ভুল অপারেশনে কুমিল্লা গোমতী হাসপাতালে পিএইচডি গবেষক তরুণের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লা নগরীর গোমতী প্রাইভেট হাসপাতালে পাইলসের ভুল অপারেশনে মেহেদী হাসান নামের এক মেধাবী তরুণের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বুয়েট থেকে পাস করে কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণারত ছিলেন।

মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সংশ্নিষ্ট চিকিৎসক আবু বকর সিদ্দিক ফয়সাল ভুল স্বীকার করে রোগীর স্বজনদের কাছে কান্নাকাটি করে ক্ষমা চান বলে পরিবার জানিয়েছে। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়।

মেহেদী হাসান জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের সবুজপাড়া গ্রামের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আলী আক্কাসের ছেলে। বুধবার দুপুরের দিকে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃতের পরিবার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানায়। মেহেদীর ছোট ভাই নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ছাত্র কামরুল হাসান বলেন, ‘ডা. আবু বকর আমাদের কাছে ভুল স্বীকার করে অনেকবার দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমরা এ মৃত্যুর ঘটনায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েছি। আমরা ন্যায়বিচার পাব না বলে আশঙ্কা করছি।’

তিনি জানান, তার ভাই কুমিল্লা ইস্পাহানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে বুয়েটে ভর্তি হন। সেখান থেকে পাস করার পর বৃত্তি নিয়ে কানাডায় যান। তিনি সেখানকার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় পিএইচডি শেষ পর্বে ছিলেন। গত বছরের ২২ মে তিনি দেশে ফেরেন এবং করোনার কারণে বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই অবস্থান করে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতেন।

স্বজনরা জানান, অসুস্থ অবস্থায় গত রোববার মেহেদীকে নগরীর গোমতী নামের একটি প্রাইভেট হাসপাতালের খণ্ডকালীন চিকিৎসক ও জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্জারি কনসালট্যান্ট ডা. আবু বকরের অধীনে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরদিন বিকেলে তার পাইলসের অপারেশন হয়। তাকে চার ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে গভীর রাতে তাকে নগরীর সিডিপ্যাথ নামের একটি প্রাইভেট হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। এখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

মৃতের চাচাতো ভাই পলাশ হাসান সাংবাদিকদের জানান, মেহেদী হাসানের মৃত্যুর পর ডা. আবু বকর তাদের কাছে ভুল অপারেশনে মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে কান্নাকাটি ও অনুশোচনা করেন। এ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা চালায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা অভিযোগ না করার জন্য পীড়াপীড়ি করেন।

ঘটনার বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত চিকিৎসকের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে গোমতী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘এ মৃত্যুর বিষয়ে আমি ডাক্তারের পক্ষে সাফাই গাইব না, ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে তাও স্বীকার করব না এবং ভুল ব্যাখ্যাও দেব না। অনেক কারণে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। ডাক্তার ইচ্ছা করে ভুল করে না। তবে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

কুমিল্লার সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসেন বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে তিনি জানেন না। ডা. আবু বকরের সরকারি কর্মস্থল কোথায় তাও তার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনও অভিযোগ পাননি। পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *