নাঙ্গলকোটে সভাপতির বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ চেষ্টা অভিযোগ

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার পুজকরা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে শূন্যপদে নিয়োগ দেয়ার অপচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম মঙ্গলবার (২৯ জুন) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কুমিল্লা অঞ্চলের আঞ্চলিক উপ-পরিচালক এবং জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর আগে গত ২২ জুন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য বেলাল হোসেন, আব্দুল মান্নান, মো. শাহজাহান মেম্বার ও তাসলিমা বেগম কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পুজকরা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী বেগম গত বছরের ২৫ নভেম্বর এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এতে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মাহমুদা আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করা হয় এবং শূন্যপদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। এদিকে প্রধান শিক্ষক পদে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা আক্তার আবেদন করায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়। গত ১৮ জুন প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার আহবান করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভার রিজুলিউশনে কমিটির সভাপতি মো. শাহাজাহান চৌধুরী বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করেন। তিনি নিজের পছন্দের ব্যক্তিদেরকে নিয়োগ দেয়ার উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ের মূল রিজুলিউশন ও নোটিশ বই ব্যবহার না করে নতুন বই বাজার থেকে কিনে ব্যবহার করে নিজের কাছে রেখে দেন। এছাড়া তিনি যথাযথভাবে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেননি। এ অবস্থায় গত ১৮ জুন প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিতে আসা মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধি ও কুমিল্লা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাশেদা আক্তার শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে দেন। অভিযোগকারীরা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষক নিয়োগের জন্য কমিটির সভাপতি মো. শাহাজাহান চৌধুরী যে রিজুলিউশন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জমা করেছেন, এতে আমার ও কমিটির কয়েকজন সদস্যের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। সময় স্বল্পতার অজুহাত দেখিয়ে স্বাক্ষর জাল করার বিষয়টি তিনি আমার কাছে স্বীকারও করেছেন।’ অভিযোগের বিষয়ে পুজকরা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. শাহাজাহান চৌধুরী বলেন, ‘স্বাক্ষর জালের অভিযোগ সঠিক নয়। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যা কিছু হয়েছে, তা সকলের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতেই হয়েছে।’
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল মজিদ বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আবদুস ছালাম বলেন, ‘অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *