বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

দেশে ‘খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা নেই, ৩০ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে’

Muktir Lorai / ১১৬ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২০

ডেস্ক রিপোর্টঃ
দেশে এ বছর অতিবৃষ্টিতে পাঁচ-ছয় দফা বন্যায় ৩৫টি জেলার আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সারা বছরের উৎপাদন ও চাহিদা বিবেচনা করলে দেশে খাদ্য ঘাটতির আপাতত কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)।

সংস্থাটি আরও বলছে, আগামী জুন পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য চাহিদা পূরণ করেও কমপক্ষে ৩০ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে।

এ বিষয়ে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গত একমাস ধরে দেশের ১৪টি কৃষি অঞ্চলে জরিপ করে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সত্যতা পেয়েছে। সুতরাং সারাদেশে চালের উৎপাদন কম এবং খাদ্য ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কার কথা যেভাবে ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে তা আদৌ ঠিক নয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটিই জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই গবেষণায় বাংলাদেশের ১৪টি কৃষি অঞ্চল থেকে সর্বমোট ১ হাজার ৮০০ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি ৫৬ জন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ১১২ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে ধানের আবাদ ও বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ওই গবেষণা কাজে সরাসরি এবং টেলিফোন সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ১৯৭২-২০২০ সালের বন্যার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, প্রতি বছরই কম-বেশি বন্যা হচ্ছে, কিন্তু গত ৪৮ বছরে মধ্যে ১৯৭৪, ১৯৮৭, ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৪, ২০০৭, ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯ এবং ২০২০ এই বছরগুলোতে বন্যায় প্লাবিত এলাকা ২২ শতাংশেরও বেশি ছিল।

গবেষণার ফলাফল থেকে দেখা যায় যে, যখন কোনো একটি বছর দেশের বন্যায় আক্রান্ত এলাকা ২২ শতাংশের ওপরে যায় তখন ধানের উৎপাদন প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৭০ টন হারে কমে যায়। অপরদিকে যদি বন্যা আক্রান্ত এলাকা ২২ শতাংশের কম থাকে তবে পরবর্তী মৌসুমে উৎপাদন প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৪৯০ টন হারে বৃদ্ধি পায়।

এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, যে বছরগুলোতে বন্যা আক্রান্ত হয়েছিল তার পরবর্তী বছরে ধানের উৎপাদন বিভিন্ন হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বৃদ্ধির পেছনে বন্যা পরবর্তী বছরে সরকারের বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ এবং ধানের বাড়তি দাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ব্রি’র গবেষণায় দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় ১৪টি কৃষি অঞ্চলের মধ্যে এ বছর আমনের ফলন দিনাজপুরে ১১.১ শতাংশ, খুলনায় ৭.১ শতাংশ, চট্রগ্রামে ১.৩ শতাংশ এবং যশোরে ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে বাকি ১০টি কৃষি অঞ্চলে আমন ধানের ফলন বিভিন্ন হারে কমেছে।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা গেছে, এ বছর বন্যার ক্ষয়ক্ষতি বাদে আমন ধানের অর্জিত এলাকা ছিল ৫৭.৮৫ লাখ হেক্টর। উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে আরও দেখা গেছে যে, বিভিন্ন ধরনের বন্যাপ্রবণ এলাকায় আমন ধানের আবাদ হয়েছিল যথাক্রমে বন্যা অনাক্রান্ত এলাকার ২১.৫ লাখ হেক্টর, অল্প বন্যা আক্রান্ত এলাকার ১৬ লাখ হেক্টর, মধ্যম মানের বন্যা আক্রান্ত এলাকার ১৪.৩ লাখ হেক্টর এবং অতি বন্যা আক্রান্ত এলাকার ৬ লাখ হেক্টর।

এ বছর পাঁচ থেকে ছয় ধাপে মোট ৩৫ জেলায় বন্যা হয়েছিল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, বন্যায় আমন আবাদের মোট ক্ষতি হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার হেক্টর। বন্যা আক্রান্তের মাত্রা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যে এলাকায় বন্যা হয়নি সেখানে ধানের ফলন প্রায় ৪.৪ শতাশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কম, মাঝারি ও অতি বন্যাপ্রবণ এলাকায় যথাক্রমে ধানের ফলন ০.৬, ১৩.৪ ও ২৪.১ শতাংশ কম হয়েছে।

চালের হিসাবে এ বছর আমনের গড় ফলন হবে প্রতি হেক্টরে ২.৩০ টন। বিভিন্ন বন্যাপ্রবণ এলাকাভেদে হিসাব করলে দেখা যায়, যে এলাকায় বন্যা হয়নি সেখানে গড় ফলন হয়েছে প্রতি হেক্টরে ২.৬৯ টন, কম বন্যা আক্রান্ত এলাকায় ২.৪২ টন, মাঝারি বন্যা আক্রান্ত এলাকায় ২.১৮ টন এবং প্রবল বন্যা আক্রান্ত এলাকায় ১.৯৪ টন।

উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত আবাদকৃত এলাকা এবং উপরোক্ত ফলন বিবেচনায় নিয়ে আমন ধান উৎপাদন প্রাক্কলন করলে দেখা যায় যে, এ বছর চালের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০.০৬ শতাংশ কম হয়েছে। বন্যার পাশাপাশি এ বছর ধান উৎপাদনে বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূলতা দেখা গেছে, যার মধ্যে কোভিড-১৯, আম্ফান, অতি বৃষ্টি এবং বিভিন্ন রোগবালাই উল্লেখযোগ্য।

চালের হিসাবে এ বছর আউশ, আমন ও বোরো মিলিয়ে মোট চাল উৎপাদন হবে ৩৭.৪২ মিলিয়ন টন। চাহিদা ও যোগানের অবস্থা বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ডিসেম্বর ২০২০ থেকে জুন ২০২১ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ চালের চাহিদা মিটিয়ে ব্রি’র হিসাবে কমপক্ষে ৩০ লাখ টন চাল উদ্ধৃত্ত থাকবে। এক্ষেত্রে মাথাপিছু দৈনিক ৪০৫ গ্রাম চাল ধরে সর্বমোট ১৬৭ মিলিয়ন জনসংখ্যার জন্য এই হিসাব করা হয়েছে।

এছাড়া মোট ধান উৎপাদনের শতকরা ২৬ ভাগ নন-হিউম্যান কনসাম্পশনের বাৎসরিক চাহিদা বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।


এই বিভাগের আরো সংবাদ
Translate »
Translate »