ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পা দিয়ে লিখে জিপিএ ৫ পেয়েছে ফুলবাড়ীর মানিক

মোঃ আরিফুল ইসলাম, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর মানিক রহমান। চতুর্থ বিষয়সহ সব বিষয়ে এ প্লাস পেয়েছে সে। তার মোট প্রাপ্ত নম্বর ১২৪২। এ উপজেলায় তার মোট নম্বর সবার থেকে বেশি বলে জানাগেছে। তার এ ফলাফলে পরিবার, শিক্ষক ও উপজেলাবাসী অত্যন্ত খুশি। জন্ম থেকেই মানিক রহমানের দুই হাত নেই। দুই পা থাকলেও একটি লম্বা ও অন্যটি খাটো। পা দিয়ে কলম ধরে পরীক্ষা দিয়ে এ পর্যন্ত এসেছে সে। মানিক এ বছর ফুলবাড়ী জছিমিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এ ফলাফল করে। সে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামের ওষুধ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ও মা প্রভাষক মরিয়ম বেগমের ছেলে।
মানিক জানায়, তার এ ফল প্রত্যাশিত ছিলো। এ ফলাফলে সে অত্যন্ত খুশি। সে এখন ঢাকা নটরডেম কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভবিষ্যতে সে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। মানিকে বাবা মিজানুর রহমান জানান, মানিকের লেখাপড়া চালাতে যা করা দরকার তাই করবেন তিনি। মরিয়ম বেগম জানান, আমার দুই ছেলে। মানিক বড়। ছোট ছেলে মাহীম অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। বড় ছেলে মানিক প্রতিবন্ধী এটা আমরা মনে করি না। জন্ম থেকেই তার দুটো হাত না থাকলেও ছোট থেকে আমরা তাকে পাঁ দিয়ে লেখার অভ্যাস করিয়েছি। সমাজে অনেক সুস্থ ও স্বাভাবিক ছেলে মেয়েদের চেয়েও মানিক পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসিতে ভাল রেজাল্ট করেছে। এটা আমাদের গর্ব। সবাই আমার ছেলেটার জন্য দোয়া করবেন সে যেন তার স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে।
ফুলবাড়ী জছিমিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধি হওয়ার পরেও মানিক রহমান অন্যান্য শিক্ষার্থীদের চেয়ে ভাল ফলাফল করেছে। এ ফলাফলে বিদ্যালয়ের সবাই খুশি।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পা দিয়ে লিখে জিপিএ ৫ পেয়েছে ফুলবাড়ীর মানিক

আপডেট সময় ০১:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২

মোঃ আরিফুল ইসলাম, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর মানিক রহমান। চতুর্থ বিষয়সহ সব বিষয়ে এ প্লাস পেয়েছে সে। তার মোট প্রাপ্ত নম্বর ১২৪২। এ উপজেলায় তার মোট নম্বর সবার থেকে বেশি বলে জানাগেছে। তার এ ফলাফলে পরিবার, শিক্ষক ও উপজেলাবাসী অত্যন্ত খুশি। জন্ম থেকেই মানিক রহমানের দুই হাত নেই। দুই পা থাকলেও একটি লম্বা ও অন্যটি খাটো। পা দিয়ে কলম ধরে পরীক্ষা দিয়ে এ পর্যন্ত এসেছে সে। মানিক এ বছর ফুলবাড়ী জছিমিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এ ফলাফল করে। সে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামের ওষুধ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ও মা প্রভাষক মরিয়ম বেগমের ছেলে।
মানিক জানায়, তার এ ফল প্রত্যাশিত ছিলো। এ ফলাফলে সে অত্যন্ত খুশি। সে এখন ঢাকা নটরডেম কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভবিষ্যতে সে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। মানিকে বাবা মিজানুর রহমান জানান, মানিকের লেখাপড়া চালাতে যা করা দরকার তাই করবেন তিনি। মরিয়ম বেগম জানান, আমার দুই ছেলে। মানিক বড়। ছোট ছেলে মাহীম অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। বড় ছেলে মানিক প্রতিবন্ধী এটা আমরা মনে করি না। জন্ম থেকেই তার দুটো হাত না থাকলেও ছোট থেকে আমরা তাকে পাঁ দিয়ে লেখার অভ্যাস করিয়েছি। সমাজে অনেক সুস্থ ও স্বাভাবিক ছেলে মেয়েদের চেয়েও মানিক পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসিতে ভাল রেজাল্ট করেছে। এটা আমাদের গর্ব। সবাই আমার ছেলেটার জন্য দোয়া করবেন সে যেন তার স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে।
ফুলবাড়ী জছিমিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধি হওয়ার পরেও মানিক রহমান অন্যান্য শিক্ষার্থীদের চেয়ে ভাল ফলাফল করেছে। এ ফলাফলে বিদ্যালয়ের সবাই খুশি।