• মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
শিরোনাম
খুলশীতে দশম শ্রেনীর ছাত্রীকে অপহরণের সময় চারজন আটক : ভিকটিম উদ্ধার রাজশাহীতে বন্ধগেট – সিটি হাট পর্যন্ত সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ কাজের উদ্বোধন হাতিয়ায় ইউপি নির্বাচনে বিজয়ী হলেন যাঁরা শ্রীবরদীতে ইউএনওর হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল ৮ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী অনেক আকাংখার কন্যা সন্তানকে কোলে নেয়া হলো না পিতা আতিক মুন্সীর কাজী আনাস, ইসলামিক নাশিদ অঙ্গনে এক উদীয়মান নাম বাঘাইছড়ি মৎস্যচাষী সমবায় সমিতির মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে গোপালগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের নব নির্বাচিত কমিটির শ্রদ্ধা দিঘলিয়ায় ইউপি নির্বাচনে আ.লীগর এক বিদ্রোহী পাঁচ প্রার্থীর জয়লাভ মুরাদনগরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে চাচীকে জখম করায় ভাতিজা গ্রেফতার
বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

ভান্ডারিয়ায় করোনা অাক্রান্ত বৃদ্ধের মৃতদেহ হিন্দু রীতিতেই সৎকার করল মুসলিম যুবকরা

Muktir Lorai / ৩৮ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার, ৯ জুলাই, ২০২১

মোঃ ফেরদৌস মোল্লা, পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকেল ৪ টায়া করোনা আক্রান্ত চিত্তরঞ্জন সাহা (৫৮) নামে এক ব্যক্তি মৃত্যু হলে স্বজনের কেউ এগিয়ে না আসায় ভান্ডারিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিম সকল ধর্মীয় রিতিনীত পালন করে মৃতদেহের সৎকার করে।

চিত্তরঞ্জন সাহা বাড়ি পাশ্ববর্তী রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের কানুদাসকাঠী গ্রামে। বিকালে মৃতদেহ নিয়ে বড়িতে রওনাদিলে তৈরি হয় নতুন বিপত্তি। করোনা ছড়ানোর আতঙ্কে মৃত দেহ বাড়িতে প্রবেশ করতে দিতে রাজি নন বাড়ি অন্য সদস্যরা। পরে মেডিকেল টিমের সদস্যরা ভান্ডারিয়া সরকারি শ্মশানে হিন্দু রীতিতেই সৎকার করে ।

চিত্তরঞ্জন সাহার স্ত্রী তারারানী সাহা জানান, করোনার কারণে আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। করোনা ছড়ানোর আতঙ্কে মৃত দেহ বাড়িতে আনতে দিতে রাজি হয়নি বাড়ির লোকজন। একবারের জন্য মৃতদেহ দেখতেও আসেননি। সৎকারের সময়ও তারা ছিলেন না। তিনি বলেন, হাসপাতালের লোকজন কাঁধে করে আমার স্বামীর মৃতদেহ বহণ করেছেন।

চিত্তরঞ্জন সাহা বাড়ি সদস্য গৌতম সাহা জানান, আমাদের বাড়িতে দশ জন ৫০ উর্ধ্ব সদস্য রয়েছেন। করোনা ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় করোনা ছড়ানোর আতঙ্কে সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেনারেল যে শ্মশানঘাট আছে সেখানে দাফন করান জন্য।

মেডিকেল টিমের সদস্য তুহিন তালুকদার শামীম জানান, একজন সনাতন ধর্মের লোক ভান্ডারিয়া হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা যায়। মৃতদেহের সৎকার করার মতো তেমন কেউই ছিলোনা। সাথে তার স্ত্রী ছিলো, আমরা মেডিকেল টিমের ৫ জন সদস্য মৃতদেহ নিয়া শ্মশানে যাই, শ্মশানে যাওয়ার পথ খুবই খারাপ কাদা, হাটু সমান পানি ও জঙ্গলের ভিতর দিয়া খুব কষ্ট করে মৃতদেহ নিয়া শ্মশানে পৌঁছাই। তার ছেলে সেখানে উপস্থিত ছিলো। একবারের জন্য হলেও কেউই লাশের স্টেচার ছুয়ে দেখেনি। লাশের তো সৎকার করতেই হবে, আমরা সবাই ছিলাম মুসলিম ধর্মের আর মৃতদেহ ছিলো হিন্দু ধর্মের, এ এক কঠিন পরীক্ষা ছিলো আমাদের সদস্যদের মাঝে। হিন্দু রীতিনীতে মেনে কবর খুড়ে মাটিচাপা দেওয়াটা আমাদেরই করতে হয়েছে।

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ননী গোপাল রায় সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মো. তুহিন তালুকদার শামীম, মো. মুসা গাজী,আসাদুজ্জামান,পরাগ হোসেন ও নাইম নামের আমাদের মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা মৃতের লাশ কাঁধে করে শশ্মানে নিয়ে মৃতের স্ত্রী’র উপস্থিতিতে ধর্মীয় রিতি মেনে তার ছেলে মুখাগ্নি করার পরে মৃতের লাশ দাফন সম্পন্ন করে।


এই বিভাগের আরো সংবাদ