• শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

বাঘায় ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা

news / ৪৬ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১

আবুল হাশেম, রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাঘায় এবার আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। পুরো উপজেলায় এখন আমের সমারোহ। বাগান জুরে আমের ফলন দেখে চাষি ও ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। কিন্তু তাদের সে হাসি স্থায়ী হয়নি। ক্রেতা সংকটে আমের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না চাষি ও ব্যবসায়ীরা। পানির দামে বিক্রি করতে হচ্ছে আম। ফলে হত্যাশ চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, আম এখাকার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, চট্রগাম, খুলনা, বরিশার, েফনি ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। গড়ে প্রতিদিন ৬০-৭০ টি আম বোঝায ট্রাক এ অঞ্চল থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে যায়। কিন্তু কভিড-১৯ এর কারনে ক্রেতার সংখ্যা কম দেখা দেয়ায় আমের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চরম হতাশায় চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

পৌর এলাকার বানিয়া পাড়া গ্রামের আম চাষি আক্কাছ আলী বলেন, চলতি মৌসুমে আমার ০৩ একর জমির আম বাগানে গোপালভোগ, হিমসাগর, নেংড়া, ফজলি, আশ্বিনী, লক্ষনভোগ সহ বিভিন্ন জাতের আম রয়েছে। এ মৌসুমে ন্যায্য দাম পেলে আমার প্রায় ৫ লাখ টাকার আম বিক্রি হবে আশা করেছি। কিন্তু ক্রেতা সংকট ও আমের দর পতনে ওই আম বিক্রি হয়েছে ৩ লাখ টাকায়।

উপজেলার পাকুড়িয়া এলাকার আম ব্যবসায়ী শফিকুল ইষলাম ছানা বলেন, চলতি বছর আমি প্রায় ৫০ লাখ টাকার আমের বাগান কিনেছি। ফলনও বাম্পার হয়েছে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি। কিন্তু আমের দরপতনে আমি চরম হতাশায়।

উপজেলার আমোদপুর এলাকার অনলাইন আম ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে ১০ লাখ টাকার আম কিনেছি কিন্তু অনলাইনে অডার পাচ্ছিনা। ফলে বিক্রি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। তবে এ মৌসুমে আমের দাম কম ও ক্রেতা সংকটের কারণ হিসেবে সাধারণ মানুসের করুন অর্থনৈতিক অবস্থা এর প্রধান মূল কারণ হিসেবে মনে করেন অভিজ্ঞ মহল।

উপজেলা কৃষি‌ অফিস সুত্রে জানা যায়, এ উপজেলায়-৮ হাজার ৩৭০ হেক্টর জ‌মিতে আমের গাছ রয়েছে। এতে ফলন্ত আমের গাছ রয়েছে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৩০০ এবং অফলন্ত গাছ রয়েছে ৬০ হাজার ১৪০ টির মতো। বর্তমানে বাগান আরো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। সরকারী ও ব্যক্তিগত মালিকানায় ছোট-বড় সাড়ে ৮ হাজার আমবাগান রয়েছে। এসব গাছ থেকে গত বছর ৮০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়ে‌ছিল। এ বছর ফলন দ্বিগুণ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলায় এবার আমের ফলন আড়াই লাখ মেট্রিকটন ছেড়ে যাবে বলে জানান চাষি ও ব্যবসায়ীরা। উপজেলাব্যাপী আম চাষে ব্যাপক বিস্তিৃতি লাভ করেছে। মাটি ও পরিবেশের কারণে এ উপজেলার আম আনুপাতিক হারে আকারে বড় হচ্ছে, দেখতে সুন্দর, খেতেও সুমিষ্টি।

উপজেলা কৃষি সম্পসারণ অফিসার কামরুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ বছর উপজেলায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ ছাড়া করোনা ভাইরাসের কারনে ক্রেতা সংকট আমের দরপতনে অন্যতম কারণ বরে মনে করা যেতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সফিউল্লা সুলতান বলেন, আম চাষ এবং আমের ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় এ অঞ্চলে দিন-দিন বানিজ্যিক ভাবে বাগান গড়ে উঠছে এবং অনেকেই আম ব্যবসার দিকে ঝুকছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আম এ অঞ্চলের অর্থকারী ফসলের প্রধান তালিকায় রয়েছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় প্রতিটি বাগানে পচুর আম ধরেছে এ এবছর আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। আম চাষি ও বাগান মালিকরা সরকারী ভাবে ঋণ সুবিধা পেলে আম চাষে আরো বেশী আগ্রহী হবেন।


এই বিভাগের আরো সংবাদ