ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বিগত দশ বছরে, চীনের নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর অনেক উন্নতি হয়েছে Logo দৈনিক মুক্তির লড়াই পত্রিকার চতুর্থ বর্ষে পদার্পন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo ক্ষুদ্রচাকশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত Logo বরগুনা প্রেসক্লাবে হামলার ঘটনায় মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ Logo সরাইলে নদীর মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়, হুমকির মুখে ফসলি জমি Logo চীন বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক উন্নয়ন বাড়াতে চায়;চীনা বাণিজ্য মন্ত্রী Logo চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালকে ‘ভোগ বৃদ্ধির বছর’ হিসাবে মনোনীত করে Logo শাজাহান শিকদার সম্পাদনিত ‘সম্মিলিত কবিতার বই-৪’ এর মোড়ক উম্মোচন Logo নওগাঁয় ৭২ কেজি গাঁজাসহ মাদক এক ব্যবসায়ী আটক Logo ফুলবাড়ীতে কুকুরের কামড়ে ৮টি ছাগলের মৃত্যু

ঢাকায় কমেছে সবুজ-জলাশয়, বেড়েছে ইট-পাথরের জঞ্জাল

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জুন ২০২৩
  • ১২৭ বার পড়া হয়েছে

# জলাশয় কমেছে ৮৫ শতাংশ
# সবুজ এলাকা কমেছে ৪৩ শতাংশ
# নির্মাণ এলাকা বেড়েছে ৭৫ শতাংশ

সুপরিকল্পিত উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জলাধার ও সবুজ অঞ্চল সংরক্ষণই প্রাণের শহর ঢাকাকে বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র উপায়। যদিও একটি গোষ্ঠী শহরের জলাধার ভরাট ও সবুজ নিধনে তৎপর। কখনো পেশী শক্তি কিংবা রাষ্ট্রীয় শক্তিকে কাজে লাগিয়ে খাল-নালা-জলাশয় ও নিম্নভূমি দখল এবং ভরাট করে চলছে। কিংবা সবুজ এলাকা নষ্ট করে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ, বনায়ন না করাসহ বহুবিধ কারণ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ মহল বলছেন, প্রজন্মের সুস্থতা ও বিকাশে পার্ক-খেলার মাঠ তৈরি করা প্রয়োজন। জলাশয় ও নদীর যথাযথ প্রবাহ ও সীমানা নির্ধারণ নিশ্চিত করাও আবশ্যিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য জলাধার ও সবুজ এলাকা সংরক্ষণে প্রণীত সকল আইনের সফল বাস্তবায়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ঢাকার জলাধার ও সবুজ নিধন সমস্যা দূর করা সম্ভব।

pukurবাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) গবেষণা বলছে, ঢাকা বসবাসযোগ্যতার তালিকায় নিচের দিক থেকে সপ্তম স্থানে, যা নগরীর সকলের জন্য হুমকিস্বরূপ। গত ২৮ বছরে নগরীর সবুজ এলাকা ও জলাধারের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকার সবুজ এলাকা ২০২৩ সালে ৭.০৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ১৯৯৫ সালে প্রায় ১৩.৪৫ শতাংশ ছিল। জলাধার ২০.৫৮ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ২.৯১ শতাংশে। যেখানে একটি শহরের জন্য আদর্শ সবুজ এলাকার পরিমাণ হলো ১৫ শতাংশ ও জলাধার ১০-১২ শতাংশ।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, সচেতনতার অভাবেই শহরের সবুজ নিধন ও জলাধার ভরাট হয়ে যাচ্ছে। আইনি কাঠামোর দুর্বলতা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ ও ক্ষমতার অপব্যবহারও এর অন্যতম কারণ। এমন ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে সিএস (CS) ও আরএস (RS) অনুসারে সকল জলাশয়ের সঠিক বাউন্ডারি ডিমারকেশন নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। জলাধারের স্বাভাবিক প্রবাহ অব্যাহত রাখার স্বার্থে সীমানার অন্তর্ভুক্ত সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ প্রয়োজন। জলাধার সংলগ্ন জায়গাগুলোতে পাবলিক স্পেস তৈরি করাসহ ড্যাপে উল্লেখিত ‘ট্রান্সফার অব ডেভেলপমেন্ট রাইটস’ ও ‘নগর জীবনরেখা’র যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। রিভার মাস্টার প্ল্যান ও সবুজ ভূমি রক্ষার্থে যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। সেই সাথে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা-২০৪১ অনুযায়ী সুষম নগরায়নের বাস্তবায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়ন করতে হবে।

পূর্বাচলের পরিকল্পনার ৪নং সংশোধিত পরিকল্পনায় যে ১৯ শতাংশ বনভূমি সংরক্ষণের কথা বলেছে, তা পর্যায়ক্রমে রাতের আধারে ধীরে ধীরে পুড়িয়ে উজাড় করা হয়েছে। কোথাও কোথাও রাজউক দায়িত্ব নিয়ে ভরাট করছে। একটি মানুষের টেকসই জীবনযাত্রার জন্য শুধুমাত্র বসবাসের স্থানই যথেষ্ট নয় বরং জলাভূমি ও সবুজ ভূমিরও প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে ঢাকার এতো জনসংখ্যা ধারণের ক্ষমতা নেই।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, প্রধান নির্বাহী, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা)
বুয়েটের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইশরাত ইসলাম বলেন, সবুজ ভূমি এবং জলাভূমির সঠিক সঙ্গায়ন প্রয়োজন। কারণ ছাদবাগানের জন্য স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে সবুজায়নের পরিমাণ বেশি পাওয়া যায় কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকা। অপরদিকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জলাধার ভরাট করে উন্নয়ন করার জন্য রাজউক থেকে অনুমোদন নেয়া হয়, কিন্তু এখানে উল্লেখ্য যে, রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং কখনো জলাধার ভরাটের সমাধান হতে পারেনা।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.) বলেন, ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করার জন্য ড্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব শুধু রাজউকের নয় বরং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের। জলাধার শুধু ভরাট নয়, দূষিতও হচ্ছে যা অনতিবিলম্বে রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এছাড়াও ভবন নির্মাণে প্লটের ১০ শতাংশ সবুজায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

dhakaবাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, পূর্বাচলের পরিকল্পনার ৪নং সংশোধিত পরিকল্পনায় যে ১৯ শতাংশ বনভূমি সংরক্ষণের কথা বলেছে, তা পর্যায়ক্রমে রাতের আধারে ধীরে ধীরে পুড়িয়ে উজাড় করা হয়েছে। কোথাও কোথাও রাজউক দায়িত্ব নিয়ে ভরাট করছে। একটি মানুষের টেকসই জীবনযাত্রার জন্য শুধুমাত্র বসবাসের স্থানই যথেষ্ট নয় বরং জলাভূমি ও সবুজ ভূমিরও প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে ঢাকার এতো জনসংখ্যা ধারণের ক্ষমতা নেই।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, সঠিক পরিকল্পনায় ব্যর্থতা আমাদের ভবিষ্যতকে ব্যর্থতার দিকে ধাবিত করে। বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে স্পষ্টত জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের কথা বলা আছে। তাই সর্বপ্রথম আমাদের দেশের বাস্তবতার আলোকে জলাধার, সবুজ এলাকাসহ নগর পরিকল্পনা ও পরিবেশগত সকল নির্দেশকের মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে। জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, তথা জলাধার ও সবুজ এলাকার সংরক্ষণ ও পরিচর্যার উদ্দেশ্যে সকলকে কাজ করতে হবে।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

বিগত দশ বছরে, চীনের নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর অনেক উন্নতি হয়েছে

ঢাকায় কমেছে সবুজ-জলাশয়, বেড়েছে ইট-পাথরের জঞ্জাল

আপডেট সময় ০৬:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জুন ২০২৩

# জলাশয় কমেছে ৮৫ শতাংশ
# সবুজ এলাকা কমেছে ৪৩ শতাংশ
# নির্মাণ এলাকা বেড়েছে ৭৫ শতাংশ

সুপরিকল্পিত উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জলাধার ও সবুজ অঞ্চল সংরক্ষণই প্রাণের শহর ঢাকাকে বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র উপায়। যদিও একটি গোষ্ঠী শহরের জলাধার ভরাট ও সবুজ নিধনে তৎপর। কখনো পেশী শক্তি কিংবা রাষ্ট্রীয় শক্তিকে কাজে লাগিয়ে খাল-নালা-জলাশয় ও নিম্নভূমি দখল এবং ভরাট করে চলছে। কিংবা সবুজ এলাকা নষ্ট করে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ, বনায়ন না করাসহ বহুবিধ কারণ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ মহল বলছেন, প্রজন্মের সুস্থতা ও বিকাশে পার্ক-খেলার মাঠ তৈরি করা প্রয়োজন। জলাশয় ও নদীর যথাযথ প্রবাহ ও সীমানা নির্ধারণ নিশ্চিত করাও আবশ্যিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য জলাধার ও সবুজ এলাকা সংরক্ষণে প্রণীত সকল আইনের সফল বাস্তবায়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ঢাকার জলাধার ও সবুজ নিধন সমস্যা দূর করা সম্ভব।

pukurবাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) গবেষণা বলছে, ঢাকা বসবাসযোগ্যতার তালিকায় নিচের দিক থেকে সপ্তম স্থানে, যা নগরীর সকলের জন্য হুমকিস্বরূপ। গত ২৮ বছরে নগরীর সবুজ এলাকা ও জলাধারের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকার সবুজ এলাকা ২০২৩ সালে ৭.০৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ১৯৯৫ সালে প্রায় ১৩.৪৫ শতাংশ ছিল। জলাধার ২০.৫৮ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ২.৯১ শতাংশে। যেখানে একটি শহরের জন্য আদর্শ সবুজ এলাকার পরিমাণ হলো ১৫ শতাংশ ও জলাধার ১০-১২ শতাংশ।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, সচেতনতার অভাবেই শহরের সবুজ নিধন ও জলাধার ভরাট হয়ে যাচ্ছে। আইনি কাঠামোর দুর্বলতা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ ও ক্ষমতার অপব্যবহারও এর অন্যতম কারণ। এমন ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে সিএস (CS) ও আরএস (RS) অনুসারে সকল জলাশয়ের সঠিক বাউন্ডারি ডিমারকেশন নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। জলাধারের স্বাভাবিক প্রবাহ অব্যাহত রাখার স্বার্থে সীমানার অন্তর্ভুক্ত সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ প্রয়োজন। জলাধার সংলগ্ন জায়গাগুলোতে পাবলিক স্পেস তৈরি করাসহ ড্যাপে উল্লেখিত ‘ট্রান্সফার অব ডেভেলপমেন্ট রাইটস’ ও ‘নগর জীবনরেখা’র যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। রিভার মাস্টার প্ল্যান ও সবুজ ভূমি রক্ষার্থে যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। সেই সাথে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা-২০৪১ অনুযায়ী সুষম নগরায়নের বাস্তবায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়ন করতে হবে।

পূর্বাচলের পরিকল্পনার ৪নং সংশোধিত পরিকল্পনায় যে ১৯ শতাংশ বনভূমি সংরক্ষণের কথা বলেছে, তা পর্যায়ক্রমে রাতের আধারে ধীরে ধীরে পুড়িয়ে উজাড় করা হয়েছে। কোথাও কোথাও রাজউক দায়িত্ব নিয়ে ভরাট করছে। একটি মানুষের টেকসই জীবনযাত্রার জন্য শুধুমাত্র বসবাসের স্থানই যথেষ্ট নয় বরং জলাভূমি ও সবুজ ভূমিরও প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে ঢাকার এতো জনসংখ্যা ধারণের ক্ষমতা নেই।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, প্রধান নির্বাহী, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা)
বুয়েটের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইশরাত ইসলাম বলেন, সবুজ ভূমি এবং জলাভূমির সঠিক সঙ্গায়ন প্রয়োজন। কারণ ছাদবাগানের জন্য স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে সবুজায়নের পরিমাণ বেশি পাওয়া যায় কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকা। অপরদিকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জলাধার ভরাট করে উন্নয়ন করার জন্য রাজউক থেকে অনুমোদন নেয়া হয়, কিন্তু এখানে উল্লেখ্য যে, রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং কখনো জলাধার ভরাটের সমাধান হতে পারেনা।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.) বলেন, ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করার জন্য ড্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব শুধু রাজউকের নয় বরং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের। জলাধার শুধু ভরাট নয়, দূষিতও হচ্ছে যা অনতিবিলম্বে রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এছাড়াও ভবন নির্মাণে প্লটের ১০ শতাংশ সবুজায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

dhakaবাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, পূর্বাচলের পরিকল্পনার ৪নং সংশোধিত পরিকল্পনায় যে ১৯ শতাংশ বনভূমি সংরক্ষণের কথা বলেছে, তা পর্যায়ক্রমে রাতের আধারে ধীরে ধীরে পুড়িয়ে উজাড় করা হয়েছে। কোথাও কোথাও রাজউক দায়িত্ব নিয়ে ভরাট করছে। একটি মানুষের টেকসই জীবনযাত্রার জন্য শুধুমাত্র বসবাসের স্থানই যথেষ্ট নয় বরং জলাভূমি ও সবুজ ভূমিরও প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে ঢাকার এতো জনসংখ্যা ধারণের ক্ষমতা নেই।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, সঠিক পরিকল্পনায় ব্যর্থতা আমাদের ভবিষ্যতকে ব্যর্থতার দিকে ধাবিত করে। বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে স্পষ্টত জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের কথা বলা আছে। তাই সর্বপ্রথম আমাদের দেশের বাস্তবতার আলোকে জলাধার, সবুজ এলাকাসহ নগর পরিকল্পনা ও পরিবেশগত সকল নির্দেশকের মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে। জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, তথা জলাধার ও সবুজ এলাকার সংরক্ষণ ও পরিচর্যার উদ্দেশ্যে সকলকে কাজ করতে হবে।