ঢাকা ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ীতে ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডা বাতাসে জনজীবন অতিষ্ঠ

মোহাম্মদ আজগার আলী, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ শীতের সময় দেশের উত্তারাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এবারেও অন্যান্য জেলার ন্যায় দিনাজপুর জেলাতেও শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার ফুলবাড়ীতে তীব্র শীত আর ঠান্ডা বাতাসের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। প্রচন্ড ঠান্ডা বাতাস ও তীব্র ঘন কুয়াশায় নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ জীবন জীবিকার জন্য বাইরে বের হতে পারছেনা।

গত কয়েকদিন যাবত ফুলবাড়ী উপজেলায় সূর্যের দেখা মিলছেনা ঠিকমতো। যতই শীতের তিব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে ততই ঠান্ডার প্রকোপ বাড়ছে। রবিবার (৮ জানুয়ারী) সকাল ৯ টায় ফুলবাড়ী উপজেলায় তাপমাত্রা ছিলো ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আদ্রতা ৯৫%, বায়ুর গতি ১০ কিঃমিঃ ঘন্টায় এবং বায়ুর চাপ ১০২০ পিএইচপি ছিলো। দিনাজপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, রবিবার সকাল ৬ টায় দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা রেকর্ড হয়েছে ৯৬ শতাংশ। তিনি আরও জানান, গতকাল একই সময় তাপমাত্রা ছিলো ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আদ্রতা ছিলো ৯৭ শতাংশ।

ঘন কুয়াশা এবং হিমশীতল বাতাসের তীব্রতা যতই ভাড়ছে ততই গরম কাপড়ের প্রয়োজন বাড়ছে। ধীরে ধীরে শীত বস্ত্র নিতে ক্রেতার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। শীতের বস্ত্র বিক্রয়ের শো-রুম ও ফুটপাথের দোকানগুলোতে বিভিন্ন পেশার ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। ঘন কুয়াশার জন্য দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহনগুলোকে চলাচল করতে দেখা গেছে। ঠান্ডায় গোটা জন-জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উত্তরের হিমালয় থেকে বইছে হিমেল হাওয়া। ঘন কুয়াশা আর কনকনে হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় সাধারণ নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষের দূর্ভোগ বেড়েই চলছে।

শীতের তিব্রতা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বিপদে পড়েছে নিন্ম ও মধ্যম আয়ের মানুষেরা। ঠান্ডায় ঠিকমত বের হতে পারছেনা ফলে আয়ও কমে গেছে। তারউপর ঠান্ডায় ছোট ছোট বাচ্চা এবং বয়স্কদের গরম কাপড়ও কিনতে পারছেনা। পুরাতন কাপড় দিয়ে শীত নিবারণ হচ্ছেনা। ফুটপাত এবং দোকানগুলোতে শিশুসহ নানা বয়সের মানুষের পুরানো ও নতুন সোয়েটার, কোর্ট, জ্যাকেট, গেঞ্জি, শার্টসহ বিভিন্ন ধরনের গরম কাপড়ের পসরা বসিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতেছেন বিক্রেতারা। ফুটপাতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে শীতবন্ত্র বিক্রয়। শীতবস্ত্র কিনতে ফুটপাতে গড়ে ওঠা কাপড়ের দোকানে ভিড় জমাচ্ছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। শীত নিবারণে সাধ্যমত কম মূল্যে শীতবস্ত্র কিনতে যাচ্ছেন ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে। শীতের কাপড়ের দাম বাড়ায় স্বচ্ছল বিত্তবানরা বিভিন্ন দোকানে শীতের গরম কাপড় কিনতে পারলেও অর্থাভাবে গরিব খেটে খাওয়া মানুষরা চাহিদামত কিনতে পারছেনা।

গরম কাপড় ক্রেতা মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, শীতের তিব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কোন ভাবেই পূর্বের কাপড় দিয়ে শীত নিবারণ করা যাচ্ছে না। তাই আরো গরম কাপড় কিনতে এসেছি। কাটাবাড়ী গ্রামের বাদল প্রামানিক, জাহাঙ্গীর হোসেন, পশ্চিম গৌরীপাড়ার আশরাফুলসহ অনেকেই একই কথা বলছেন। শীতবস্ত্র বিক্রেতা মোঃ রাজ্জাক মিয়াসহ অনেক ব্যবসায়ী বলেন, তীব্র শীত ও ঠান্ডায় বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। ঠান্ডায় বিক্রি ভালো হলেও কষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন পেশার নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুলবাড়ীতে ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডা বাতাসে জনজীবন অতিষ্ঠ

আপডেট সময় ০৭:৩৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৩

মোহাম্মদ আজগার আলী, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ শীতের সময় দেশের উত্তারাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এবারেও অন্যান্য জেলার ন্যায় দিনাজপুর জেলাতেও শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার ফুলবাড়ীতে তীব্র শীত আর ঠান্ডা বাতাসের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। প্রচন্ড ঠান্ডা বাতাস ও তীব্র ঘন কুয়াশায় নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ জীবন জীবিকার জন্য বাইরে বের হতে পারছেনা।

গত কয়েকদিন যাবত ফুলবাড়ী উপজেলায় সূর্যের দেখা মিলছেনা ঠিকমতো। যতই শীতের তিব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে ততই ঠান্ডার প্রকোপ বাড়ছে। রবিবার (৮ জানুয়ারী) সকাল ৯ টায় ফুলবাড়ী উপজেলায় তাপমাত্রা ছিলো ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আদ্রতা ৯৫%, বায়ুর গতি ১০ কিঃমিঃ ঘন্টায় এবং বায়ুর চাপ ১০২০ পিএইচপি ছিলো। দিনাজপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, রবিবার সকাল ৬ টায় দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা রেকর্ড হয়েছে ৯৬ শতাংশ। তিনি আরও জানান, গতকাল একই সময় তাপমাত্রা ছিলো ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আদ্রতা ছিলো ৯৭ শতাংশ।

ঘন কুয়াশা এবং হিমশীতল বাতাসের তীব্রতা যতই ভাড়ছে ততই গরম কাপড়ের প্রয়োজন বাড়ছে। ধীরে ধীরে শীত বস্ত্র নিতে ক্রেতার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। শীতের বস্ত্র বিক্রয়ের শো-রুম ও ফুটপাথের দোকানগুলোতে বিভিন্ন পেশার ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। ঘন কুয়াশার জন্য দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহনগুলোকে চলাচল করতে দেখা গেছে। ঠান্ডায় গোটা জন-জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উত্তরের হিমালয় থেকে বইছে হিমেল হাওয়া। ঘন কুয়াশা আর কনকনে হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় সাধারণ নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষের দূর্ভোগ বেড়েই চলছে।

শীতের তিব্রতা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বিপদে পড়েছে নিন্ম ও মধ্যম আয়ের মানুষেরা। ঠান্ডায় ঠিকমত বের হতে পারছেনা ফলে আয়ও কমে গেছে। তারউপর ঠান্ডায় ছোট ছোট বাচ্চা এবং বয়স্কদের গরম কাপড়ও কিনতে পারছেনা। পুরাতন কাপড় দিয়ে শীত নিবারণ হচ্ছেনা। ফুটপাত এবং দোকানগুলোতে শিশুসহ নানা বয়সের মানুষের পুরানো ও নতুন সোয়েটার, কোর্ট, জ্যাকেট, গেঞ্জি, শার্টসহ বিভিন্ন ধরনের গরম কাপড়ের পসরা বসিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতেছেন বিক্রেতারা। ফুটপাতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে শীতবন্ত্র বিক্রয়। শীতবস্ত্র কিনতে ফুটপাতে গড়ে ওঠা কাপড়ের দোকানে ভিড় জমাচ্ছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। শীত নিবারণে সাধ্যমত কম মূল্যে শীতবস্ত্র কিনতে যাচ্ছেন ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে। শীতের কাপড়ের দাম বাড়ায় স্বচ্ছল বিত্তবানরা বিভিন্ন দোকানে শীতের গরম কাপড় কিনতে পারলেও অর্থাভাবে গরিব খেটে খাওয়া মানুষরা চাহিদামত কিনতে পারছেনা।

গরম কাপড় ক্রেতা মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, শীতের তিব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কোন ভাবেই পূর্বের কাপড় দিয়ে শীত নিবারণ করা যাচ্ছে না। তাই আরো গরম কাপড় কিনতে এসেছি। কাটাবাড়ী গ্রামের বাদল প্রামানিক, জাহাঙ্গীর হোসেন, পশ্চিম গৌরীপাড়ার আশরাফুলসহ অনেকেই একই কথা বলছেন। শীতবস্ত্র বিক্রেতা মোঃ রাজ্জাক মিয়াসহ অনেক ব্যবসায়ী বলেন, তীব্র শীত ও ঠান্ডায় বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। ঠান্ডায় বিক্রি ভালো হলেও কষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন পেশার নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের।