বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

কুমিল্লায় শপিং মলগুলোতে উপচে পড়া ভিড়, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

Muktir Lorai / ৫৭ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১

এন.সি জুয়েল, কুমিল্লা প্রতিনিধি: করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট, দোকানপাট, শপিং মলসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু কুমিল্লার নগরী ও বিভিন্ন উপজেলায় দোকানপাট ও শপিং মল ঘুরে দেখা গেছে, কোনও নিময়-বিধির তোয়াক্কা না করে পুরোদমে চলছে ঈদের কেনাকাটা। সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই কোথাও। ছোট-বড় মার্কেট ও শপিং মলগুলোতে দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়।
প্রায় অনেকদিন পর সব দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মার্কেট খুলে দেওয়ার পর পুরনো চেহারায় ফিরেছে কুমিল্লা নগরীর শপিং মল ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা শপিংমল গুলো। করোনার ঝুঁকি আমলে নিচ্ছেন না কেউই।
সোমবার(৪ মে) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,কুমিল্লা নগরীর খন্দকার,সাত্তার খান,টাউনহল,ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজা শপিং মার্কেট,নিউ মার্কেট,ময়নামতি সুপার মার্কেট, মার্কেট, চান্দিনায় বিভিন্ন শপিংমল,হোমনা শপিংমল,বুড়িচং শপিংমল, লাকসাম শপিংমল, লাঙ্গলকোট শপিংমল, বরুড়া শপিংমল, মনোহরগঞ্জ শপিংমল, চৌদ্দগ্রাম শপিংমল,ব্রাহ্মণপাড়া শপিংমল,কুমিল্লা পদুয়ার বাজার শপিংমল,দাউদকান্দি শপিংমল,মানিকারচর শপিংমল, বাতাকান্দি শপিংমল, মাছিমপুর শপিংমল, ইলিয়টগঞ্জ শপিংমল, মুরাদনগর শপিংমল ও মার্কেটসহ বেশিরভাগ মার্কেটে উপচেপড়া ভিড়। শপিং মলের সামনে জীবাণুনাশক টানেল কিংবা বুথ বসানোর কথা থাকলেও সেটা করা হয়নি। নেই হাত ধোয়ার সাবান-পানিও। পরিবার থেকে শিশুদের নিয়ে বাজারে আসতে নিষেধ করা হলেও তা মানছেন না ক্রেতারা। একের অধিক লোকজন একসঙ্গে হুমড়ি খেয়ে মার্কেটে প্রবেশ করছেন।
সবকয়টি শপিং মলে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়নাভারণ এলাকায় দেখা যায়, প্রখর রোদের মধ্যে ২০ কিলোমিটার দূর থেকে নগরীতে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন জেসমিন আক্তার,কুমিল্লা নগরীর সাত্তার ও খন্দকার শপিংমল ও আশেপাশের মার্কেটের দোকানগুলো ঘুরে দেখছেন তিনি। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ইচ্ছা করেই বাচ্চাদের সঙ্গে করে এনেছি। তাদের পছন্দের পোশাক কেনার জন্য। প্রতি বছর রোজার শুরুতে কেনাকাটা করি। তবে সব ধরনের কাপড়ের দাম গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি। করোনার ঝুঁকি জেনেও কেনাকাটা করতে মার্কেটে এসেছি।’
কোরপাই গ্রামের আকলিমা আক্তার বলেন, ‘শুনছি আবার মার্কেট বন্ধ হয়ে যাবে। তাই তাড়াহুড়া করে এসেছি। মাস্ক আনতে মনে ছিল না। একদিনে আর কী হবে?’
কুমিল্লার বুড়িচংয়ের পাঁচকিত্তা গ্রামের মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াচ্ছি। কিন্তু যখন পোশাক দেখছি তখন সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। আমি তখন যাব কোথায়?’
একটি শপিং মলে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় কুমিল্লায় খন্দকার মার্কেটের শাড়ি বিতাণ এর মালিক সমীর বলেন, ‘ঈদবাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। ভিড় এড়াতে মার্কেটে আসা মানুষকে দূরে থাকতে বলেছি। হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিচ্ছি। কিন্তু কে শোনে কার কথা।’
বিক্রেতাদের মুখে মাস্ক পরিধান ছাড়া অন্য কোনও নিয়মের বালাই দেখা যায়নি। দোকানের সামনে নেই শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে ডিসট্যান্স মার্কিং। বিক্রেতারা ব্যস্ত বিক্রি নিয়ে। ক্রেতারা কোথা থেকে আসছেন, নগর নাকি অন্য উপজেলা থেকে তার খোঁজও রাখছে না কেউ। আইডিকার্ড বা পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে বাজারে আসতে বলা হলেও তা দেখার জন্য মার্কেটগুলোতে নেই কোনও ব্যবস্থা।
তবে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের নির্দেশনা মেনে চলতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাম্মৎ সাবিনা ইয়াছমিন বলেন, ‘দেশের স্বার্থে দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শপিং মল সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হয়েছে। আমরা যতক্ষণ থাকছি, ততক্ষণ সবাই আইন মানছেন। চলে এলেই—যে যার মতো খুশি চলছেন।


এই বিভাগের আরো সংবাদ
Translate »
Translate »