ঢাকা ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১: বিজয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে—রণাঙ্গনে চূড়ান্ত আঘাতের দিন Logo বুড়িচং উপজেলা ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার Logo বিএনপি-জামায়াত নিধন করা ওসি জাবীদ এখন ঝিনাইদহ পিবিআইতে Logo সুদানে সন্ত্রাসী হামলায় শহীদ জাহাঙ্গীর আলম, পিতৃহারা হলো তিন বছরের ইরফান Logo রক্তের কালিতে লেখা ১৪ ডিসেম্বর—শোক ও গৌরবের শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস Logo হাদির উপর গুলির ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন থেকে ফেরার পথে ২ জনকে কুপিয়ে জখম Logo ওসমান হাদির সুস্থতা কামনায় মুরাদনগরে দোয়া মাহফিল Logo রাণীনগরে ৬০০ শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ Logo কালীগঞ্জে অপহরণের ১৬ ঘন্টা পর এক যুবককে উদ্ধার, তিন অপহরণকারী গ্রেফতার Logo শরীফ ওসমান হাদীর ওপর হামলার পর সীমান্তে বিজিবির কড়া নিরাপত্তা

কুমিল্লার দুই সাংবাদিকের ৫ বছরের দুর্বিষহ হয়রানির অবসান

মাহফুজুর রহমান, মুরাদনগর (কুমিল্লা)

কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির পাড়ের আলোচিত ঘটনার সংবাদ প্রকাশের জেরে দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তিন বছর ধরে আইনের জটিলতায় আটকে ছিলেন সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন শিমুল (এশিয়ান টিভি) ও তার সহোদর ভাই ফয়সাল মুবিন পলাশ। অবশেষে ২০২২ সাল থেকে চলমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সম্পূর্ণ খালাস পেয়েছেন তারা।

তারা কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা গ্রামের সাবেক আর্মি অফিসার নজরুল ইসলামের সন্তান।

২০২১ সালের কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সংবাদ প্রকাশের জেরে সিআইডি কুমিল্লা সাংবাদিক শিমুল ও তার ভাই পলাশকে আটক দেখায় এবং তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

অবশেষে দীর্ঘ আইনগত লড়াইয়ের পর আদালত তাদের খালাস ঘোষণা করেন।

মামলা থেকে খালাস পেয়ে সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন শিমুল বলেন, সত্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার কারণে আমাকে ও আমার পরিবারকে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। ১১ মাস অন্যায়ভাবে কারাগারে কাটিয়েছি। অবশেষে ন্যায়বিচার পেয়েছি – এটাই আমাদের বড় সান্ত্বনা।

ফয়সাল মুবিন পলাশ বলেন, এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অভিযোগের কারণে আমাদের জীবনে এক কঠিন সময় নেমে এসেছিল। আজ আদালতের রায়ে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যারা আমাদের পাশে ছিলেন, তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনজীবী এডভোকেট আরিফুর রহমান বলেন, অদ্য আমি সরকার প্রনিত গেজেটের আলোকে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ধারা ৫০ (৪ ক) ধারা মতে ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের কৃত মামলার প্রসিডিংস ড্রপ করার জন্য আবেদন দায়ের করি, তৎপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনাল সন্তুষ্ট হয়ে মামলার প্রসিডিংস ড্রপ করত দুই ভাইকে খালাস প্রদানে করে। এতে করে দীর্ঘ ৫ বছরের অবর্ণনীয় হয়রানির অবসান ঘটে।

উল্লেখ্য: এই মামলার অপর আসামি মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন প্রকাশ গদা ইকবাল এর পক্ষে বিনা ফি তে মামলা পরিচালনা করেন। এবং তিনিও অদ্য খালাস প্রাপ্ত হন।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১: বিজয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে—রণাঙ্গনে চূড়ান্ত আঘাতের দিন

SBN

SBN

কুমিল্লার দুই সাংবাদিকের ৫ বছরের দুর্বিষহ হয়রানির অবসান

আপডেট সময় ০২:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

মাহফুজুর রহমান, মুরাদনগর (কুমিল্লা)

কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির পাড়ের আলোচিত ঘটনার সংবাদ প্রকাশের জেরে দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তিন বছর ধরে আইনের জটিলতায় আটকে ছিলেন সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন শিমুল (এশিয়ান টিভি) ও তার সহোদর ভাই ফয়সাল মুবিন পলাশ। অবশেষে ২০২২ সাল থেকে চলমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সম্পূর্ণ খালাস পেয়েছেন তারা।

তারা কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা গ্রামের সাবেক আর্মি অফিসার নজরুল ইসলামের সন্তান।

২০২১ সালের কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সংবাদ প্রকাশের জেরে সিআইডি কুমিল্লা সাংবাদিক শিমুল ও তার ভাই পলাশকে আটক দেখায় এবং তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

অবশেষে দীর্ঘ আইনগত লড়াইয়ের পর আদালত তাদের খালাস ঘোষণা করেন।

মামলা থেকে খালাস পেয়ে সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন শিমুল বলেন, সত্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার কারণে আমাকে ও আমার পরিবারকে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। ১১ মাস অন্যায়ভাবে কারাগারে কাটিয়েছি। অবশেষে ন্যায়বিচার পেয়েছি – এটাই আমাদের বড় সান্ত্বনা।

ফয়সাল মুবিন পলাশ বলেন, এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অভিযোগের কারণে আমাদের জীবনে এক কঠিন সময় নেমে এসেছিল। আজ আদালতের রায়ে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যারা আমাদের পাশে ছিলেন, তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনজীবী এডভোকেট আরিফুর রহমান বলেন, অদ্য আমি সরকার প্রনিত গেজেটের আলোকে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ধারা ৫০ (৪ ক) ধারা মতে ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের কৃত মামলার প্রসিডিংস ড্রপ করার জন্য আবেদন দায়ের করি, তৎপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনাল সন্তুষ্ট হয়ে মামলার প্রসিডিংস ড্রপ করত দুই ভাইকে খালাস প্রদানে করে। এতে করে দীর্ঘ ৫ বছরের অবর্ণনীয় হয়রানির অবসান ঘটে।

উল্লেখ্য: এই মামলার অপর আসামি মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন প্রকাশ গদা ইকবাল এর পক্ষে বিনা ফি তে মামলা পরিচালনা করেন। এবং তিনিও অদ্য খালাস প্রাপ্ত হন।