• শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

চুয়াডাঙ্গায় করোনা শনাক্ত ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি

news / ৬৭ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় শনিবার, ১৯ জুন, ২০২১

এ.এইচ কামরুল (চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি): পরিস্থিতি খারাপের দিকেই যাচ্ছে। সংক্রমণ বাড়া মানেই পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাওয়া। ধীরে ধীরে বাড়লেও রোগীর সংখ্যা যদি বেশী হয়, ক্ষতিটা সমানই হয়। শনাক্তের সংখ্যা বাড়লে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে। আসন্ন কোরবানীর ঈদের আগেই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ঈদের পর করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলাসহ গ্রামাঞ্চলে করোনায় শনাক্ত ও মৃত্যুর হার দুটোই বেড়েছে। বিশেষ করে ভারত সীমান্তবর্তী দামুড়হুদা উপজেলায় তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ১৫ জুন থেকে সেখানে টানা ১৪ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
এদিকে জীবননগর সীমান্ত দিয়ে হঠাৎ করেই ভারত থেকে অবৈধপথে বাংলাদেশীদের অনুপ্রবেশের ঘটনা করোনার সংক্রমণ নিয়ে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকার ও পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম ১৭ জুন বৃহস্পতিবার জীবননগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, বিজিবি, জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য বিভাগীয় স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। করোনা প্রতিরোধে দায়িত্ব পালনকারী সবাইকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে মামলা করতে হবে। কারাগারে পাঠানোর আগে তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখতে হবে। আজ থেকে ওই উপজেলায় সন্ধ্যা সাতটার পর সব দোকানপাট বন্ধ রাখতে হবে। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের আইসোলেশনে থাকতে হবে। হোম কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশনে থাকাকালীন কেউ ঘোরাঘুরির চেষ্টা করলে তাঁদের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে পাঠানো হবে।
এদিকে ১৯ জুন শনিবার চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কোভিড ১৯ করণীয় সম্পর্কিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভার আলোচোকরা সকলের সীদ্ধান্ত অনুয়ায়ী চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকা ও আলুকদিয়া ইউনিয়নে ২০ জুন রেবাবার সকাল ৬টা থেকে আগামী ৭ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চুয়াডাঙ্গায় বিগত দিনের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে আবারও একদিনে শনাক্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন করে ৭৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৩৫ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলার ৪ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ৩৫ এবং জীবননগর উপজেলার ২ জন বাসীন্দা। আক্রান্তের হার ৩৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২ হাজার ৫শ’ ২৩ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছে ৭৭ জন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে মোট আক্রান্ত আছে ৫০৮ জন। যার মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছে ৪৪ জন ও হোম আইসোলেশনে আছে ৪৬০ জন এবং রেফার আছে ৪ জন।
তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত বছর জুন মাসে করোনার প্রথম ঢেউ চলার সময় জেলায় ১ হাজার ৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১২৫ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ওই মাসে মারা যায় একজন। সেখানে দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর চলতি জুন মাসের অর্ধেক সময়ে অর্থাৎ প্রথম ১৬ দিনে জেলার ৪টি উপজেলায় ১ হাজার ২৫১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪১৮ জনকে করোনা পজিটিভ বলে শনাক্ত করা হয়। এই ১৬ দিনে করোনায় মারা গেছেন ৬ জন। এ ছাড়া করোনার উপসর্গ নিয়ে গতকাল বুধবার মারা গেছেন আরও চারজন।
গত বছরের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত সর্বাধিক আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ছিল যথাক্রমে আগষ্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে। আগস্ট মাসে জেলার চারটি উপজেলায় ১ হাজার ৬৪০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬৩৯ জনকে করোনা পজিটিভ বলে শনাক্ত করা হয়। সেপ্টেম্বরে সারা জেলায় ১৯ জন করোনা রোগী মারা যান। এরপর গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এই সাত মাসে জেলায় করোনায় মোট মারা যান ২৪ জন। মে মাসে করোনা শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ হলেও এ মাসে ১২ জন মারা যান। তবে, জুন মাসে করোনা স্বরূপে হাজির হওয়ায় শনাক্ত ও মৃত্যুর হার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে স্বাস্থ্য বিভাগসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।
চুয়াডাঙ্গায় সদর হাসপাতালের ১৫০ শয্যার সম্প্রসারিত ভবন শুরু থেকেই করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এই ডেডিকেটেড হাসপাতালে ১৯৫ শয্যার পাশাপাশি জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪টি কেবিন ও ১৫টি সাধারণ শয্যা, দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২টি কেবিন ও ১৩টি সাধারণ শয্যা এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭টি শয্যা চালু আছে। কিন্তু, জনবলসংকটে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের হোম আইসোলেশনে উৎসাহিত করছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, জেলায় বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫০৮জন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা (রোগনিয়ন্ত্রণ) আওলিয়ার রহমান জানান, কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের পাশাপাশি টিকা দেওয়ার বিষয়ে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীনের তৈরী ৪ হাজার ৮০০ ডোজ টিকা পাওয়া গেছে।


এই বিভাগের আরো সংবাদ