সরাইলের কুখ্যাত ডাকাত গোলাপ গ্রেফতার

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ সরাইলের কুখ্যাত ডাকাত গোলাপ কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গত শনিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে পৌর শহরের ঘাটুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের মনিরবাগ এলাকার অহিদ মিয়ার ছেলে গোলাপ। পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে আত্মগোপন করে জেলা সদরে বসবাস করছিল।
তার বিরুদ্ধে ডাকাত দল গঠন ও কৌশলে ডাকাত দলের সদস্যদের ফাঁদে ফেলে মোটা অংকের টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। গোলাপের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা, নাসিরনগর থানা ও সরাইল থানায় ৮টি ডাকাতির মামলা রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ১৮-২০ বছর বয়স থেকেই ডাকাতি পেশায় জড়িয়ে পড়ে গোলাপ। সেই সময় সরাইল-নাসিরনগর সড়কে ও বিভিন্ন বাড়ি ঘরে ডাকাতি করত। কয়েক বছর পরই গোলাপ ডাকাতের একটি বড় দল গঠন করে বসে। পাশাপাশি অন্যান্য দলের ডাকাতির কমিশন নিতে শুরু করে। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ সেপ্টেম্বর চুন্টার ইটালি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতিকালে হাতেনাতে ধরা পড়ে যায়। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়। যার মামলা নম্বর দায়রা-৪১৭/২০১০ খ্রি. চলমান আছে। ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে ডাকাতিকালে ধুরন্তীর কুইট্রা ব্রিজের নিকটে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। যার মামলা নম্বর-২১৮/২০১১। আস্তে আস্তে সমগ্র জেলার ডাকাত দলের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে গোলাপের। একসময় অন্য জেলায়ও ভাড়ায় ডাকাতি করার ডাক পায়। হয়ে ওঠে আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সদস্য।

শুধু সিলেটেই গোলাপের বিরুদ্ধে ৪-৫টি মামলা হয়েছে। দেশের অন্যান্য জেলায়ও ডাকাত গোলাপের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। একসময় সরাইল এলাকায় বিভিন্ন সড়কের ডাকাত দলের সর্দার ও গডফাদার বনে যান। গত ৭-৮ বছর আগে সরাইল-নাসিরনগর সড়ক, সরাইল-অরুয়াইল সড়ক ও হাইওয়ে সড়ককে অশান্ত করে তুলে গোলাপ। ডাকাত দলকে ২-৩ ভাগে বিভক্ত করে ডাকাতির দায়িত্ব দিয়ে চলে যায়। ডাকাত দলের হর্তাকর্তা হিসেবে পুলিশের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয় গোলাপ। পরবর্তীতে নিজেকে রক্ষার জন্য কৌশলে পুলিশের সোর্স হয়ে কাজ করার চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি। চারিদেকের ডাকাতিতে গোলাপের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় ৫-৬ বছর আগে পুলিশের হিট লিস্টে চলে যায় সে। তখন জেলা শহরে বসে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। মাদকের পাশাপাশি জেলার উপজেলা গুলো থেকে ডাকাতি মামলার হাজিরা দিতে আসা ডাকাত দলের সদস্য বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার ও জেলে পাঠানোর ভয় দেখায়। টাকা দিলে মিলে ছাড়। না দিলেই ফাঁদে ফেলে। বিভিন্ন ভাবে মানুষকে মাদক, মেয়ে দিয়ে ফাঁসিয়ে টাকা কামিয়ে নিতে শুরু করে । এমন শত অভিযোগ করে ডাকাত দলের সমস্যরা।

সরাইল থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন যোগদানের পর দেড়/দুই মাসে ১৫-২০ জন ডাকাত গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়েছেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে পৌরশহরের ঘাটুরা এলাকায় অভিযান চালান ওসি মো. আসলাম হোসেন। অভিযানকালে তিনি দূর্ধর্ষ ও কুখ্যাত ডাকাত গোলাপকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। গোলাপ গ্রেপ্তারের খবরে সরাইল সদর, কালিকচ্ছ, চুন্টা ও নাসিরনগর এলাকার মানুষ স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেছেন।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসলাম হোসেন বলেন, ডাকাতি ও মাদকের সাথে জড়িত ব্যাক্তি সে যত বড় শক্তিশালীই হউক না কেন কোন ছাড় নেই। আমাদের এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *