ঢাকা ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বায়ু দূষণ বন্ধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার দাবি সবুজ আন্দোলনের

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সবুজ আন্দোলন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে ঢাকা শহরের বায়ু দূষণ বন্ধে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। অবস্থান কর্মসূচিতে সবুজ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার বলেন, বায়ু দূষণ ক্রমাগত ঢাকাসহ সারাদেশে অক্ষমতা এবং মৃত্যুর ঝুঁকির শীর্ষে স্থান করে নিয়েছে। দূষিত বায়ুর কারণে হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ফুসফুসের সংক্রমণ এবং ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢাকার বাতাসে সবচেয়ে বিপজ্জনক পিএম ২.৫—এর পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা পরিমাণের চেয়ে ১৬ গুণ বেশি। সর্বশেষ কয়েক মাসে ঢাকা শহর বারবার পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। বায়ু দূষণ বন্ধে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। এজন্য দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বায়ু দূষণ রোধে কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করলে পরিবেশ অধিদপ্তর ঘেরাও করা হবে।

অন্যান্য আলোচকরা বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নের কথা বললেও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত উদাসীন। বর্তমান ঢাকা শহর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সরকারের যে সকল উন্নয়ন প্রকল্প গুলো চলছে সেগুলো পরিবেশ বিপর্যয় করছে সব থেকে বেশি।

অবস্থান কর্মসূচিতে সবুজ আন্দোলনের পক্ষ থেকে বায়ু দূষণ বন্ধে নিম্নোক্ত প্রস্তাবনাসমূহ তুলে ধরা হয়—(১) ২০২৩ সালের মধ্যে ঢাকার চারপাশে শহর রক্ষা বাঁধে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলা এবং নদীর ব্যবহার বাড়াতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। (২) রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার জন্য ভ্যাকুয়াম সুইপিং ট্রাক ব্যবহার এবং শহরের বড় রাস্তা পরিষ্কার রাখতে দিনে দুইবার পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। (৩) ১০ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে আলাদা কমিশন গঠন এবং অর্থ বরাদ্দ অনুষ্ঠিত করতে হবে। (৪) প্রত্যেকটি আবাসন প্রকল্পে ২৫ ভাগ সবুজায়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে অভিযান পরিচালনা করতে হবে এবং সকলের বাড়ির ছাদে সবুজায়ন বাধ্যতামূলক করতে হবে। (৫) সকল পুরাতন যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা এবং অনিয়ন্ত্রিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ করতে হবে। (৬) ঢাকার চারপাশে অবস্থিত আন্তঃসংযোগ বায়ু দূষণ রোধে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সকল ইটভাটাকে নিষিদ্ধ করে পরিবেশবান্ধব ইটভাটা চালুর উদ্যোগ নেওয়া এবং উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। (৭) শহরের মধ্যে অবস্থিত সকল প্রকার গার্মেন্টস শিল্প ও কেমিক্যালের বর্জ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে স্থানান্তর করা ও মানব সৃষ্ট বর্জ্য রাখার জন্য ঢাকার চারপাশে জায়গা অধিগ্রহণ করতে হবে। (৮) সিটি কর্পোরেশনের সকল ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে মাসে চারবার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করা এবং তাদেরকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে বাধ্য করতে হবে। (৯) পরিবেশ অধিদপ্তরে পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগের ব্যবস্থা করা এবং পরিছন্নতা কর্মীদের জীবন মান উন্নয়নে স্বাস্থ্য বীমা চালু, বেতন বৃদ্ধি, তাদের সন্তানদের সুশিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। (১০) পরিবেশ ও বন অধিদপ্তর, জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ নিয়ে কাজ করে উল্লেখযোগ্য সংগঠনকে নিয়ে স্টেক হোল্ডার বডি তৈরি করতে হবে।

সবুজ আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সহ—দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে অবস্থান কর্মসূচিতে আরো বক্তব্য রাখেন বাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, সাবেক মন্ত্রী ও বিএলডিপির চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন আল আজাদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান আকাশ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান হামদুল্লাহ আল মেহেদী,এনডিএমের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন নুরুজ্জামান হিরা, গণ সমাজ পার্টির চেয়ারম্যান সরদার সামস আল মামুন, সবুজ আন্দোলনের পরিচালক অধ্যক্ষ নাদিয়া নূর তনু, প্রত্যাশার বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন, সবুজ আন্দোলনের পরিচালক অভিনেতা উদয় খান, শেখ এনামুল হক রনি, সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক নেতা সমীরণ রায়, সহ অর্থ সম্পাদক সালমা আক্তার শান্তা, কেন্দ্রীয় সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ও ছাত্র পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

আপলোডকারীর তথ্য

বায়ু দূষণ বন্ধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার দাবি সবুজ আন্দোলনের

আপডেট সময় ০২:১০:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ মার্চ ২০২৩

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সবুজ আন্দোলন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে ঢাকা শহরের বায়ু দূষণ বন্ধে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। অবস্থান কর্মসূচিতে সবুজ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার বলেন, বায়ু দূষণ ক্রমাগত ঢাকাসহ সারাদেশে অক্ষমতা এবং মৃত্যুর ঝুঁকির শীর্ষে স্থান করে নিয়েছে। দূষিত বায়ুর কারণে হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ফুসফুসের সংক্রমণ এবং ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢাকার বাতাসে সবচেয়ে বিপজ্জনক পিএম ২.৫—এর পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা পরিমাণের চেয়ে ১৬ গুণ বেশি। সর্বশেষ কয়েক মাসে ঢাকা শহর বারবার পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। বায়ু দূষণ বন্ধে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। এজন্য দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বায়ু দূষণ রোধে কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করলে পরিবেশ অধিদপ্তর ঘেরাও করা হবে।

অন্যান্য আলোচকরা বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নের কথা বললেও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত উদাসীন। বর্তমান ঢাকা শহর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সরকারের যে সকল উন্নয়ন প্রকল্প গুলো চলছে সেগুলো পরিবেশ বিপর্যয় করছে সব থেকে বেশি।

অবস্থান কর্মসূচিতে সবুজ আন্দোলনের পক্ষ থেকে বায়ু দূষণ বন্ধে নিম্নোক্ত প্রস্তাবনাসমূহ তুলে ধরা হয়—(১) ২০২৩ সালের মধ্যে ঢাকার চারপাশে শহর রক্ষা বাঁধে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলা এবং নদীর ব্যবহার বাড়াতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। (২) রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার জন্য ভ্যাকুয়াম সুইপিং ট্রাক ব্যবহার এবং শহরের বড় রাস্তা পরিষ্কার রাখতে দিনে দুইবার পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। (৩) ১০ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে আলাদা কমিশন গঠন এবং অর্থ বরাদ্দ অনুষ্ঠিত করতে হবে। (৪) প্রত্যেকটি আবাসন প্রকল্পে ২৫ ভাগ সবুজায়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে অভিযান পরিচালনা করতে হবে এবং সকলের বাড়ির ছাদে সবুজায়ন বাধ্যতামূলক করতে হবে। (৫) সকল পুরাতন যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা এবং অনিয়ন্ত্রিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ করতে হবে। (৬) ঢাকার চারপাশে অবস্থিত আন্তঃসংযোগ বায়ু দূষণ রোধে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সকল ইটভাটাকে নিষিদ্ধ করে পরিবেশবান্ধব ইটভাটা চালুর উদ্যোগ নেওয়া এবং উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। (৭) শহরের মধ্যে অবস্থিত সকল প্রকার গার্মেন্টস শিল্প ও কেমিক্যালের বর্জ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে স্থানান্তর করা ও মানব সৃষ্ট বর্জ্য রাখার জন্য ঢাকার চারপাশে জায়গা অধিগ্রহণ করতে হবে। (৮) সিটি কর্পোরেশনের সকল ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে মাসে চারবার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করা এবং তাদেরকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে বাধ্য করতে হবে। (৯) পরিবেশ অধিদপ্তরে পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগের ব্যবস্থা করা এবং পরিছন্নতা কর্মীদের জীবন মান উন্নয়নে স্বাস্থ্য বীমা চালু, বেতন বৃদ্ধি, তাদের সন্তানদের সুশিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। (১০) পরিবেশ ও বন অধিদপ্তর, জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ নিয়ে কাজ করে উল্লেখযোগ্য সংগঠনকে নিয়ে স্টেক হোল্ডার বডি তৈরি করতে হবে।

সবুজ আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সহ—দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে অবস্থান কর্মসূচিতে আরো বক্তব্য রাখেন বাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, সাবেক মন্ত্রী ও বিএলডিপির চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন আল আজাদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান আকাশ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান হামদুল্লাহ আল মেহেদী,এনডিএমের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন নুরুজ্জামান হিরা, গণ সমাজ পার্টির চেয়ারম্যান সরদার সামস আল মামুন, সবুজ আন্দোলনের পরিচালক অধ্যক্ষ নাদিয়া নূর তনু, প্রত্যাশার বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন, সবুজ আন্দোলনের পরিচালক অভিনেতা উদয় খান, শেখ এনামুল হক রনি, সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক নেতা সমীরণ রায়, সহ অর্থ সম্পাদক সালমা আক্তার শান্তা, কেন্দ্রীয় সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ও ছাত্র পরিষদের নেতৃবৃন্দ।