীদের ডাকছেন। নির্বিঘ্নে নিশ্চিন্তে গাদাগাদি করে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছেন উপজেলার বিভিন্ন যায়গায়। তারা যাত্রী আনা নেয়াতে অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করতে দেখা যায়।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কুট্রাপাড়া মোড় থেকে হাইওয়ে থানার সামনে পুলিশের উপস্থিতিতেই মহাসড়কে ৬-৭টি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ইচ্ছেমত যাত্রী আনা নেয়া করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নিজেদেরকে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী কতিপয় ব্যক্তি অন্যের সিএনজির দায়িত্ব নিয়ে ব্যবসা করছেন। কেউ ৫টি, ১০টি, ১৫টি, ২০টি। অনেকে প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির পরিচয় দিয়ে ৪০-৫০টিরও দায়িত্ব নিয়ে রেখেছেন। বিনিময়ে বিশাল বাণিজ্যে ডুবে আছেন তারা। প্রত্যেকটি সিএনজি মাসে ৩ হাজার টাকা চুক্তি করেছে। পুলিশকে দিবেন ১ হাজার টাকা। নিজেরা রাখবেন ২ হাজার টাকা।

হাইওয়ে থানার ‘মো’ আদ্য অক্ষরের জনৈক পুলিশ কর্মকর্তাকে মেনেজ করেই চলছে এ বাণিজ্য। বিনা পুঁজিতে তারা মাসে ১০/২০/৪০/৫০ হাজার কামিয়ে নিচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন একাধিক চালক ও মালিক। আর ওইসব অটোরিকশা গুলোই লকডাউন চলাকালে মহাসড়কে নিশ্চিন্তে বেপরোয়া গতিতে চলে। বিশ্বরোড মোড়ের তিন দিকে মহাসড়কের উপর দাঁড়িয়ে আছে ১৫-২০টি করে সিএনজি চালিত অটোরিকশা। গাদাগাদি করে যাত্রীরা যাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে, আশুগঞ্জ ও অন্যান্য গন্তব্যে।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সেনা সদস্যদের নিয়ে বিশ্বরোড মোড়ে অবস্থান নেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রাজ কুমার বিশ্বাস। তিনি হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্যদের ডেকে এনে বলেন, মহাসড়কে কোন অটোরিকশা চলবে না। চললে ব্যবস্থা নিবেন। তখনও সড়কের পশ্চিম দক্ষিণ পাশে ৮-১০টি অটোরিকশা অবস্থান করছিল।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম বলেন, লকডাউন চলাকালে অটোরিকশা কেন যন্ত্রচালিত কোন যানই অনুমতি ব্যাতিত বা যৌক্তিক কারণ ছাড়া বের হতে পারবে না। কিছু লোক নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘ সময় থানায় বা আশপাশে বসে থাকেন। তাদের কোন কাজ আছে কিনা জানি না। কতিপয় ব্যক্তি থানার জনৈক পুলিশ সদস্যের সাথে কথা বলে অটোরিকশা থেকে মাসিক টাকা উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারার বিষয়টি আমার জানা নেই


এই বিভাগের আরো সংবাদ
Translate »
Translate »