বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

গাইবান্ধায় রোগী মৃত্যর অভিযোগ তোলায় স্বজনের বিরুদ্ধে মামলা, প্রত্যাহারেের দাবি

Muktir Lorai / ১৬৭ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০২১

মোঃ রাতুল মিয়া, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ তোলার পর হাসপাতালে ভাংচুরের অভিযোগ এনে স্বজনের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার চেয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় এলাকাবাসি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গাইবান্ধা জেলা শহরের আসাদুজ্জামান মার্কেটের সামনে বোয়ালী ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে এই কর্মসূচী পালিত হয়। এ সময় মানববন্ধনে অংশ নেয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ী ছাড়াও শত শত এলাকাবাসি বিক্ষোভ মিছিল করে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহম্মেদ রনজু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ আকন্দ, ‍জেলা জাসদ নেতা নূর মোহাম্মদ বাবু, রোগী জাহেদা বেগমের পুত্রবধূ রিনা আক্তার প্রমূখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ১৮ জুন দুপুরে সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাটিকামারী গ্রামের আলতাফ হোসেনের অসুস্থ স্ত্রী জাহেদা বেগমকে জেলা হাসপাতালে নেয়া হয়।

সে সময় হাসপাতালের ল্যাব বন্ধ থাকায় বাইর থেকে রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। রক্ত পরীক্ষা করার পর বিকেলে রিপোর্টসহ রোগীকে আবার হাসপাতালে আনা হয়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তারা অভিযোগ করে বলেন, দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত জাহেদা বেগমকে কোন ধরনের চিকিৎসা সেবা দেয়নি হাসপাতালর কর্তৃপক্ষ।

শেষমেষ বিনা চিকিৎসা ও ডাক্তারের অবহেলার কারণে মারা যান জাহেদা বেগম। পরে রোগীর ছেলে জাহিদুল ইসলাম জাহিদসহ তাদের স্বজনরা বিনা চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ তোলায় তাদের উপর হামলা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় রোগীর স্বজন বোয়ালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদের নাম উল্লেখসহ ৮-৯ জনের বিরুদ্ধে পরদিন গাইবান্ধা সদর থানায় উল্টো হাসপাতালে ভাঙচুর ও চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে মামলা করে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হারুন অর রশিদ। কিন্তু রোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকে সদর থানায় এজাহার দেয়া হলেও মামলা নেয়নি পুলিশ।

বক্তারা বলেন, অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বিনা চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর বিচারের দাবিতে মামলা গ্রহণ ও এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করেন তারা।

মানববন্ধনে জাহেদা বেগমের পূত্রবধু রিনা আক্তার বলেন, ‘আমার শাশুড়ি অসুস্থ ছিল। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেছি। তারপর ডাক্তার ব্লাড টেস্ট করতে দিছে। ব্লাড টেস্ট করে নিয়ে আসার পর ডাক্তার সুজন পাল বলেন, আপনার শাশুড়ি সুস্থ আছে; ভাল আছে। আপনারা তাকে বাসায় নিয়ে যান।

এরপর সুজন পালের দুই ঘণ্টা হাত ধরছি, পাও ধরছি তবুও ভর্তি করায় নাই। তারপর শাশুড়ি বিনা চিকিৎসায় হাসপাতালে মারা গেলে তারা নিজের দোষ ঢাকার জন্য হাসপাতালে ভাঙচুর করে। পরে আমাদেরকে বের করে দিছে।’
রিনা আক্তার আরও বলেন, ‘এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উল্টো আমার স্বামীর নামে হাসপাতালে ভাঙচুরের মামলা দিছে। সেখানে বলা হয়েছে, আমরা নাকি মৃত্যু রোগী হাসপাতালে নিয়ে গেছি। তাহলে আমার প্রশ্ন হল, ওনারা তাহলে কাকে দুই মাসের ওষধ লিখে দিল। কাকে রিপোর্ট করতে দিল।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা মৃত্যুর এই ঘটনায় পর সদর থানায় মামলা করতে গেছিলাম। কিন্তু পুলিশ ১৪ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত আমাদের মামলা নেয়নি। আমার স্বামীর নামে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবি করছি।’

এর আগে, গত ২৪ জুলাই বিনা চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর বিচার ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাটিকামারী গ্রামের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মৃতের পুত্রবধূ রিনা আক্তার।


এই বিভাগের আরো সংবাদ
Translate »
Translate »