বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

৭ দফা দাবিতে ছাত্র সমাবেশ করেছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট

Muktir Lorai / ১৫৪ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টারঃ
করোনাকালে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতন-ফি মওকুফ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসিক হল থেকে অছাত্র ও সন্ত্রাসীদের বিতাড়ন করে সন্ত্রাস-দখলদারীত্ব ও গণরুম প্রথা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সহ ৭ দফা দাবিতে ছাত্র সমাবেশ করেছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট। আজ ১৮ ডিসেম্বর বিকাল ৪ টায় সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ছাত্র সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ। বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শোভন রহমান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “আমরা করোনার শুরু থেকেই স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন ফি মওকুফের দাবি করে আসছিলাম। এটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্দোলনও হয়েছে। কিন্তু সরকার এ বিষয়ে ন্যুনতম কোন পদক্ষেপ নেয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় দায়সারা ভাবে একটা প্রজ্ঞাপন জারি করেই শেষ করেছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ব্যাপারে তাদের কোন পদক্ষেপ নেই। বরং এর বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদেরকে পুলিশ দিয়ে মামলা দিয়ে হেনস্তা করার ঘটনাও আমরা দেখেছি। এরপরে আমরা দেখলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল না খুলে পরিক্ষা নেওয়ার এক ন্যাক্কারজনক সিদ্ধান্ত। এক দিকে মেস ভাড়া মওকুফ না করার ফলে শিক্ষার্থীরা মেস ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। এখন হল না খুললে তারা কোথায় থেকে কিভাবে পরিক্ষা দিবে তার কোন আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় না করে একটা বিপুল অংশের শিক্ষার্থীদেরকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং দাবি করছি, হল ও আবাসনের ব্যবস্থা না করে কোন ধরণের পরিক্ষা নেওয়া যাবে না। সরকার আন্দোলনের ভয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রেখেছে, করোনার ভয়ে নয়। শিক্ষার্থিদের শিক্ষা জীবন নিয়ে তার কোন মাথা ব্যাথা নাই। একারণে দফায় দফায় শুধু ছুটি বৃদ্ধি করলেও কোন সামগ্রিক পরিকল্পনা তারা হাজির করতে পারেনি। আমরা সেই পরিকল্পনা করে তা জনসম্মুখে প্রকাশের দাবিও জানাচ্ছি। এছাড়াও আমরা বলতে চাই, সাম্প্রতিক সময়ে যে মৌলবাদী আস্ফালন আমরা দেখছি, এই মৌলবাদীদেরকে প্রশ্রয় দিয়েছে এই আওয়ামীলীগ সরকার। বিভিন্ন সময় তাদের সাথে আতাত করে, তাদের দাবিতে পাঠ্যপুস্তক সাম্প্রদায়িকীকরণ করে, তাদের কাছ থেকে কওমী জননী উপাধি নিয়ে তাদেরকে পেলে পুষে বড় করেছে এই ভোট ডাকাতির সরকার। এখন জনজীবনের সংকট থেকে মানুষের নজর ঘুরাতে মৌলবাদের গুটি চালছে তারা। আমরা এই শক্তি সহ সকল ফ্যাসিবাদী শক্তিকে প্রতিহত করার আহ্বান জানাই ছাত্রসমাজকে”।

১। করোনাকালে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকল বেতন-ফি মওকুফ কর, নামে বেনামে ফি আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নাও। এসাইনমেন্ট এর নামে বিভিন্ন স্কুলে আদায়কৃত ফি ফেরত দাও।
২। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সকল ফি আদায় অবিলম্বে বন্ধ কর, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি মওকুফ কর।
৩। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসিক হল থেকে অছাত্র ও সন্ত্রাসীদের বিতাড়ন কর, সন্ত্রাস-দখলদারীত্ব ও গণরুম প্রথা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নাও।
৪। প্রশাসন ও ছাত্র সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে মনিটরিং সেল করে শিক্ষার্থীদের হলে তুলে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার রোডম্যাপ ঘোষণা কর।
৫। সকল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাণিজ্যিক কোর্সসমূহ বন্ধ কর, কোন বাণিজ্যিক কোর্সে নতুন করে ছাত্র ভর্তি করা চলবে না।
৬। সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী হেফাজতে ইসলাম এর পরামর্শে আনীত পাঠ্যপুস্তকের সংশোধনীসমূহ বাতিল কর, ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার নিষিদ্ধ কর।
৭। সভা-সমাবেশের নিষেধাজ্ঞা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল কর, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত কর।


এই বিভাগের আরো সংবাদ
Translate »
Translate »