ঢাকা ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আমতলী পৌর নির্বাচন ঘিরে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

আগামী ৯ই মার্চ অনুষ্ঠিতব্য বরগুনার আমতলী পৌর নির্বাচনকে ঘিরে চলছে জমজমাট প্রচারনা।

বেলা ২টার পর থেকেই প্রচার মাইকের উচ্চ শব্দে নানা সুরের নির্বাচনী গান বাজিয়ে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় সরগরম থাকে পৌরসভার পাড়া মহল্লার প্রতিটি ওলি-গলি। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে যে যার মত ভোট প্রার্থনা করেছেন প্রার্থীরা। পৌর শহরের হোটেল রেস্তোরাঁ থেকে ছোট ছোট দোকানগুলোর চায়ের আড্ডায় নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কথা বলছেন সাধারণ ভোটাররা, প্রশংসায় গাইছেন নিজ নিজ প্রার্থীর গুণগান।বলতে গেলে নির্বাচনকে ঘিরে বইছে উৎসবের আমেজ।

একদিকে উৎসবের আমেজ চললেও তা যেকোনো সময়ে বিষাদে রুপ নিতে পারে সংঘাত ও সংঘর্ষে। বহিরাগতদের আনাগোনা ও গত কয়েকদিনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারনে এমনটিই মনে করছেন প্রার্থী ও সাধারণ ভোটাররা। উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও বহিরাগতদের দাপটে ভোটারদের শঙ্কিত থাকতে হয় বলে অভিযোগ করেন আমতলী পৌরসভার মেয়র ও মোবাইল প্রতিকের প্রার্থী মতিয়ার রহমান।তিনি বলেন নির্বাচনকে ঘিরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নাজমুল আহসান নান্নু পার্শ্ববর্তী এলাকার বহিরাগতদের জড়ো করছেন।

তিনি আরও বলেন,তফসিল ঘোষণার পরে আমি নিয়মনীতি মেনেই আমি আমার নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। প্রতিক বরাদ্দের পরে শান্তিপূর্ণভাবে আমরা প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছিলাম। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যাঙ্গার প্রতিকের প্রার্থী নাজমুল আহসান খান নান্নু বরগুনা, পার্শ্ববর্তী চাকামাইয়াসহ বিভিন্ন এলাকার বহিরাগত লোকজন এনে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে। তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

অপর প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যাঙ্গার প্রতিকের প্রার্থী সাবেক পৌর মেয়র নাজমুল আহসান খান নান্নু প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আমার ব্যানার হাতে নিয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নিজের লোকজন দিয়ে এসব করায়। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন,মেয়র মতিয়ার রহমান বিভিন্ন ওয়ার্ডের নারীদের নিজ বাসায় জড়ো করে দেদারসে টাকা দিচ্ছেন এ ব্যাপারে তিনিও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সমুহকে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্হা গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানান।

এসব বিষয়ে আমতলী পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল হাই আল হাদী বলেন,বিষয়টি আমরাও শুনেছি, কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাদের লোকজন নিয়ে একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে তাদেরকে আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালাতে বলা হয়েছে। আমতলী পৌরসভা নির্বাচনের মাঠ পর্যবেক্ষণের জন্য তিনজন ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভোট গ্রহনের ৭২ঘন্টা আগে সকল বহিরাগতদের মাইকিং করে নির্বাচনী এলাকা ছাড়তে বলা হবে।

আমতলী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দশজন প্রার্থী অংশ গ্রহণ করলেও বর্তমান মেয়র ও আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মতিয়ার রহমান,সহ-সভাপতি নাজমুল আহসান নান্নু,জিল্লুর রহমান ছাড়া আর কোন প্রার্থীর কোন প্রচারণা চোখে পড়েনি।

অপরদিকে ৯টি ওয়ার্ডে (পুরুষ) ৩৬ জন কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়ে লড়ছেন। নারী কাউন্সিল পদে ০৯ জন প্রার্থী হয়ে লড়ছেন।আগামী ৯ই মার্চ আমতলী পৌর নির্বাচনে ১৫ হাজার ৮ ’শ ৩৯ ভোটার তাদের ভোটের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত করবেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমতলী পৌর নির্বাচন ঘিরে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ

আপডেট সময় ০২:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

আগামী ৯ই মার্চ অনুষ্ঠিতব্য বরগুনার আমতলী পৌর নির্বাচনকে ঘিরে চলছে জমজমাট প্রচারনা।

বেলা ২টার পর থেকেই প্রচার মাইকের উচ্চ শব্দে নানা সুরের নির্বাচনী গান বাজিয়ে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় সরগরম থাকে পৌরসভার পাড়া মহল্লার প্রতিটি ওলি-গলি। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে যে যার মত ভোট প্রার্থনা করেছেন প্রার্থীরা। পৌর শহরের হোটেল রেস্তোরাঁ থেকে ছোট ছোট দোকানগুলোর চায়ের আড্ডায় নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কথা বলছেন সাধারণ ভোটাররা, প্রশংসায় গাইছেন নিজ নিজ প্রার্থীর গুণগান।বলতে গেলে নির্বাচনকে ঘিরে বইছে উৎসবের আমেজ।

একদিকে উৎসবের আমেজ চললেও তা যেকোনো সময়ে বিষাদে রুপ নিতে পারে সংঘাত ও সংঘর্ষে। বহিরাগতদের আনাগোনা ও গত কয়েকদিনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারনে এমনটিই মনে করছেন প্রার্থী ও সাধারণ ভোটাররা। উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও বহিরাগতদের দাপটে ভোটারদের শঙ্কিত থাকতে হয় বলে অভিযোগ করেন আমতলী পৌরসভার মেয়র ও মোবাইল প্রতিকের প্রার্থী মতিয়ার রহমান।তিনি বলেন নির্বাচনকে ঘিরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নাজমুল আহসান নান্নু পার্শ্ববর্তী এলাকার বহিরাগতদের জড়ো করছেন।

তিনি আরও বলেন,তফসিল ঘোষণার পরে আমি নিয়মনীতি মেনেই আমি আমার নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। প্রতিক বরাদ্দের পরে শান্তিপূর্ণভাবে আমরা প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছিলাম। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যাঙ্গার প্রতিকের প্রার্থী নাজমুল আহসান খান নান্নু বরগুনা, পার্শ্ববর্তী চাকামাইয়াসহ বিভিন্ন এলাকার বহিরাগত লোকজন এনে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে। তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

অপর প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যাঙ্গার প্রতিকের প্রার্থী সাবেক পৌর মেয়র নাজমুল আহসান খান নান্নু প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আমার ব্যানার হাতে নিয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নিজের লোকজন দিয়ে এসব করায়। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন,মেয়র মতিয়ার রহমান বিভিন্ন ওয়ার্ডের নারীদের নিজ বাসায় জড়ো করে দেদারসে টাকা দিচ্ছেন এ ব্যাপারে তিনিও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সমুহকে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্হা গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানান।

এসব বিষয়ে আমতলী পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল হাই আল হাদী বলেন,বিষয়টি আমরাও শুনেছি, কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাদের লোকজন নিয়ে একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে তাদেরকে আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালাতে বলা হয়েছে। আমতলী পৌরসভা নির্বাচনের মাঠ পর্যবেক্ষণের জন্য তিনজন ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভোট গ্রহনের ৭২ঘন্টা আগে সকল বহিরাগতদের মাইকিং করে নির্বাচনী এলাকা ছাড়তে বলা হবে।

আমতলী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দশজন প্রার্থী অংশ গ্রহণ করলেও বর্তমান মেয়র ও আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মতিয়ার রহমান,সহ-সভাপতি নাজমুল আহসান নান্নু,জিল্লুর রহমান ছাড়া আর কোন প্রার্থীর কোন প্রচারণা চোখে পড়েনি।

অপরদিকে ৯টি ওয়ার্ডে (পুরুষ) ৩৬ জন কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়ে লড়ছেন। নারী কাউন্সিল পদে ০৯ জন প্রার্থী হয়ে লড়ছেন।আগামী ৯ই মার্চ আমতলী পৌর নির্বাচনে ১৫ হাজার ৮ ’শ ৩৯ ভোটার তাদের ভোটের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত করবেন।