বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষন ও তার বোনকে হত্যার বিচার চেয়ে আ.লীগ নেতার বিরুদ্বে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার: পাবনায় জেলায় আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দেবোত্তর ইউপি চেয়ারম্যান চঞ্চল বিয়ের প্রলোভনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষন ও হত্যা চেষ্টা এবং তারই বড় বোন আদুরী কে হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন।

জানা গেছে, পাবনা আটঘরিয়ার মোঃ রিফাত উদ্দিনের মেয়ে ও চট্টগ্রাম ভেটারিনারি অ্যান্ড এ্যনিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষন ও পরে হত্যার চেষ্টার করেন আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দেবোত্তর ইউপি চেয়ারম্যান চঞ্চল।

এ অভিযোগে বুধবার ওই ছা্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমার বড় বোন আদুরী খাতুনের সাথে বর্তমান চেয়ারম্যান আবু হামিদ মোঃ মোহাইম্মীন হোসেন চঞ্চল এর যোগাযোগের সুত্র ধরেই আমাদের পরিবারের সাথে সম্পর্ক। চেয়ারম্যান চঞ্চল একজন প্রতারক, ধর্ষক ও হত্যাকারী। তিনি ধুরন্ধর ও শঠতার আশ্রয় নিয়ে আমার বড় বোন আদুরী খাতুনকে হত্য করলেও আমরা এতোদিন বুজতেই পারিনি। কছিুদিন পূর্বে আদুরী বেগমের হাতের লেখা ডায়রী থেকে আদুরী বেগমের হত্যাকারী দেবোত্তর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্য চঞ্চলই বলে জানতে পারি। আমার বড় বোন আদুরী হত্যার বিচার প্রার্থনা করছি।

তিনি বলেন, পাবনার আটারিয়া উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান আবু হামিদ মোঃ মোহাইম্মনী হোসেন চঞ্চল শঠতার আশ্রয় নিয়ে আমার বোনকে বিয়ে করবে আশ্বাস দিয়ে ২০১২ ইং সালে বেড়াতে নিয়ে যায় পাবনা শহরে। সেখানে অজ্ঞাত এক বাড়িতে তার বোনকে চঞ্চল ধর্ষণ করে। বোন বাড়িতে ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বোনকে মৃত ঘোষণা করেন। বোনের মৃত্যুকে আমরা স্বাভাবিকভাবেই মেনে নেই। কারণ তখন আমরা বিষয়টি জানতাম না। বোন মারা যাওয়ার পর চঞ্চল সান্তনা দিতে আমাদের বাড়িতে যাতায়াত করতে থাকেন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত এভাবেই সামাজিক সর্ম্পক চলে আসছিল।এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় আমরাও বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই মেনে নেই। এক পর্যায়ে চঞ্চল আমাকে বলেন, আদুরীকে তার বিয়ে করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু মারা যাওয়ার কারণে সেটি যেহেতু আর সম্ভব হয়নি। এজন্য তিনি আমাদের পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তা করতে প্রস্তাব দেন। এতে করে আমার সঙ্গে চঞ্চলের স্বাভাবিক সর্ম্পক হয়।পরে তা প্রেমের সর্ম্পকে গড়ায়। বিয়ে হওয়ার বিষয়টি এক প্রকার নিশ্চিত। একদিন আমাকে বেড়ানোর কথা বলে পাবনা শহরে নিয়ে যায়। সেখানে জোরপূর্বক আমার সঙ্গে অবৈধ শারীরিক সর্ম্পক স্থাপন করে এবং তা মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখে। সেই সুযোগ নিয়ে বার বার আমার সঙ্গে অনৈতিক শারীরিক সর্ম্পক স্থাপন করতে প্রস্তাব দিতে থাকে। পাশাপাশি নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। এতদিন পর বোনের ডায়েরী পাওয়ার পর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আমার বোনের মৃত্যুর জন্য চঞ্চলেই দায়ী বলে জানতে পারি।
আমার বড় বোনের সাথে চঞ্চলের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বড় বোনকে ধর্ষন করে সুকৌশনে খাবারের পয়জোনীং করে মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু তিনি এলকায় প্রভাবশালী ও সুচতুরতার কারণে আমরা বুজতেই পারেনি। মৃত্যুর বেশকিছুদিন পর বড় বোনের ডায়রী থেকে পুরো বিষয়টি জানতে পারি।
বিষয়গুলো জানার পরে আমরা বোনের হত্যাকারীর সাথে সম্পর্ক না রেখে বিচার প্রার্থী হওয়ায় আমি ও আমার পরিবার স্থানীয় প্রশাসনের কাছে গেলে চেয়ারম্যন তার প্রভাব খাটিয়ে তারে রোধ করেন। এখন তিনি বিভিন্ন অপকৌশনের আশ্রয় নেন তার মধ্যে বিবাহ করে নাই অথচ তালাক নামা পাঠিয়েছে।বিভিন্ন মাধ্যমে আমি এবং আমার পরিবারকে এখনও ভয়ভীতি হুমকি অব্যহত রেখেছেন।
ধর্ষক চেয়ারম্যান প্রভাবশালী ও ধুরন্ধর হওয়ায় আমার পরিবার অসহায় ও আমার এলকায় প্রশাসন নিরব বিধায় ঢাকায় এসে সংবাদ সম্মেলন করতে হচ্ছে আমাদের।আজ এই সংবাদ সম্মেলনে সংবাদিক,প্রশাসন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করে চঞ্চল চেয়ারম্যান কর্তৃক বড় আদুরী হত্যার সুষ্ঠ বিচার প্রার্থনা ও দৃষ্টান্তমূল্যক শাস্তি প্রার্থনা করছি। আপনারা জাতির বিবেক ও অসাহয়ের বন্ধু তাই আমার বড় বোন হত্যার বিচার ও আমাকে ধর্ষণ হত্যাচেষ্টা সহ হুমকি দেওয়ার বিচার চেয়ে আপনাদের দ্বারে উপস্থিত হয়েছি। আমি হত্যাকারী বিচার চাই আমি ধর্ষকের বিচার চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *