বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

২৩ বছরেও হয়নি নবীগঞ্জ পৌরসভার নিজস্ব ভবন

Muktir Lorai / ১১৪ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২১

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ জেলার মধ্যে জনবহুল পৌরসভা হচ্ছে নবীগঞ্জ পৌরসভা। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৭ সালে। প্রায় ১৯ হাজার ভোটারের বসবাস এই পৌরসভায় নেই নিজস্ব কোন ভবন। প্রতিষ্ঠার প্রায় ২৪ বছর অতিবাহিত হলেও প্রথম শ্রেণির খেতাব প্রাপ্ত এ পৌরসভার নিজস্ব কোন ভবন তৈরি হয়নি।

নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাড়া করা ভবনেই চলছে পৌরসভা কার্যক্রম। এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও নেই পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা।

সূত্র জানায়, পৌরসভার কাছে ভবন ভাড়া বাবদ বেশ কয়েক লাখ টাকা বকেয়া পায় উপজেলা পরিষদ। কিন্তু তা মানতে নারাজ পৌর মেয়র। তিনি এ তথ্য অস্বীকার করে বলেন ‘ভবন ভাড়া নেয়ার তো প্রশ্নই উঠে না।’ কবেই বা নির্মিত হবে নবীগঞ্জ পৌরসভার নিজস্ব ভবন তার কোনো সঠিক সময় জানা নেই সংশ্লিষ্টদের। আগামী ১৬ জানুয়ারি নবীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে পৌরসভার নানা সমস্যার মধ্যে পৌরসভার নিজস্ব ভবন না থাকার বিষয়টি ভোটারদের অন্যতম। তাই এই বিষয়টি ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ভোটারদের কাছে প্রার্থীরাও দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

উপজেলা পরিষদের প্রায় ২০ শতাংশ জায়গায় এক তলা জরাজীর্ণ ভবনের সাতটি কক্ষ নিয়ে ‘ভাড়ায় চলছে’ পৌরসভার কার্যক্রম। পৌরসভার কার্যক্রম শুরুর পর উপজেলা পরিষদকে নিয়মিত ভাড়া হিসেবে কোনো টাকা পরিশোধ করা হয়নি। বকেয়া পড়েছে কত লাখ টাকা? তার হিসেবও মিলেনি।

এ প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের একটি পরিত্যক্ত ভবনে ভাড়া নিয়ে নবীগঞ্জ পৌরসভার কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের কাছে বেশ কয়েক লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এ নিয়ে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায়ও আলোচনা হয়েছে।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসার কিংবা নাগরিক সেবা প্রদানের ব্যবস্থাও তেমন ভালো নয়। কোনোরকমে গাদাগাদি করে দাপ্তরিক কার্যক্রম সারছেন কর্মরত ব্যক্তিরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মচারী বলেন, ‘আমরা নিজেরাই ঠিকমতো বসতে পারি না। সেবা দেব কীভাবে? যা দেই তাই যথেষ্ট’

কর্মকর্তারা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে মৃদু ভূমিকম্প হলেই আমরা প্রাণ ভয়ে অফিস থেকে বের হয়ে আসি। অনেকটা আতঙ্কের মাঝেই অফিসের কার্যক্রম সারতে হয়।

সচেতন মহলের ভাষ্য, ‘প্রথম শ্রেণির নবীগঞ্জ পৌরসভার নিজস্ব ভবন নেই, এটি দুঃখজনক। নির্বাচনের সময় মেয়র প্রার্থীরা নবীগঞ্জ পৌরসভার জন্য নিজস্ব ভবন নির্মাণের আশ্বাস দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র ছাবির আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘পৌরসভার উল্লেখযোগ্য যে কয়েকটি সমস্যা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম সমস্যা নিজস্ব ভবন এখনো নির্মাণ করা হয়নি।’

মেয়র বলেন, ‘আমার পরিষদ আসার পর নিজস্ব ভবনের জন্য অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি, জায়গাও নির্ধারণের চেষ্টা প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে ৪র্থ পরিষদ। এর আগে আরো ৩টি পরিষদ গেছে। বিগত ৩ পরিষদে ১৭ বছর সময় গেছে। সেখানে ভবনের জায়গা নির্ধারণের কোন ব্যবস্থা হয়নি।’

বকেয়া প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছাবির আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ পৌরসভার কাছে টাকা পাবে এটা প্রশ্নই উঠেনা। এমন তথ্য আমার জানা নেই।’


এই বিভাগের আরো সংবাদ
Translate »
Translate »