ঢাকা ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তাঁতে স্বপ্ন বুনছেন উদ্যোক্তা শহীদুল্লাহ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার গজেরকুটি গ্রামে ক্ষুদ্র তাঁত শিল্প স্থাপন করে কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন শহীদুল্লাহ নামের এক যুবক। তাঁত বসিয়ে গামছা তৈরি করছেন তিনি। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে পাইকারি অ্যাজেন্টের মাধ্যমে বিক্রি করছেন দেশের বিভিন্ন বিক্রয় কেন্দ্রে।

ফুলবাড়ীতে তাঁত শিল্পের প্রচলন না থাকায় শহিদুল্লাহর তাঁত শিল্প এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ আসছে তার তাঁত মেশিন দেখতে।

শহিদুল্লাহ ওই গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, ছোটবেলা থেকে তাঁত শিল্পের প্রতি একটা ঝোঁক ছিল শহিদুল্লাহর। এসএসসি পাস করার পর ২০০৫ সালে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নীলফামারী, শাহজাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তাঁতের কারিগর হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। বেতন কম, সংসার চলছিল না ঠিকমতো। বাধ্য হয়ে তাঁতের কাজ ছেড়ে গ্রামে ফিরে শুরু করেন চাষাবাদ। তাতেও ব্যর্থ হন তিনি। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে আবার ফিরে যান শাহজাদপুরের তাঁত পল্লীতে। নিজের জমানো টাকায় দুটি তাঁত মেশিন কিনে স্থাপন করনে বাড়ির আঙ্গিনার পাশে রাস্তার ধারে পরিত্যক্ত জমিতে। একজন দক্ষ শ্রমিক, নিজে ও তার স্ত্রী মিলে শুরু করেন গামছা তৈরির কাজ। এখন গামছা বিক্রি করে ছয় সদস্যের পরিবার ভালোই চলছে তার।

ফুলবাড়ী বাজারের কাপড় ব্যবসায়ীরা জানায়, শহিদুল্লাহর তাঁতের গামছার গুণগত মান ভালো। তাই বাজারে তার তৈরি গামছার চাহিদা রয়েছে।

শহিদুল্লাহ জানান, ‘এই মেশিন দিয়ে পাঞ্জাবি, কোটা শাড়ি, ওড়না, থ্রি-পিস, ফতুয়া, শাড়ি ও প্যান্ট পিস বানানো সম্ভব। কিন্তু পুঁজির অভাবে সেগুলো বানানো সম্ভব হচ্ছে না। অল্প পুঁজিতে মাত্র দুটি মেশিন দিয়ে শুধু গামছা বানাচ্ছি। সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে মেশিন ও শ্রমিক বাড়িয়ে খাদি গামছা, লুঙ্গি, ধুতি ছাড়াও বিভিন্ন ডিজাইনের কাপড় তৈরি করতে পারব। এতে নতুন কর্মসংস্থান হবে, বেকারত্ব দূর হবে।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাছেন আলী বলেন, ‘এই এলাকায় এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। এতে ফুলবাড়ীবাসী উপকৃত হবে। শহীদুল্লাহকে সবধরনের সহায়তা দেয়া হবে।’

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তাঁতে স্বপ্ন বুনছেন উদ্যোক্তা শহীদুল্লাহ

আপডেট সময় ০৭:০২:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল ২০২৩

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার গজেরকুটি গ্রামে ক্ষুদ্র তাঁত শিল্প স্থাপন করে কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন শহীদুল্লাহ নামের এক যুবক। তাঁত বসিয়ে গামছা তৈরি করছেন তিনি। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে পাইকারি অ্যাজেন্টের মাধ্যমে বিক্রি করছেন দেশের বিভিন্ন বিক্রয় কেন্দ্রে।

ফুলবাড়ীতে তাঁত শিল্পের প্রচলন না থাকায় শহিদুল্লাহর তাঁত শিল্প এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ আসছে তার তাঁত মেশিন দেখতে।

শহিদুল্লাহ ওই গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, ছোটবেলা থেকে তাঁত শিল্পের প্রতি একটা ঝোঁক ছিল শহিদুল্লাহর। এসএসসি পাস করার পর ২০০৫ সালে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নীলফামারী, শাহজাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তাঁতের কারিগর হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। বেতন কম, সংসার চলছিল না ঠিকমতো। বাধ্য হয়ে তাঁতের কাজ ছেড়ে গ্রামে ফিরে শুরু করেন চাষাবাদ। তাতেও ব্যর্থ হন তিনি। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে আবার ফিরে যান শাহজাদপুরের তাঁত পল্লীতে। নিজের জমানো টাকায় দুটি তাঁত মেশিন কিনে স্থাপন করনে বাড়ির আঙ্গিনার পাশে রাস্তার ধারে পরিত্যক্ত জমিতে। একজন দক্ষ শ্রমিক, নিজে ও তার স্ত্রী মিলে শুরু করেন গামছা তৈরির কাজ। এখন গামছা বিক্রি করে ছয় সদস্যের পরিবার ভালোই চলছে তার।

ফুলবাড়ী বাজারের কাপড় ব্যবসায়ীরা জানায়, শহিদুল্লাহর তাঁতের গামছার গুণগত মান ভালো। তাই বাজারে তার তৈরি গামছার চাহিদা রয়েছে।

শহিদুল্লাহ জানান, ‘এই মেশিন দিয়ে পাঞ্জাবি, কোটা শাড়ি, ওড়না, থ্রি-পিস, ফতুয়া, শাড়ি ও প্যান্ট পিস বানানো সম্ভব। কিন্তু পুঁজির অভাবে সেগুলো বানানো সম্ভব হচ্ছে না। অল্প পুঁজিতে মাত্র দুটি মেশিন দিয়ে শুধু গামছা বানাচ্ছি। সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে মেশিন ও শ্রমিক বাড়িয়ে খাদি গামছা, লুঙ্গি, ধুতি ছাড়াও বিভিন্ন ডিজাইনের কাপড় তৈরি করতে পারব। এতে নতুন কর্মসংস্থান হবে, বেকারত্ব দূর হবে।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাছেন আলী বলেন, ‘এই এলাকায় এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। এতে ফুলবাড়ীবাসী উপকৃত হবে। শহীদুল্লাহকে সবধরনের সহায়তা দেয়া হবে।’