বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

নবীগঞ্জে বন্যার্তদের সহায়তায় ১৬ আশ্রয়কেন্দ্র, ঝুঁকিতে বিবিয়ানা গ্যাস ও বিদ্যুৎকেন্দ্র

Muktir Lorai / ৪০ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০২২

নবীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নবীগঞ্জে উপজেলার কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী এলাকায় পানিবন্দি মানুষের সহায়তায় ১৩টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এছাড়াও বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও দুর্ঘটনা রোধে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ইনাতগঞ্জে অবস্থিত এশিয়া মহাদেশের অন্যতম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা এবং পারকুলে অবস্থিত বিবিয়ানা ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র চত্বরে বর্তমানে পানির উচ্চতা ৫-৬ ফুট হয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধি পেলে গ্যাসক্ষেত্রে পানি প্রবেশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এদিকে গত কয়েকদিনের উজানের পাহাড়ি ঢল ও মুষলধারে বৃষ্টির ফলে কুশিয়ারা-কালনী-বিবিয়ানা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা বৃষ্টি ও ভারতের পাহাড় থেকে নেমে আসা পানি কুশিয়ারা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উপচে জনপদে প্রবেশ করছে। ফলে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের ইছবপুর, মুনসুরপুর, মধ্যসমত পশ্চিম, নয়াপাড়া, মধ্যসমত পূর্ব, ইনাতগঞ্জবাজার, উমরপুর, বাউরকাপন, চণ্ডীপুর, রাজনগর, রমজানপুর, দিঘীরপাড়, বানিউন, দরবেশপুর, মোকামপাড়া, লতিবপুর, তপতিবাগ, মোস্তফাপুর, নোয়াহাটি, দনিগ্রাম, লালাপুর, পৃজাতপুর, কৈখাই, বক্তারপুর, নাদামপুর, কাকুড়া, মল্লিকপুর, বুরহানপুর, শাহবাজপুর, শ্যামলী আদর্শ, দীঘলবাক ইউনিয়নের কসবা, কসবা বাজার, রাধাপুর, ফাদুল্লাহ, দুর্গাপুর, মথুরাপুর, হোসেনপুর, মাধবপুর, পশ্চিম মাধবপুর, গালিমপুর, আউশকান্দি ইউনিয়নের পাহাড়পুর, পারকুল, উমরপুর, দীঘর ব্রাহ্মণগ্রাম, করগাঁও ইউনিয়নের শেরপুর, পাঞ্জারাই, গুমগুমিয়া, সর্দারপুর, বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নের সোনাপুর, চরগাঁওসহ হলিমপুর, সোনাপুরসহ ৯টি ওয়ার্ডের ১১টি গ্রাম, বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের শৈলা, রামপুর, কামড়া খাই, হরিনগর, বাগাউড়া, কাজীরগাঁও, ছোট ভাকৈর, বড় ভাকৈর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এরমধ্যে বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নের হলিমপুর বিবিয়ানা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে স্লুইস গেটের রাস্তা, রেগুলেটর ও বাঁধ ভেঙে ওই ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডসহ বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়ন ও করগাঁও ইউনিয়নে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। সময় যত যাচ্ছে পানির তীব্রতা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভাকৈর (পশ্চিম), বড় ভাকৈর (পূর্ব) ও করগাঁও ইউনিয়নে দ্রুতগতিতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভয়াবহ রূপ আকার ধারণ করছে।

দিশাহারা মানুষজন গবাদিপশু ও শিশুসন্তান নিয়ে ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সেখানে ৫ শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে নামেমাত্র সরকারি সহায়তা নিয়ে বন্যা কবলিত মানুষ চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

শেভরন বাংলাদেশের মুখপাত্র শেখ জাহিদুর রহমান বলেন, বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র সুরক্ষিত রাখতে এবং যাতে ভিতরে পানি প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। যদি পানি বাড়ে এবং বাঁধ ভেঙে যায় তাহলে বিবিয়ানা ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র তলিয়ে যাবে ।
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মহিউদ্দিন বলেন, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েক শতাধিক পরিবার অবস্থান নিয়েছে। তাদের জন্য শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।


এই বিভাগের আরো সংবাদ
Translate »
Translate »