শিরোনাম
খুলনায় দুই খালাতো বোনকে গন-ধর্ষণের অভিযোগে আটক-৩ পাথরঘাটা অস্বাভাবিক আকৃতি নিয়ে শিশুর জন্ম শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ দাউদকান্দিতে দুর্বৃত্তদের হামলায় সাংবাদিক গুরুত্বর আহত বিএনপির পায়ের নিচে মাটি নেই… কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক লাকসামে রোবটিক্স ও প্রোগ্রামিং রিফ্রেসার্স প্রশিক্ষণ কর্মশালা বালিয়াডাঙ্গীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে দুদকে তলব কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী রিফাত ও বর্তমান মেয়র সাক্কুসহ ৬ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ নারীদের রাজনৈতিক নাগরিক সচেতনতা কার্যক্রম সভা অনুষ্ঠিত ভোলায় হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

৬ চিকিৎসক নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে বরগুনা সরকারি হাসপাতাল

Muktir Lorai / ২২৭ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১

সাইফুল্লাহ নাসির, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ ৬ চিকিৎসক নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে বরগুনা সরকারি হাসপাতাল।

প্রায় ১২ লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসার এই জেনারেল হাসপাতাল। অথচ সেই হাসপাতাল ধুঁকছে চিকিৎসক সংকটে। যেখানে চিকিৎসক থাকার কথা ৪৩ জন সেখানে চিকিৎসক আছে মাত্র ৬ জন। এতে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

হাসপাতালের ৫০ শয্যার করোনা ওয়ার্ড সামলাতে অন্য হাসপাতাল থেকে সাময়িকভাবে ২০ জন চিকিৎসককে আনা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন মাত্র ৬ জন চিকিৎসক। এতে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জেলার প্রধান এই হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৪৩ জনের। এর অনুকূলে আছেন মাত্র ৬ জন। বাকি ৩৭টি পদ অনেক দিন ধরে শূন্য। এর মধ্যে ২১ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদের ১৮টিই শূন্য। আর চিকিৎসা কর্মকর্তার ১৯টি পদের মধ্যে ১৬টি পদ শূন্য। জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ ২১ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মধ্যে নাক কান গলা, শিশু, গাইনি, প্যাথলজিস্ট, মেডিসিন, চক্ষু, কার্ডিওলোজিস্ট, অ্যানেসথেটিস্ট, অর্থোপেডিকস, রেডিওলজিস্ট ও সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকের পদ শূন্য।

বর্তমানে যে ৬ চিকিৎসক রয়েছেন তাঁরা হলেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও), একজন হোমিও চিকিৎসক, একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা, সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের কনিষ্ঠ বিশেষজ্ঞ।

সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সালে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও শয্যা আর খাবার ছাড়া কিছু বাড়েনি। এর মধ্যেই ২০১০ সালের মে মাসে হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৮ সালে নতুন ভবনটি উদ্বোধন হওয়ার পর বর্তমানে সেখানে করোনা ইউনিট করা হয়েছে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, এই হাসপাতালে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ রোগী ভর্তি থাকেন। এ ছাড়া বহির্বিভাগে সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগীকে চিকিৎসা দিতে হয়। এরপর প্রশাসনিক কাজ, ময়নাতদন্ত, ধর্ষণের পরীক্ষাসহ বিভিন্ন কাজকর্ম এই ছয়জনকেই সামলাতে হয়। ফলে এত রোগীর চিকিৎসাসেবা দেওয়া অসাধ্য হয়ে পড়েছে।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, পুরোনো ভবনে বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ সারি। সেখানে কথা হয় পেটব্যথা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা বরগুনা সদরের ফুলতলা গ্রামের গৃহবধূ আকলিমা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সকালে আইছি। এহন দুপুর বাজে ১২টা। এত্ত রোগী যে একজন ডাক্তারে দেইখ্যা আউগাইতে পারে না। হ্যারা বা হরবে কী।’

বুকে ব্যথা নিয়ে এক সপ্তাহ আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সদরের গৌরিচন্না গ্রামের আমির হোসেন খান (৭০) নামের এক রোগী। তিনি বলেন, ‘এই সাত দিনে ডাক্তার ওয়ার্ডে আইছে তিন দিন। হ্যারপর খবর নাই।’

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সোহারফ হোসেন বলেন, ‘ছয়জন চিকিৎসকের পক্ষে ২৪ ঘণ্টা জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগীদের সামাল দেওয়া দুরূহ। আমরা কীভাবে দিচ্ছি, সেটা বোঝাতে পারব না।’


এই বিভাগের আরো সংবাদ
Translate »
Translate »