• শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

প্রেম ও বিয়ের ফাঁদে ফেলে বহু পুরুষকে নিঃস্ব করেছেন সুমনা

news / ৫৯ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার : প্রেম ও বিয়ের নামে বহু পুরুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থ-সম্পদ লুট করার অভিযোগ উঠেছে পিরোজপুরে বহুল আলোচিত নারী সুমনা ইসলাম (৩১) ওরফে সামিরা অরিনের বিরুদ্ধে। প্রতারণা জালিয়াতিসহ নিরীহ লোকদের মামলা দেওয়া ও সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দিয়ে হয়রানীসহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে এই নারীর বিরুদ্ধে। তার ফাঁদে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন একাধিক ব্যক্তি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রীর চতুর্থ সন্তান সুমনা ইসলাম। পরিবারে একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যাক্তি ছিলেন তার বাবা। যিনি একটি সরকারি অফিসের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী ছিলেন। তিনি কয়েক বছর পূর্বে মারা যান। সুমনার ভাই রেজাউল ইসলাম ছিল পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের আলোচিত নেতা। সে তিন বছর পূর্বে সড়ক দূর্ঘনায় মারা যান। বাবা ও ভাইয়ের মৃত্যুর পরে পরিবারটিতে আর্থিক দৈনতা দেখা দেয়।
পরবর্তীতে যা পারিবারিক উৎশৃঙ্খলতাকে ত্বরান্বিত করতে থাকে ২০০৮ সালে এইচএসসি পাস করার পর সুমনা বাবার মতের বাইরে গিয়ে সে একাকী ঢাকায় অবস্থান করতো। তখন সে মিডিয়া জগতের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন এবং ‘সামিরা অরিন ‘ নামে একজন উঠতি মডেল হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন। তখন তাকে মাঝে মাঝে বিভিন্ন নামি দামি গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন ব্যাক্তিকে নিয়ে এবং অমার্জিত পোশাকে রাতে ও দিনে ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত। ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সে ঢাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে একটি বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনে মডেল হিসাবে তাকে দেখা যায়। এরপরে ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিদেশে ছিলেন। তবে মাঝে মাঝে দেশে এসে প্রেমের নামে প্রতারনা করে অনেক ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা হাতিয়ে নেন। পিরোজপুর আদালতে খোজ নিয়ে যানা যায় তার বিরুদ্ধে ইতি পূর্বে বিভিন্ন ধারায় (ধারা ১৪৩/৪৪৭/৩৭৫/৩৭৬/৩৭৮) মামলা রয়েছে। যার মামলা নং জি.আর নং৬৬/২০১৫ (ইন্দু) এবংএম.পি মোকদ্দমা নং-১২৪/২০১৫। বর্তমানে তিনি ঢাকার অভিজাত এলাকায় দামী এর্পামেন্টে বসবাস ও দামী গাড়ী ব্যবহার করে আসছেন। খোজ নিয়ে যানা যায় তার পরিবারের কেউ কোন চাকরি বা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না। অথচ সুমনার চলাফেরা কোটিপতির মতো।
স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করলে চেয়ারম্যান সুমনা ইসলাম সম্পর্কে যেসব তর্য দেন তা হলো, ‘সুমনা ইসলাম, পিতা-মৃত নুরুল ইসলাম হাওলাদার, মাতা-চাদবরু বেগম, গ্রাম-নলবুনিয়া, ডাকঘর-কালিবাড়ী হাট, উপজেলা-ইন্দুরকানি, জেলা-পিরোজপুর। উক্ত সুমনা ইসলাম মৃত নুরুল ইসলাম হাওলাদারের তৃতীয় কন্যা। কথিত মতে তাহার মা ও তাহার নিজের বিষয় খোঁজ খবর নিয়া লোক মুখে জানা যায় যে, তাহার আম্মা চাদবরু বেগম তাহার প্রথম স্বামী আদম আলীকে খুন করে মামলায় জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে নুরুল ইসলাম হাওলাদারের সাথে দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাহার সংসারেই উক্ত সুমনা ইসলামের জন্ম হয়। উক্ত সুমনা ইসলাম দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকার বাহিরে থাকেন। এমনকি রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও দুবাই সহ বেশ কয়েকটি দেশে ভ্রমণ করেন। মাঝে মাঝে দেশে এসে বেপদা ও উৎশৃঙ্খল ভাবে চলাফেরা করেন। ক্ষমতার দাপটে তাহার ভাই ও অন্য লোকজনদের সঙ্গে নিয়ে নিজ বাড়ীর সামনে অবৈধ ভাবে জমি দখল করার লক্ষে এমদাদিয়া কওমী মাদ্রাসা ও রাবেয়া খাতুন হাফেজী মাদ্রাসা এতিমখানা ভাঙ্গচুর করেন এবং মাদ্রাসা থাকা কোরআন শরীফ ও কেতাব বই পুস্তক ডাষ্টবিনে ছুরে মারেন, যাহার জের হিসাবে তৎকালীন ১২/০৮/২০১৫খ্রিঃ তারিখে সময় দৈনিক জাতীয় (ইত্তেফাক, সমকাল, যুগান্তর)ও স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদ পত্রে প্রকাশিত হয় এবং দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে মামলা হয়। যাহার মামলা নং-এম.পি মোকদ্দমা নং-১২৪/২০১৫ । উক্ত সুমনা ইসলাম ঐ মামলার ২নং আসামী হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হন। আরো লোক মুখে শুনা যায় যে, সুমনা ইসলাম এখন নাকি ঢাকায় অভিজাত এলাকায় বিলাশ বহুল জীবন-যাপন করেন এবং সামীরা অরীন নামে উঠতি মডেল হিসাবে নিজেকে আত্ম প্রকাশ করেন।
২/১টি বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনেও তাকে দেখা যায়। আমার এলাকার লোকজনের জানা মতে উক্ত সুমনা ইসলামের পরিবারে কোন স্থায়ী জমিজমা নেই।” স্থানীয়রা বিডি২৪ভিউজ কে জানান, সুমনার বড় ভাই হান্নান মাদক সেবী। মাদক মামলায় সে কারাবাস করেছেন। সুমনার পরিবারের কোন স্থায়ী জমি বা ব্যবসা নেই। সুমনার আয়ে তাঁর মা ও দুই ভাইয়ের সংসার চলে। সুমনা কোন চাকরি বা ব্যবসা করেন না। মূলত সুমনা প্রতারণা করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে ঢাকায় অভিযাত এলাকায় বসবাস করেন। চলাফেরা করেন দামী গাড়িতে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকায় বসবাসরত সিলেটের একজন সাবেক সংসদ সদস্য (৪৫) সঙ্গে সুমনা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরপর ওই সংসদ সদস্যর কাছ থেকে প্রতারণার করে সুমন
তার মুল টার্গেট সম্পদশালী ব্যবসায়ী, উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তা ও প্রবাসী পুরুষ। তিনি প্রথমে টার্গেট নিশ্চিত করে। এরপর ধীরে ধীরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে নিজ দেহের সৌন্দর্য ও কথা মালার মারপ্যাঁচে আটকে ফেলেন টার্গেটকৃত পুরুষদের। তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) বেশ কিছু অশালিন ছবি দেখা যায় এবং আগ্রহের বিষয় হিসাবে পুরুষকে নির্বাচিত করেছেন। অভিযোগ সমূহের বিষয়ে সুমনা ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রাগান্তিত হয়ে ফোনটি কেটে দেন। ভুক্তভোগীরা বলেন, সুমনা ইসলামের বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ না নিলে তিনি এভাবে একের পর এক বহু পুরুষকে ফাঁদে ফেলে তার অর্থ সম্পদ কে লুটে নেবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুক এ সে বিভিন্ন চটকদার ছবি ও ভুল তথ্য দিয়ে রেখেছেন যেন মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারেন। সে ফেসবুক এ লিখে রেখেছেন ঢাকা মেডিকেল এ চাকরি করেন কিন্তু খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় সে মুলত বেকার। তার এক ভাই নেশা গ্রস্থ এবং মাদক মামলার আসামি। সে বিবাহিত হয়েও ম্যারিটাল স্টেটাস সিঙ্গেল দিয়ে রেখেছেন যেন বহু পুরুষ কে আকৃষ্ট করতে পারেন। এমন কি সে আগ্রহের বিষয় হিসেবে ছেলেদের কে পছন্দ করেন বলে প্রদর্শন করেছেন। সুমনা ইসলাম কে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগিরা।


এই বিভাগের আরো সংবাদ