বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

তারাবিতে কুরআন খতম উত্তম ইবাদত

Muktir Lorai / ৬৮ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার, ১ এপ্রিল, ২০২২

মমিনুল ইসলাম মোল্লাাঃ

তারাবি শব্দের অর্থ বিশ্রাম করা। কেউ কেউ বলেন-প্রতি চার রাকাতের পর যেহেতু বিশ্রাম করা হয় এবং একটি দোয়া (সুবহানাজিল মুলকি ওয়াল মালাকুৃতি———) পড়া হয় সেজন্য এর নাম হয়েছে তারাবি।

আমাদের নবীজী তারাবির নামাজ জামায়াতের সাথে আদায় করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে তিনি তা নিয়মিত পড়েন নি। এব্যাপারে তিনি মুসল­ীদের উদ্দেশ্যে বলেন-তারাবির সালাতে মসজিদে তোমরা একত্রিত হয়ে আমার জন্য যেভাবে অপেক্ষা করছিলে তা সবই আমি দেখেছি, কিন্তু আমার ভয় হচ্ছিল আমি নিয়মিত এ সালাত আদায় করলে তা তোমাদের জন্য ফরজ হয়ে যেতে পারে। সে কারণে আমি সে সালাতের জন্য বের হইনি (বোখারি ও মুসলিম) । তারাবি শুরু র ব্যাপারে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রাসঙ্গিকতা উলে­খযোগ্য হলেও কেউ কেউ আবার এব্যাপারে হযরত ওমর (রাঃ) এর বিশেষ ভূমিকার কথা বলেন। তাদের মতে তরাবি শুরু হয় হিজরি ১৪ সালে।

জানা যায়-রমজান মাসের কোন এক রাতে হযরত ওমর (রাঃ) মসজিদে নববীতে গিয়ে দেখলেন অতিরিক্ত সোয়াবের আশায় মুসল­ীগণ বিক্ষিপ্তভাবে নামাজ আদায় করছে। তার কাছে এটি ভাল লাগলোনা। তিনি সবাইকে সাড়িবদ্বভাবে দাড়িয়ে ওবায় ইবনে কাবকে ইমাম নিযুক্ত করে দিয়ে চলে এলেন। এভাবেই তারাবির শুরু।

তারাবির নামাজ আমরা কত রাকাত পড়ব? তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ৮ রাকাত থেকে শুরু করে ৩৬ রাকাত পর্যন্ত তারাবি পড়া যায়। এব্যাপারে প্রত্যোকেই নিজ নিজ পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

মালকেী মাযহাবের ইমাম মালেক (রহঃ) বলেছেন-একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে লোকেরা ৩৬ রাকাত তারাবি পড়েছেন। তবে মুসান্নাতে আঃ রাজ্জাক হতে বর্ণিত (৭৭৩০নং হাদিস) ওমর (রাঃ) উবাই ইবনে কাব ও তামীম আদদারীকে ইমামতিতে লোকদেরকে একুশ রাকাত সালাতের প্রতি জামায়াতবদ্ব করেছিলেন (২০ রাকাত তারাবি ও ১ রাকাত বিতর)।

বাংলাদেশের প্রায় ৪ কোটি লোক ৮ রাকাত তারাবি নামাজে বিশ্বাসী। তাদের মতে হযরত আয়েশার বর্ণনায় পাওয়া যায়-রসূল সারা বছরই (রমজান মাসের কোন উলে­খ নেই) রাতে ৮ রাকাত নামাজ পড়তেন। সে হিসেবে তারাহি নামাজ ৮ রাকাত পড়াই উত্তম।

তারাবির খতমি আয়োজন কখন থেকে শুরু হয়েছে এর কোন সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায় না। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের অধিকাংশ মসজিদেই এ ব্যবস্থা রয়েছে। কুমিল্লা শহরের ৪৫৪ বছর পূর্বের শাহ সুজা মসজিদ থেকে শুরু করে নতুন মসজিদগুলোতে পর্যন্ত খতমে তারাবির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এব্যাপারে কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড় কেন্দ্রীয়, শাহ সুজা, গয়ামবাগিচা, কাপ্তান বাজার কেন্দ্রীয়, গাংচরের আফতাব উদ্দিন, দারোগাবাড়ি, পশ্চিম বাগিচাগাঁওসহ শহরের বেশ কয়েকটি মসজিদে সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে এসব মসজিদে খতমে তারাবির বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।

হাফেজ সাহেবদের ৯৯% বিভিন্ন মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ছাত্র, তারা রমজানের ২৭ তারিখের মধ্যে খতম সম্পন্ন কররেন, তবে ১০/১২ দিনের মধ্যে খতম করবেন বধুয়া কমিউনিটি সেন্টার ও সুরভী ম্যানশনের হাফেজ সাহেবগণ। এছাড়া মহিলাদের খতমে তারাবির ব্যবস্থা রয়েছে আফতাব উদ্দীন মাদ্রাসা মসজিদে, ডাঃমরহুম জোবেদা হান্নানের বাসায় এবং টিএন্ডটি মসজিদে। হাফেজ সাহেবদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, কোন কোন মসজিদের কমিটি তাদের উপর খবরদারি করে, মুসললীদের নিকট থেকে তোলা টাকার কিছু অংশ মসজিদ ফান্ডে রেখে দেয়া হয়, খাওয়ার সুব্যবস্থা নেই, তাদের সােেথ যোগাযোগ না করেই নতুন হাফেজ রাখা হয়, হাফেজ নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম নীতি মেনে চলা হয় না। হাফেজ সাহেবগণ এসব সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান চান। হাফেজগণ তাদের সম্মানী চেয়ে নেন না বলে জানা যায়, আফতাব উদ্দিন মাদ্রাসা মসজিদের হাফেজগণ এর জন্য কোন অর্থ গ্রহণ করেন না বলে কমিটির লোকজন জানায়।

আমাদের দেশে যত তাড়াহুড়ো করে তারাবি পড়া হয় তা বৈধ নয়, নামাজের আরকান, আহকাম, সুন্নত, ওয়াজিব ঠিক রেখে নামাজ আদায় না করলে সোয়াবের পরিবর্তে গোনাহ হবে। তাই ৭দিনে বা ১০ দিনে তারাবির নামাজে কোরান ক্ষতম দেয়ার ক্ষেত্রে মুসল্লীদের মনোযোগ কতটুকু থাকে তা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। তারাবির নামাজ চলাকালে মাইকযোগে তা বাইরে প্রচারের কোন প্রয়োজন নেই (প্রয়োজনে ভেতওে সাউন্ড বক্স ব্যবহার করা যেতে পারে) বলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ মনে করেন। আর তারাবি যেহুতু ফরজ নয় তাই কোন কারণে তারাবির নামাজ পড়তে না পারলে পরদিন রোজা রাখা যাবেনা বলে যারা ভাবেন তাদের ধারণা সঠিক নয়। এছাড়া খতমে তারাবিতে দাঁড়িয়ে মন যদি চলে যায় মসজিদের বাইরে অথবা ঘুমের রাজ্যে তাহলে এসব লোকের সুরা তারাবি পড়াই ভাল। আমরা যেন সঠিক নিয়মে তারাবির নামাজ আদায় করে পূর্ণ সোয়াবের অংশিদার হতে পারি সেজন্য সবাইকে চেষ্টা করতে হবে।

লেখকঃ মমিনুল ইসলাম মোল্লা, প্রাক্তন প্রভাষক, শাহতলী কামিল মাদ্রাসা, সাংবাদিক ও কলামিস্ট maminmollah.xyz
০১৭১১-৭১৩২৫৭


এই বিভাগের আরো সংবাদ
Translate »
Translate »