ঢাকা ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo রণাঙ্গনের বিজয়গাথা: ৮ ডিসেম্বর—মুক্তির সোপানে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বহু জনপদ Logo চান্দিনা পৌরসভার জন্ম নিবন্ধনে প্রায়ই বন্ধ থাকে সার্ভার, ভোগান্তিতে সেবা গ্রহীতারা Logo মহেশখালীতে গভীর সমুদ্রে ডাকাতের কবলে পড়া ১১ জন জেলে উদ্ধার Logo শাহরাস্তিতে ২ শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক আটক Logo লালমনিরহাটে বৈষম্যমুলক নিয়োগ প্রক্রিয়া ও নিয়োগ পরিক্ষা বাতিল চেয়ে মানববন্ধন Logo বুড়িচংয়ে পরকীয়া প্রেমের জেরে প্রবাসীর কবজি কেটে দিল প্রেমিক ও তার ভাই Logo সুনামগঞ্জে গানে গানে বাউল কামালের ১২৪ তম জন্মবার্ষিকী পালিত Logo মুরাদনগরে বিএনপি’র দোয়া মাহফিল থেকে সাংবাদিকের মোটরসাইকেল চুরি Logo বরুড়ায় ৭ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত দিবস পালিত Logo বেগমগঞ্জে কবর থেকে বস্তাবন্দি একনলা বন্দুক-পাইপগান উদ্ধার

মুরাদনগরে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কলেজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও শিক্ষাবিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগে অধ্যক্ষ মনিরুল হক সরকার ও সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রশিদকে অপসারনের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে অভিযোগ করেছেন সাধারন শিক্ষার্থীরা। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর থেকে ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা দুই শিক্ষকের পদত্যাগসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়ে প্রতিদিন চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন কর্মসূচি। অভিযুক্ত মনিরুল হক সরকার কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোড়ের পাড় আদর্শ বিশ^বিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ।

অভিযোগ রয়েছে, অধ্যক্ষ মনিরুল হক সরকার ও তার সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রশিদ পরস্পর যোগসাজসে দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে কলেজের অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি, নিয়োগ, স্বেচ্ছাচারিতা জড়িত থেকে কলেজে শিক্ষার পরিবেশ সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট করেছেন। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক মহল, কর্মকর্তা কর্মচারীর, কিছু শিক্ষকবৃন্দ এলাকাবাসী অভিযোগ করেও এর কোন সুরাহা হয়নি।
সকল ক্ষেত্রে অধ্যক্ষ মাউশি ও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত ফি হতে অতিরিক্ত টাকা ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট হতে জোরপূর্বক সংগ্রহ করতেন। চলতি বছরে দ্বাদশ শ্রেণীর ভর্তি ফি ১৫০০ টাকা নির্ধারিত করা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৫শত টাকা। ২০১৬ সালে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ দুর্নীতির অভিযোগ হলে গঠিত তদন্ত কমিটি সার্বিক তদন্তে অর্থ আত্মসাৎ দুর্নীতি প্রমাণিত হলেও তৎকালীন সরকারদলীয় এমপি’র হস্তক্ষেপে অধ্যক্ষ এ অভিযোগের দামাচাপা দেন।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দেশব্যাপী সংস্কার কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে অত্র প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীবৃন্দ পুনরায় অধ্যক্ষ ও তার সহযোগী আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুললে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগী ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, কোন শিক্ষার্থী শিক্ষক বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিলে সেনাবাহিনী ডেকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলেজটিতে আইসিটি ল্যাব থাকলেও একদিনের জন্য আইসিটি ল্যাবের ব্যবহার না করে পরীক্ষায় আইসিটি ২৫ নম্বর প্রধানের নিশ্চয়তায় আইসিটি শিক্ষকের মাধ্যমে প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রী হতে অতিরিক্ত ৫ শত টাকা করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে নেয়া হয়।

তাছাড়া অধ্যক্ষ মনিরুল হক সরকার অত্র কলেজে যোগদান করার পূর্বে আবিদপুর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে চাকরিরত থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে। সে অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের হয়।

এ বিষয়ে কোড়ের পাড় আদর্শ বিশ^বিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুল হক সরকার বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ বানানো। বর্তমানে কলেজের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে যে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে তা আমি মেনে নেব।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত উদ্দিন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রণাঙ্গনের বিজয়গাথা: ৮ ডিসেম্বর—মুক্তির সোপানে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বহু জনপদ

SBN

SBN

মুরাদনগরে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কলেজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৫:৫৩:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও শিক্ষাবিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগে অধ্যক্ষ মনিরুল হক সরকার ও সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রশিদকে অপসারনের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে অভিযোগ করেছেন সাধারন শিক্ষার্থীরা। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর থেকে ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা দুই শিক্ষকের পদত্যাগসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়ে প্রতিদিন চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন কর্মসূচি। অভিযুক্ত মনিরুল হক সরকার কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোড়ের পাড় আদর্শ বিশ^বিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ।

অভিযোগ রয়েছে, অধ্যক্ষ মনিরুল হক সরকার ও তার সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রশিদ পরস্পর যোগসাজসে দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে কলেজের অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি, নিয়োগ, স্বেচ্ছাচারিতা জড়িত থেকে কলেজে শিক্ষার পরিবেশ সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট করেছেন। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক মহল, কর্মকর্তা কর্মচারীর, কিছু শিক্ষকবৃন্দ এলাকাবাসী অভিযোগ করেও এর কোন সুরাহা হয়নি।
সকল ক্ষেত্রে অধ্যক্ষ মাউশি ও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত ফি হতে অতিরিক্ত টাকা ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট হতে জোরপূর্বক সংগ্রহ করতেন। চলতি বছরে দ্বাদশ শ্রেণীর ভর্তি ফি ১৫০০ টাকা নির্ধারিত করা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৫শত টাকা। ২০১৬ সালে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ দুর্নীতির অভিযোগ হলে গঠিত তদন্ত কমিটি সার্বিক তদন্তে অর্থ আত্মসাৎ দুর্নীতি প্রমাণিত হলেও তৎকালীন সরকারদলীয় এমপি’র হস্তক্ষেপে অধ্যক্ষ এ অভিযোগের দামাচাপা দেন।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দেশব্যাপী সংস্কার কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে অত্র প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীবৃন্দ পুনরায় অধ্যক্ষ ও তার সহযোগী আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুললে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগী ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, কোন শিক্ষার্থী শিক্ষক বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিলে সেনাবাহিনী ডেকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলেজটিতে আইসিটি ল্যাব থাকলেও একদিনের জন্য আইসিটি ল্যাবের ব্যবহার না করে পরীক্ষায় আইসিটি ২৫ নম্বর প্রধানের নিশ্চয়তায় আইসিটি শিক্ষকের মাধ্যমে প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রী হতে অতিরিক্ত ৫ শত টাকা করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে নেয়া হয়।

তাছাড়া অধ্যক্ষ মনিরুল হক সরকার অত্র কলেজে যোগদান করার পূর্বে আবিদপুর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে চাকরিরত থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে। সে অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের হয়।

এ বিষয়ে কোড়ের পাড় আদর্শ বিশ^বিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুল হক সরকার বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ বানানো। বর্তমানে কলেজের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে যে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে তা আমি মেনে নেব।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত উদ্দিন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।