শিরোনাম
খুলনায় দুই খালাতো বোনকে গন-ধর্ষণের অভিযোগে আটক-৩ পাথরঘাটা অস্বাভাবিক আকৃতি নিয়ে শিশুর জন্ম শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ দাউদকান্দিতে দুর্বৃত্তদের হামলায় সাংবাদিক গুরুত্বর আহত বিএনপির পায়ের নিচে মাটি নেই… কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক লাকসামে রোবটিক্স ও প্রোগ্রামিং রিফ্রেসার্স প্রশিক্ষণ কর্মশালা বালিয়াডাঙ্গীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে দুদকে তলব কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী রিফাত ও বর্তমান মেয়র সাক্কুসহ ৬ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ নারীদের রাজনৈতিক নাগরিক সচেতনতা কার্যক্রম সভা অনুষ্ঠিত ভোলায় হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

পাকিস্তানের দূতাবাস ঘেরাও

Muktir Lorai / ১৯০ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টারঃ শুক্রবার সকাল ১১ ঘটিকায় কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের সমন্বয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকার সম্মুখ হতে পাকিস্তানের দূতাবাস ঘেরাও করার উদ্দেশ্যে এক বিক্ষোভ মিছিলসহ পদযাত্রা শুরু হয়। উক্ত বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশ হিন্দু আইনজীবী পরিষদ এর সভাপতি অ্যাড. সুমন কুমার রায় এর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভি এইচ পি) বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্রী কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, হিন্দু পরিষদের আহ্বায়ক সুবীর কান্তি সাহা, হিন্দু পরিষদের অন্যতম সদস্য দীপঙ্কর শিকদার দীপু, উৎপল দাস, প্রীতি ভূষন ভট্টাচার্য্য, দিপক রায়, অপু দেবনাথ, লিটন কৃষ্ণ, নমিতা বিশ্বাস, দেবাশীষ কর্মকার, ঝন্টু গোস্বামী, বিপুল বার, বিপ্লব মিস্ত্রী, মালা বিশ্বাস, এ্যাড. রবিন্দ্র নাথ, এ্যাড. বাসুদেব গুহ, গোপাল কর্মকার, অমিত ভৌমিক, বিলাশ, রাজ, হরিনাথ সূত্রধর, পিনাক, সুমন মন্ডল, সাধন দাস, শ্যামল দাস, মিন্টু দাস, স্বপন দাস, জ্যাক, সুভাষ, শ্যামল দাস, মিষ্টি রানী, আশীষ, কৃষ্ণ, সেন্টু, শুভ, উজ্জল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সাধন কুমার দাস, অফিস সম্পাদক বাদল সাহা, হিন্দু স্বেচ্ছাসেবক জোটের শ্যামল ঘোষ, সঞ্চয় শীল, গৌতম রায়, গোবিন্দ কুন্ড, দুর্জয় দেবনাথ দানেশসহ অন্যান্য কার্যকর্তাবৃন্দ। ভি এইচ পি এর সাধারণ সম্পাদক শ্রী কপিল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমের খাইবার পাখতুনখোয়া রাজ্যের কারাক জেলায় এক মন্দিরে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। মন্দিরের ভিতরে থাকা বিভিন্ন দেবতার মূর্তি রাস্তার উপর ছুড়ে ফেলা হয়েছে। মন্দিরটিকেও ভেঙে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে, উগ্র ধর্মীয় নেতাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাতুড়ি বাটাল নিয়ে আক্রান্ত মন্দিরটির গায়ে আঘাত হানছে তাদের অনুসারী কর্মীরা, একই সঙ্গে মন্দিরের চারপাশ ঘিরে ধোঁয়া উড়তে ও দেখা গেছে। এ ঘটনায় গোটা পাকিস্তানের হিন্দুরা ক্ষুব্ধ হলেও ইমরান খানের প্রশাসন এখনও পর্যন্ত কোনও রকম ব্যবস্থা নেয়নি। সে এলাকার হিন্দুরা ভয়ে কোন রকম প্রতিবাদ করতে পারেননি এই জঘন্য নৃশংস ঘটনার। পাকিস্তান এখন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য ধীরে ধীরে নরক হয়ে উঠছে। প্রতিদিনই সংখ্যালঘুদের ওপর পাকিস্তানে চলে অকথ্য অত্যাচার। অধিকাংশ সময়ই তার কোনও খোঁজ প্রকাশ্যে না পাওয়া গেলেও মাঝে মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখা যায় যে পাকিস্তানে হিন্দুদের উপর কী পরিমাণে অত্যাচার চালাচ্ছে উগ্র মৌলবাদীরা।
দিপংকর শিকদার দিপু বলেন বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সূত্রে জানা যায় সিন্ধু প্রদেশের বসবাসকারী হিন্দুদের ওপর উগ্র মৌলবাদীরা প্রবল অত্যাচার চালায় এবং বাড়ির মহিলাদের জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। নাবালিকা ও যুবতীদের অপহরণের পর ধর্মান্তরিত করে জোর করে বিয়ে করে। এখানে প্রতিবাদ করা মানে খুন হয়ে যাওয়া। এই ঘটনা সম্পর্কে ইমরান খানের প্রশাসন সম্পূর্ণ অবগত হয়েও নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে চলেছে। এভাবেই ধীরে ধীরে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পাকিস্তানের হিন্দু সম্প্রদায়, তাদের মুক্তির পথ জানা নেই। এই ঘটনায় কোন দৃশ্যমান বিচার আজও পর্যন্ত আমাদের চোখে পড়ে নাই, যা খুবই নিন্দনীয়।
সুবির সাহা বলেন, প্রতি বছর অন্তত ১০০০ নাবালিকাকে জোর পূর্বক ধর্ষণ ও ধর্মান্তর করা হচ্ছে। এই করোনা মহামারী কালেও এই প্রবণতা আরও বেড়েছে, প্রসঙ্গত চলতি মাসের শুরুতেই মার্কিন বিদেশ দফতর ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের জন্য পাকিস্তানকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্পর্কিত মার্কিন কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তনের সংখ্যালঘু হিন্দু, খ্রিষ্টান এবং শিখ সম্প্রদায়ের নাবালিকাদের জোর করে ইসলামে ধর্মান্তরিত করার জন্য অপহরণ করা হয় এবং জোর করে তাদের বিবাহ দেওয়া হয় এবং ধর্ষণের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়, যার আজও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় নাই।
সাধন দাস বলেন, পাক মানবাধিকার কর্মেিদর সূত্রে জানা যায় যে, সংখ্যালঘু নির্যাতনের এই চক্রের একাংশের উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদীরা, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মাজিষ্ট্রেট, স্থানীয় পুলিশ- সকলেই যুক্ত। তবে তাদের মতে এই অপহরণের পিছনে ইসলামে ধর্মান্তরিত করাটা মূল কারণ নয়, মূল কারণ সংখ্যালঘু কুমারি নাবালিকাদের দখল করা। এই ঘটনা যেন পুনঃরাবৃত্তি না ঘটে তার কঠোর পদক্ষেপ নিতে ইমরান খান প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
অ্যাড. সুমন কুমার রায় বলেন, পাকিস্তানের হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে থাকতে হয়। বাসস্থান, চাকরি, সরকারি সুযোগ সুবিধা পাওয়া জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে বৈষম্যের শিকার হতে হয় তাদের। পাকিস্তানি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মনে করেন অমানবিক অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বহু হিন্দু পরিবারই এখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানে খ্রিষ্টান শিখ, হিন্দু বা আহমদিয়াদের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা যে কী চরম দুর্দশা ও নির্যাতনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, তা নিয়ে একটি তীব্র সমালোচনামূলক রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা। বাস্তব জীবন থেকে একের পর এক উদাহরণ তুলে ধরে তারা দেখিয়েছেন, কীভাবে সেখানে সংখ্যালঘু সমাজের নারী বা বাচ্চা মেয়েরা পর্যন্ত ধর্ষণ ও অপহরণের শিকার হচ্ছেন। তাদের প্রতিনিয়ত খুনের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মন্তব্য করা হয়েছে, উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী এই সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হিংসা, গণহত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ কিংবা জোর করে ইসলামে ধর্মান্তর করে চলেছে নির্বিচারে। এমনকি পাকিস্তান ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানাবধিকার কর্মী করিমা বলজকে পাকিস্তানী এই এস আই দ্বারা সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অনতিবিলম্বে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও ইমরান খানের প্রশাসনের প্রতি আমাদের জোর দাবি এই সকল ঘটনায় সুষ্ঠ তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের ঐ দেশের প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তির বিধান নিশ্চিত ও ভবিষ্যতে সকল প্রকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারে তার সুব্যবস্থার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিকট উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও মানবাধিকার লংঘন বন্ধ করা না হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সকল দাতা সংস্থাদের পাকিস্তানকে দেওয়া যাবতীয় আর্থিক সহায়তা বন্ধ করার আহ্বান ও পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রনয়ণসহ সকল ক্ষেত্রে সমাধিকার নিশ্চিত করণের জোর দাবি জানাচ্ছি। সকাল ১১টায় প্রেসক্লাব থেকে ঢাকাস্থ গুলশান পাকিস্তান দুতাবাস কার্যালয়ের সামনে যাত্রা শুরু করলে শাহবাগে পুলিশের বাধায় শাহবাগ মোড়ে ইমরান খানের পুষ্পত্তলিকা দাহ করেন এবং পরবর্তীতে শাহবাগ চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আগামীকাল বিকাল সাড়ে ৩টায় পাকিস্তান দুতাবাসে স্মারক লিপি প্রদানের ঘোষণা প্রদান করেন। এর পরেও যদি পাকিস্তানে এই ধরণের ঘৃণ কর্মকান্ড অব্যাহত থাকে তাহলে সারা বাংলাদেশে কঠোর কর্মসূচিসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে পাকিস্তানকে বিশ্ব সম্প্রদায় থেকে বয়কটের আহ্বান জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


এই বিভাগের আরো সংবাদ
Translate »
Translate »