সরাইলে ইউএনওর হস্তক্ষেপে পুকুর ভরাট বন্ধ

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে আইন অমান্য করে দেড়শ বছরের পুরনো একটি পুকুর ভরাট করছিলেন এক ব্যক্তি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

শুক্রবার দিনভর পুকুরটির দুই শতাংশ জায়গা ভরাটের পর বিকেলে উপজেলা প্রশাসন পুকুর ভরাট কাজ বন্ধ করে দেন।

শনিবার স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস পুকুর ভরাট বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া পুকুর ভরাট করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এ ছাড়া পুকুরের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরেরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন ও সরেজমিনে গিয়ে গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড পাল পাড়া গ্রামে ২৮৪ দাগে ৩৩ শতাংশের পুকুরটি দেড়শ বছরের পুরোনো। পুকুরটি গ্রামের শতাধিক পরিবারের নানা চাহিদা মিটিয়ে আসছিল। বর্তমানে এ পুকুরটির মালিক গ্রামের দুই ব্যক্তি। এর মধ্যে মাসুদুর রহমান ২৩ শতাংশ এবং জালাল মিয়া ১০ শতাংশের মালিক। গত কয়েক মাস ধরে পুকুরটি ভরাট করার চেষ্টা করছেন জালাল মিয়া। এতে বাঁধা দিয়ে আসছেন মাসুদুর রহমান। মাসুদুর রহমান পুকুর ভরাটে রাজি হচ্ছেন না। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বিধোর সৃষ্টি হয়।

মাসুদুর রহমান বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে অবহিত করেন। গত শুক্রবার জালাল মিয়া ৮/১০ টির ট্রাক্টর দিয়ে পুকুর ভরাট করতে থাকেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সময়ে পুকুরের প্রায় দুই শতাংশ জায়গা ভরাট করে ফেলেন। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলা প্রশাসন ওই পুকুর ভরাট কাজ বন্ধ করে দেন।

জালাল মিয়া বলেন,‘ নানা সালিস-দরবার করেও পুকুরে আমি আমার অংশটুকু পাচ্ছি না। মাসুদুর রহমান সালিসের রায় অমান্য করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। আমি চেয়েছিলাম আমার অংশ ভরাট করে শাকসবচি চাষ করতে। প্রশাসনের বাধার পর ভরাট কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।’

মাসুদুর রহমান বলেন, ‘এলাকার প্রভাবশালী একটি মহলের ইন্দনে জালাল মিয়া জোরপূর্বক পুরো পুকুর ভরাট করতে চায়। আমি সংস্কার করে পুরাতন পুকুরটি রক্ষা করেতে চাই।’

তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, এ পুকুর ভরাটের বিরোধকে কেন্দ্র করে পক্ষ বিপক্ষ তৈরী হয়েছে। উভয় সিন্ডিকেটের লোকজন নেমেছেন বাণিজ্যে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল হক মৃদুল বলেন, ‘পুকুর ভরাট দন্ডনীয় অপরাধ। চুন্টায় পুকুর ভরাটের খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিকভাবে তা বন্ধ করে দিয়েছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *