বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

বিশ্বনাথের খাজাঞ্চীতে কমিউনিটি ক্লিনিক ইনচার্জ রুমানার অনিয়ম ও সেচ্ছাচারিতায় সেবা বঞ্চিত কয়েকশত পরিবার

Muktir Lorai / ৯৮ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১

মুহাম্মদ সায়েস্তা মিয়া, বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধিঃ সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিক ইনচার্জ রুমানা আক্তারের খামখেয়ালীপনা, দূর্নীতি, অনিয়ম ও সেচ্ছাচারিতার কারনে দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত।

দীর্ঘদিন যাবত সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন গর্ভবতী মায়েরা, নবজাতক, প্রজননস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা সেবা, পুষ্টিবিষয়ক সহ প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা গ্রহীতারা।

জানা গেছে, খাজাঞ্চী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কেন্দ্রীক কুমারপাড়ায় অবস্থিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মীদের অনিয়ম ও দূর্ণীতির কারণে এলাকার চিকিৎসা সেবা গ্রহীতারা এখন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এখানের দায়িত্বরত সেবাদাতাগণ অদৃশ্য কারণে অনুপস্থিত থাকেন হরহামেশা। সপ্তাহে দু-একদিন এসে দরজা খুলে বড়জোর ঘন্টা দুয়েক পর দরজায় তালা দিয়ে ফিরে যান। যেসকল ঔষধ রোগীদের দেওয়ার কথা তা তারা পান না। কমিউনিটি ক্লিনিক কেন্দ্রিক যে সকল সেবা পাওয়ার কথা তার অনেকটাই দিতে অপারগ কর্মকর্তাগন। এছাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তার দপ্তরে রোগী রেফার করার অভিযোগ ও তাদের বিরুদ্ধে।

খাজাঞ্চী ইউনিয়নের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত কুমারপাড়া, প্রতাবপুর, নোয়ারাই, মদনপুর, রায়পুর, চন্দ্রগ্রাম, হামদরচক, ভোলাগঞ্জ, কাবিলপুর, কুরিখলা, গনাইঘর তেঘরী সহ ইউনিয়নের ১-২-৩ নং ওয়ার্ডের নারী পুরুষের প্রাথমিক চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল এই ক্লিনিকে সেবা বঞ্চিত হয়ে এলাকাবাসী হতাশায় ভোগছেন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ক্লিনিকের দরজা বন্ধ। গরু রাখাল পুরুষেরা দরজায় বসে দিন কাটাচ্ছেন। ক্লিনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে তার বিস্তারিত। ক্লিনিকের পাশ্ববর্তী কুমারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাজন আহমদ বলেন, এখানে যারা ডাক্তার আছেন তারা সপ্তাহে দু-তিনদিন আসেন। সকাল ১১টা কিংবা সাড়ে ১১টায় কেউ আসেন আবার চলেও যান জোহরের পরপর। রোগীদের ঔষধ দিতে চান না। যা দেন তা যৎসামান্য। অনেকের কাছ থেকে টাকাও নেন। একি মন্তব্য করেন আরেক গ্রামবাসী ফারুক মিয়া। এছাড়াও নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুমারপাড়র একজন মহিলা চিকিৎসা প্রার্থী বলেন, আমি আজ তিনদিন এখানে এসে কোন ডাক্তার পাইনি। যতবার এসেছি ততবারই দরজা বন্ধ পেয়েছি। এরকম ক্লিনিক এখানে থাকার চেয়ে না থাকাই ভাল।

অভিযোগের বিষয়ে কুমারপাড়া ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক রুমানা আক্তারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি নিয়মিত ডিউটি পালন করছি এবং সেবা প্রদান করে আসছি। কে বা কারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এধরণের কিছু হলেতো ক্লিনিক পরিচালনা কমিটি আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্তা নেবে।

এব্যাপারে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা ঊষারানী তালুকদার জানান, এখানে আমি মাসে দু-একবার যাই। এখানে গেলে অনেক সময় দরজা খোলার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়। এছাড়া এখানে কর্মরত চিকিৎসক রোগী আমার কাছে রেফার করে দেন যেটা অনেক রোগী আমার কাছে এসে বলে যে তাদের কুমারপাড়া থেকে এখানে পাঠিয়েছেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াসউদ্দিন জানান, এরকম অভিযোগ অনেকেই করছেন। আমরা তাদেরকে সতর্ক করার চেষ্টা করে ও কোন ফল হচ্ছে না।


এই বিভাগের আরো সংবাদ
Translate »
Translate »