বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

তিতাসে চার বছরের শিশুকে টয়লেটের ভেতর নিয়ে ধর্ষণ

Muktir Lorai / ১১১ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০

কুমিল্লার তিতাসে চার বছরের শিশুকে টয়লেটের ভেতর নিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শিশুটিকে তার মা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

কিছুটা সুস্থবোধ করায় এক সপ্তাহ পর শিশুটির মা চা বিক্রেতা বিধবা শিল্পী আক্তার বাদী হয়ে একজনকে আসামি করে অবশেষে মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ নভেম্বর অন্যান্য দিনের মতো মা’ শিল্পি আক্তারের সঙ্গে তার চার বছরের শিশুকন্যা উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের রঘুনাথপুর বাজারে নিজের চায়ের দোকানে যান। বিকেল ৩টায় শিল্পী আক্তার দোকান থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে চা বানানোর জন্য লাকড়ি আনতে যান। শিল্পী আক্তার দোকানে এসে তার মেয়েকে না পেয়ে উপস্থিত শিশু আনিক ও নুরসাতের কাছে জানতে চায় সে কোথায়। ওই সময় অন্য শিশুরা তাকে জানায় সৌরভ নামে একজন তাকে টয়লেটের ভেতর নিয়ে গেছে।

শিশুটির মা রঘুনাথপুর গ্রামের আ. রহমানের টয়লেটে কাছে গেলে মেয়ের কান্নার শব্দ শুনতে পায়। ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে দরজা খুললে সৌরভ নামের ওই যুবক পালিয়ে যায়। এ সময় শিশুকন্যাটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান মা। তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন তিনি। সৌরভ (১৮) রঘুনাথপুর গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার ছেলে।

গত ২ বছর আগে শিল্পী আক্তারের স্বামী মজিবুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন। এরপর এক ছেলে ও ২ মেয়েকে নিয়ে বিধবা শিল্পী আক্তার রঘুনাথপুর গ্রামে বসবাস করে আসছেন। স্থানীয় রঘুনাথপুর বাজারে ছোট একটি দোকান নিয়ে চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তিনি।

এদিকে ঘটনার এক সপ্তাহ অতিবাহিত হয়ে গেলেও স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার, ইউপি চেয়ারম্যান, গ্রামপুলিশ, দায়িত্বশীল কোনও ব্যক্তি কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত না করায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনেকে এ ঘটনাকে শিল্পী বেগমের দারিদ্র্যতাকে অভিশাপ বলে অবহিত করেন।

অপরদিকে বৃহস্পতিবার রাতে ওই শিশুটির মা মামলা করার পর শুক্রবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নড়েচড়ে বসেন। পলাতক একমাত্র আসামি সৌরভকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

ভিটিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লা বলেন, ঘটনার পরপর শিশুটির মা আমার কাছে এসে বিষয়টি জানায়। তখন আমি শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠায়। ৬-৭ দিন পর শিল্পী আক্তার হাসপাতালের কিছু কাগজপত্র নিয়ে আমার কাছে আসলে তখন আমি বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পবিরার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সরফরাজ হোসেন খান জানান, যখন এ ধরনের ক্রেসগুলো আমাদের এখানে ভর্তি থাকে তখন আমরা স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করি। যেহেতু আমরা রোগীটিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছি তাই এটি ভিকটিম বা ওই হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

তিতাস থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, অপমৃত্যু, হত্যাকাণ্ড বিশেষ করে নারী ও শিশু ধর্ষণ বা নির্যাতিত হয়ে যদি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন, তাৎক্ষণিক বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানাতে বাধ্য। তবে শিশু ধর্ষণের বিষয়টি স্থানীয়পর্যায় থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের অবহিত করেনি এটা খুবই দুঃখজনক।


এই বিভাগের আরো সংবাদ
Translate »
Translate »