ঢাকা ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

খুলনায় লাউয়ের বাম্পার ফলন, সঠিক মূল্য পাচ্ছে না কৃষক

শীতকালীন ফসল লাউ। এই লাউ এখন আর শুধু শীতকালীন ফসল না। এই ফসলটি শীত পরবর্তি বসন্তকালে ও উৎপাদন হয়। খাদ্যের চাহিদা মেটানের পাশাপাশি একটু বেশী মুনাফার জন্য খুলনার রূপসায় এই অসময়ে লাউ চাষ করছেন অনেক কৃষক। বসন্তকালে লাউ চাষ করতে অন্য সময় থেকে বেশী পরিশ্রম করতে হয়। পরিশ্রমের মধ্যে রয়েছে প্রতিদিন গাছের গোড়ায় পানি দিয়ে গাছের গোড়ার মাটিতে রস মজুদ রাখা, সার, কিটনাশক সঠিক সময় দেওয়া এবং নিয়মিত পরিচর্যা করা। পরিশ্রম করলে ফলন ভালো হয়। যে আশা নিয়ে কৃষক লাউ চাষ করেছে, তাদের সে আশা পুরন হচ্ছে না। তারা বাজারে লাউ বিক্রয় করতে গিয়ে সঠিক মূল্য না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

এই ব্যাপারে পাথরঘাটা গ্রামের কৃষক রহমত শেখ বলেন, যখন পদ্মা সেতু হয়নি তখন আমাদের উৎপাদিত ফসল ঢাকায় পৌছাতে অনেক দেরি হত। এই দেরি হওয়ার ফলে অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যেত। এই কারনে ব্যাপারিরা আমাদের সঠিক মূল্য দিত না। পদ্মা সেতু হওয়ার ফলে এখন আর ফসল গাড়িতে নষ্ট হয় না। ব্যাপারিদের কাছ থেকে ফসলের সঠিক মুল্য পাওয়ার কারনে, আমি আমার মাছের ঘেরে মাছ চাষের পাশাপাশি অসময়ে লাউ চাষ করেছি। আমার ১০০ টার মত লাউয়ের সোপ আছে। প্রতিদিন গাছ পরিচর্যা করে আশানুরুপ ফলন পাচ্ছি। কিন্তু বর্তমানে লাউ এর সঠিক মূল্য পাচ্ছি না। যে লাউটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বিক্রয় হওয়ার কথা ছিলো, সেই লাউটার মুল্য পাচ্ছি ১৫ থেকে ১৮ টাকা, যা উৎপাদন খরচ এবং শ্রমের সাথে সামঞ্জস্য নেই। যেহেতু এখন বৃষ্টি হয় না, সেই কারনে, প্রতিদিন গাছের গোড়ায় পানি দিতে হয়। সার ও কীটনাশক ছড়াতে হয়। বর্তমানে বাজারে সকল কিছুরই মূল্য দিগুন হয়ে গিয়েছে। শুধুমাত্র কৃষকের উৎপাদিত কৃষি ফসল ছাড়া। কৃষি ফসলের মূল্য কম থাকার কারনে পরিশ্রম বাদ দিলাম,খরচের টাকা টাই উঠছে না। আমি এনজিয় থেকে লোন নিয়ে কৃষি খামার করে থাকি। খরচের টাকা না ওঠার কারনে কিভাবে এনজিওর লোনের টাকা পরিশোধ করবো এই চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না। যদি সঠিক মূল্য পেতাম তাহলে এনজিওর টাকা পরিষোধের পরেও জীবন যাত্রা সহজ হত। কৃষক সমাজের দাবী সকল পন্যের মত কৃষি পন্যের দাম যদি বেশী পেতাম তাহলে লোনের টাকা পরিশোধ করে নিজ পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকতে পারতাম।
কৃষক সারা বছর কৃষি কাজ করে অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রতিদানে ঘরে তোলে নতুন ফসল। এই ফসল উৎপাদন করতে গিয়ে কৃষক কে নানা প্রতিকুলতার মধ্যে পড়তে হয়। সেই প্রতিকুলতা কাটিয়ে নতুন ফসল উঠলে তাদের মনে আনন্দের সীমা থাকে না। তাদের নিজেদের খাদ্যের চাহিদা পুরনের পাশাপাশি সারা দেশের মানুষের চাহিদা পুরন করতে হয়। এরা বুকে আশা নিয়ে দিনরাত নিরলাস পরিশ্রম করে ফসল ফলায়। পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে শান্তিতে কোন রকম বেঁচে থাকার আশায়। তারা ফসল উৎপাদনের পরে ফসলের সঠিক মূল্য না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়ে। কৃষক কে কৃষি ফসল উৎপাদন করতে বিভিন্ন সমিতি থেকে লোক তুলতে হয়। লোন তুলে সার, বিজ, ঔষধ এবং অন্যান্য খরচ করতে হয়। সঠিক মূল্য না পাওয়ার কারনে লোন পরিষোধ করতেই হিমসিম খেতে হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় লাউয়ের বাম্পার ফলন, সঠিক মূল্য পাচ্ছে না কৃষক

আপডেট সময় ০৬:৫৮:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মার্চ ২০২৩

শীতকালীন ফসল লাউ। এই লাউ এখন আর শুধু শীতকালীন ফসল না। এই ফসলটি শীত পরবর্তি বসন্তকালে ও উৎপাদন হয়। খাদ্যের চাহিদা মেটানের পাশাপাশি একটু বেশী মুনাফার জন্য খুলনার রূপসায় এই অসময়ে লাউ চাষ করছেন অনেক কৃষক। বসন্তকালে লাউ চাষ করতে অন্য সময় থেকে বেশী পরিশ্রম করতে হয়। পরিশ্রমের মধ্যে রয়েছে প্রতিদিন গাছের গোড়ায় পানি দিয়ে গাছের গোড়ার মাটিতে রস মজুদ রাখা, সার, কিটনাশক সঠিক সময় দেওয়া এবং নিয়মিত পরিচর্যা করা। পরিশ্রম করলে ফলন ভালো হয়। যে আশা নিয়ে কৃষক লাউ চাষ করেছে, তাদের সে আশা পুরন হচ্ছে না। তারা বাজারে লাউ বিক্রয় করতে গিয়ে সঠিক মূল্য না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

এই ব্যাপারে পাথরঘাটা গ্রামের কৃষক রহমত শেখ বলেন, যখন পদ্মা সেতু হয়নি তখন আমাদের উৎপাদিত ফসল ঢাকায় পৌছাতে অনেক দেরি হত। এই দেরি হওয়ার ফলে অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যেত। এই কারনে ব্যাপারিরা আমাদের সঠিক মূল্য দিত না। পদ্মা সেতু হওয়ার ফলে এখন আর ফসল গাড়িতে নষ্ট হয় না। ব্যাপারিদের কাছ থেকে ফসলের সঠিক মুল্য পাওয়ার কারনে, আমি আমার মাছের ঘেরে মাছ চাষের পাশাপাশি অসময়ে লাউ চাষ করেছি। আমার ১০০ টার মত লাউয়ের সোপ আছে। প্রতিদিন গাছ পরিচর্যা করে আশানুরুপ ফলন পাচ্ছি। কিন্তু বর্তমানে লাউ এর সঠিক মূল্য পাচ্ছি না। যে লাউটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বিক্রয় হওয়ার কথা ছিলো, সেই লাউটার মুল্য পাচ্ছি ১৫ থেকে ১৮ টাকা, যা উৎপাদন খরচ এবং শ্রমের সাথে সামঞ্জস্য নেই। যেহেতু এখন বৃষ্টি হয় না, সেই কারনে, প্রতিদিন গাছের গোড়ায় পানি দিতে হয়। সার ও কীটনাশক ছড়াতে হয়। বর্তমানে বাজারে সকল কিছুরই মূল্য দিগুন হয়ে গিয়েছে। শুধুমাত্র কৃষকের উৎপাদিত কৃষি ফসল ছাড়া। কৃষি ফসলের মূল্য কম থাকার কারনে পরিশ্রম বাদ দিলাম,খরচের টাকা টাই উঠছে না। আমি এনজিয় থেকে লোন নিয়ে কৃষি খামার করে থাকি। খরচের টাকা না ওঠার কারনে কিভাবে এনজিওর লোনের টাকা পরিশোধ করবো এই চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না। যদি সঠিক মূল্য পেতাম তাহলে এনজিওর টাকা পরিষোধের পরেও জীবন যাত্রা সহজ হত। কৃষক সমাজের দাবী সকল পন্যের মত কৃষি পন্যের দাম যদি বেশী পেতাম তাহলে লোনের টাকা পরিশোধ করে নিজ পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকতে পারতাম।
কৃষক সারা বছর কৃষি কাজ করে অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রতিদানে ঘরে তোলে নতুন ফসল। এই ফসল উৎপাদন করতে গিয়ে কৃষক কে নানা প্রতিকুলতার মধ্যে পড়তে হয়। সেই প্রতিকুলতা কাটিয়ে নতুন ফসল উঠলে তাদের মনে আনন্দের সীমা থাকে না। তাদের নিজেদের খাদ্যের চাহিদা পুরনের পাশাপাশি সারা দেশের মানুষের চাহিদা পুরন করতে হয়। এরা বুকে আশা নিয়ে দিনরাত নিরলাস পরিশ্রম করে ফসল ফলায়। পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে শান্তিতে কোন রকম বেঁচে থাকার আশায়। তারা ফসল উৎপাদনের পরে ফসলের সঠিক মূল্য না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়ে। কৃষক কে কৃষি ফসল উৎপাদন করতে বিভিন্ন সমিতি থেকে লোক তুলতে হয়। লোন তুলে সার, বিজ, ঔষধ এবং অন্যান্য খরচ করতে হয়। সঠিক মূল্য না পাওয়ার কারনে লোন পরিষোধ করতেই হিমসিম খেতে হয়।