রূপগঞ্জে স্বজন হারা শ্রমিকদের বেতন দিয়েই দায়িত্ব শেষ না কেরতে করখানা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ

রাকিবুল ইসলাম, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: অগ্নিকান্ডে বিধ্বস্ত সজিব গ্রুেপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড লিমিটেডের সেজান জুস কারখানার বেতন দেওয়ার খবর পেয়ে ১৩ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই কারখানার সামনে ভিড় করতে থাকেন হাজারো শ্রমিক। দুপুরের পর শ্রমিকদের জুন মাসের বেতন দেওয়া শুরু করেন কর্তৃপক্ষ। যে সকল শ্রমিকরা মঙ্গলবার বেতন নিতে পারেনি তাদেরকে বুধবার সকালে পরিশোধ করা হয়। বেতন পেয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার বিকালে আগুন থেকে বাঁচতে ছয় তলা ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে লাফিয়ে পড়েন কারখানার প্রোডাকশন সুপারভাইজার আশরাফুল ইসলাম। বর্তমানে কোমর ও পিঠে ভাঙা অবস্থায় তিনিসহ ছয় জন রূপগঞ্জের ইউএস বাংলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, আগামী ২১ জুলাই ঈদ উদযাপন হবে, তবে আমাকে হাসপাতালে থাকতে হবে। আমার কোমর পিঠে প্রচন্ড ব্যথা। চিকিৎসকরা দুই মাস বিছানায় শুয়ে বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন। আমার আবার ঐদ কিসের। করখানা কর্তৃপক্ষ বেতন দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ। এখন আমার পরিবারের খরচ কে বহন করবে। এখন আমার চিকিৎসা খরচ কে দেবে?
কারখানার শ্রমিক মফিজুল ইসলাম ও সাইদ মিয়া বলেন বলেন, সাড়ে তিন বছর ধরে জুস তৈরির শাখার কাজ করছি। এখন কারখানায় কোন কাজ হচ্ছে না। যদি কারখানা আবার কার্যক্রম শুরু না করে আমরা কীভাবে আমাদের পরিবার নিয়ে বাঁচবো? বাড়ি ভাড়া ও দোকান বাকি কিভাবে পরিশোধ করবো। তাছাড়া, গ্রামে থাকা আমার বাড়ির সদস্যরাও আমার কাছ থেকে টাকা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা কি এবার তাহলে অনাহারে মারা যাবো এমন প্রশ্ন মফিজুলের মতো আরো অনেকের।
হাসেম ফুড লিমিটেডের সিনিয়র ব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন) এফ এম এ মুরাদ বলেন, গত মঙ্গলবার থেকে বেতন দেওয়া আরম্ভ করেছি। কর্তৃপক্ষ জুন মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার যারা বেতন নিতে পারেনি তাদেরকে বুধবার সকালে বেতন পরিশোধ করা হবে। আজ ১৫ জুলাই বৃহস্পতিবার ওভারটাইম এবং আগামী ১৬ জুলাই শুক্রবার ঈদ বোনাস দেওয়া হবে। আহত শ্রমিকেরা আসতে না পারলে তাদের পরিচয়পত্র দিয়ে স্বজনেরা বেতন নিতে পারবেন। যারা পরিচয়পত্র হারিয়েছেন বা পুড়ে গেছে, তাদের আইডি নাম্বর বললে বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে মধ্যেই বেতন পরিশোধের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সড়কে যানজটের কারণে অনেক শ্রমিক আসতে পারে নাই। তারপরও কোন শ্রমিক যদি বেতন না পেয়ে থাকে তাহলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা তার বেতন পরিশোধ করে দিবো।
এ বিষয়ে কারখানার ম্যানেজার নাহিদ মুরাদ বলেন, এখন মালিকসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তারা কারাগারে আছেন। আমাদের মালিক কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃতদের পরিবার ও আহতদের সহায়তা করবেন। তারপরেও আমরা চেষ্টা করছি কারখানাটি কিভাবে পূনরায় চালু করা যায়। বেতন পরিশোধের পর কারখানা চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সময় লাগবে। এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *