• সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ১২:৩৮ অপরাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
শিরোনাম
ধোপাজান চলতি নদীতে ৮টি নৌকা আটক, ২ লক্ষ টাকা জরিমানা পাচার বাণিজ্যে মতানৈক্যের জেরে সীমান্তে অপহৃত নাবালক ৬ চিকিৎসক নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে বরগুনা সরকারি হাসপাতাল সামাজিক দূরত্ব ভুলে রাসিক মেয়র লিটনের খাদ্য সামগ্রী বিতরন সলঙ্গায় ১০কেজি গাঁজাসহ মাদক ব‍্যবসায়ী আটক বরুড়ায় ১৫০ অক্সিজেন সিলিন্ডার দিলেন এসকিউ গ্রুপের শফিউদ্দিন শামীম বাবার মৃত্যুর একদিন পর মাকেও হারালেন সহকারী এটর্নি জেনারেল এড. ফারুক সাতক্ষীরা শহরের বাগানবাড়িতে ভূমিহীনদের পুর্নবাসনের দাবিতে উঠান বৈঠক আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মুরাদনগরে দিনব্যাপী ডিউটি অফিসারের ভূমিকায় এএসপি
বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ জেলে ১৩ বছর পর তালতলী থেকে উদ্ধার

news / ৯০ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার, ৯ জুলাই, ২০২১

সাইফুল্লাহ নাসির, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলী থেকে উদ্ধার হলো পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌর এলাকার ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহ আলম এর ছেলে জেলে মিলন আকন (১৭)। জেলে মিলন পৌর এলাকার বেরীবাধেঁর বাইরে বাবা মায়ের সাথে বসবাস করতেন।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে মিলন, ফারুক (১২), খোকন (২৫) সহ ৩ জেলে নিখোঁজ হন।এরপর তার বাবা মা ও আত্মীয় স্বজনরা মিলনকে সমুদ্রসহ বিভিন্ন স্থানে খুঁজে বেড়ান। কিন্ত মিলনসহ অপর জেলেদের আর পাওয়া যায়নি। পরিবারের লোকজন ধরে নিয়ে ছিল মিলন হয়তো সমুদ্রে ঝড়ের কবলে পরে ট্রলার ডুবে মারা গেছে। জীবিত মিলনকে না পেলেও যদি তার লাশ পাওয়া যায় এই আশায় লাশের খোঁজ করেন সমুদ্র উপকুলীয় এলাকায়। কিন্তু কোথাও মিলনের লাশ পাওয়া যায়নি। হতাশ বাবা মা ছেলের শোকে দীর্ঘদিন কান্না কাটি করে শোকের পাথর বুকে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করে। ১৩ বছর পর হঠাৎ করে গত মঙ্গলবার মিলনের এক আত্নীয়ের মাধ্যমে বাবা মা জানতে পারেন পার্শ্ববর্তী জেলা বরগুনার তালতলী এলাকায় মিলনকে ভারসাম্যহীন অবস্থায় রাস্তায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। এমন খবরে নিশ্চিত হবার জন্য মিলনের ছবি তুলে পাঠাতে বলে মিলনের বাবা মা। তালতলী থেকে ছবি তুলে পাঠানো হয় পরিবারের কাছে। ছবি দেখে চিহ্নিত করে মিলনকে তার বাবা মা। মিলনের বাবা-মা সহ এলাকাবাসীর ধারনা ঝড়ের কবলে পরে মিলনসহ তিন জেলে ভেসে গিয়ে ভারতে ওঠে। সেখানে মিলনকে ভারতের জেলে রাখে। পরে ইনজেকশন পুশ করে ছেড়ে দেয়া হয়।এই ইনজেকশনের প্রভাবে মিলন ভারসাম্যহীন হয়ে পরে। ৮ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকালে ট্রলার নিয়ে তালতলী যান মা মিনারা বেগমসহ তার পরিবারের লোকজন। তালতলী থেকে ঐ দিন বিকেলে বাড়িতে নিয়ে আসে। বর্তমানে মিলনের বয়স ৩০ বছর। মুখে দাড়ি। ১৩ বছর পর মিলনকে ফিরে পেয়ে বাবা মা সহ পরিবারের লোকজন আবেগ আপ্লুত হয়ে পরে। বর্তমানে মিলন অসুস্থ। তার পরিবারের লোকজন সেবা করছেন মিলনকে সুস্থ করার জন্য। এদিকে মিলন ফিরে আসার খবরে শত শত নারী পুরুষ ভীড় করে মিলনকে এক নজর দেখার জন্য।
মিলনের পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, সমুদ্রে নিখোঁজ হওয়ার ৪ মাস আগে বিবাহ করে মিলন।
নববধু ৫ বছর স্বামীর ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকে। পরে তার বাবা মা শশুর বাড়ি থেকে মেয়েকে নিজ বাড়িতে নিয়ে বিবাহ দেন। মিলনের ফিরে আসার খবরে তার সেই স্ত্রী মিলনকে এক নজর দেখতে কুয়াকাটায় ছুটে আসে।
মিলনের বাবা শাহ আলম আকন বলেন, আমার ছেলে মিলন ২০০৮ সালে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। তার সাথে আরো দুই জেলে ফারুক (১২), খোকন (২৫) ছিল। কেউই ফেরেনি, অনেক খোঁজা খুজি করেছি তাদেরকে। হঠাৎ দু’দিন হলো শুনতে পেয়েছি আমার ছেলে মিলনকে নাকি পাগল অবস্থায় তালতলী এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে । পরে ওর মা গিয়ে নিয়ে আসছে। এটা যে আমার ছেলে আমি
পুরোপুরি নিশ্চিত।মিলনের মা মিনারা বেগম জানান, আমার ছেলেকে আমি দীর্ঘ ১৩ বছর পর আমার বুকে ফিরে পেয়েছি। আমি অনেক দিন এই সাগর পারে পারে ছেলের খোঁজে দিন কাটিয়েছি। আজ আমার আর কোনোকিছু চাওয়ার নেই, আমার ছেলেটা এখন মানসিক অসুস্থ। আমি এখন ওরে চিকিৎসা করাবো। ও সুস্থ হলে বলতে পারবে এতদিন কোথায় ছিল। কুয়াকাটা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনির শরীফ বলেন, মিলন ২০০’৮ সালে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল, আজকে তাঁকে তার পরিবার তালতলী থেকে বাড়িতে নিয়ে আসছে। মিলনের বাবা-মা, পরিবারের লোক তার গায়ে থাকা যে কাটা দাগের কথা বলতেছে তা পুরোপুরি মিলে গেছে এবং তার সাথে কাজ করা জেলেদের মাধ্যমে আমি ওর পরিচয় নিশ্চিত হয়েছি।


এই বিভাগের আরো সংবাদ