সরাইলে কিশোর গ্যাং সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

সরাইল প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলার অরুয়াইলে কিশোর গ্যাং সদস্যের মরদেহ উদ্ধার। বুধবার সকালে বুধবার সকালে উপজেলার অরূয়াইলের শোলাকান্দি ব্রীজের নীচ থেকে সুমন মিয়া (১৯) নামের এক সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছেন সরাইল থানা পুলিশ।

ধামাউড়া গ্রামের মো. নাসির মিয়ার ছেলে সুমন অরুয়াইল ইউনিয়নের কিশোর অপরাধ গ্রূপের প্রধান গাজী নাঈম মিয়া (১৯) প্রকাশ ছুরি নাঈমের দলের অন্যতম সদস্য। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল সুমন, সে মাদকাসক্ত ছিল ।

মাদকের টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের মারধর করত সুমন। পুলিশ বলছেন অতিরিক্ত ড্যান্ডি (জুতার আঠা) সেবন করার কারণে সুমনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়রা বলছেন মঙ্গলবার রাতে ছুরি নাঈমসহ কিশোর গ্যাং এর ৬-৭ জন সদস্যকে ওই ব্রীজের উপর মাদক সেবন করতে দেখেছেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, নাঈমের নেতৃত্বে অরুয়াইলে ১১-১২ সদস্যের একটি কিশোর গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন, বিক্রয়, চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। ধামাউড়া গ্রামের সামছু মিয়ার ছেলে নাঈম।

বর্তমানে তারা অরুয়াইল সদরে বসবাস করছে। সম্প্রতি নাঈমকে শুধু স্থানীয়রা নয় পুলিশ প্রশাসনের অনেকেই ছুরি নাঈম হিসেবে চিনেন। ছুরি নাঈম গ্যাং এর সদস্যদের সকলেই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করছে। সেখানে কিশোর গ্যাং এর পেছনে স্থানীয় কতিপয় রাজনৈতিক ব্যক্তির শেল্টারের বিষয়টিও চাউর রয়েছে। হেফাজত তান্ডবের কারণে অরুয়াইল পুলিশ ক্যাম্প প্রত্যাহারের পর আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা।

সপ্তাহ দিন আগে রাত ১২টার দিকে বাড়ি যাওয়ার পথে বারপাইকা গ্রামের রাজমিস্ত্রী জাকিরের মুঠোফোনসেট ও নগদ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় নাঈম বাহিনী। জনৈক কিশোরকে ছুরিকাঘাত করে ২০ হাজার টাকা মূল্যের মুঠোফোনসেট ও সংখ্যালঘু পরিবারের এক মহিলার কানের স্বর্ণালঙ্কারও ছিনিয়ে নিয়েছে ওই বাহিনী। এসব অপকর্মের বিচারের দায়িত্ব নিতে চান না কেউ। আর তাদের বিরূদ্ধে মুখ খোলার সাহস করেনা কেউ। নাঈম বাহিনী চষে বেড়াচ্ছে পুরো পাকশিমুল এলাকাও।

গত দেড় থেকে দুই মাসে ২টি ছুরিকাঘাত, গরু চুরি ও ২টি হত্যাকান্ডসহ ওই এলাকায় ১০টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে।

অপরাধ কর্মকান্ড প্রতিরোধের উদ্যেশ্যে গত মঙ্গলবার বিকেলে ধামাউড়া ঈদগাহ মাঠে সাবেক ইউপি সদস্য ছান্দালী মিয়ার সভাপতিত্বে এক সভায় বসেন গ্রামবাসী। সভায় ছুরিকাঘাত চুরি ছিনতাইয়ের বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেন লোকজন।

চোর সনাক্ত করে হারূন মিয়ার চুরি হওয়া গরু ২টি উদ্ধার করে বুঝিয়ে দেয়া হয়। চোর নাঈম বাহিনীর অন্যতম সদস্য নুররুল্লাহ সভায় না এসে পালিয়ে যায়। চুরির ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় নাঈম বাহিনীর মধ্যে অন্তর্দ্বন্ধ লেগে যায়। পরের দিন সকালে অরুয়াইল-চাতলপাড় সড়কের শোলাকান্দি এলাকায় সুমনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন।

সুমনের বাবা নাসির মিয়া বলেন, অতিরিক্ত মাদক সেবন করে সুমন মারা গেছে। আমাকে জ্বালিয়ে শেষ করে ফেলেছে। আমার ১৫ লাখ টাকা শেষ করেছে। কাতার পাঠিয়েছিলাম। একটি টাকাও দেয়নি, এসে পড়েছে। আমাকে মারধর করেছে। ইউএনও স্যারের কাছে তার বিরূদ্ধে অভিযোগ করেছি। তাই বাড়ি থেকে চলে গেছে, আর আসেনি। কোথায় থাকত আমি জানি না। তার সহপাঠিরাও ভাল না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, রাতে নাঈমের নেতৃত্বে ৬-৭ জন কিশোরকে এখানে মাদক সেবন করতে দেখেছি। একে অপরের সাথে বাকবিতন্ডার শব্দও শুনেছি। সকালে দেখি ব্রীজের নীচে এক কিশোরের মরদেহ।

অরুয়াইল ইউপি আ’লীগের সম্পাদক এডভোকেট শফিকুর রহমান অপরাধ বিষয়ে সভা করার কথা স্বীকার করে বলেন, কম বয়সি ১১-১২ জনের একটি দল এলাকায় চুরি ছিনতাইয়ের সাথে জড়িয়ে আছে অনেক দিন ধরে। এরা মাদকও সেবন করে। গরু চোর হাতেনাতে ধরেছি, উদ্ধারও করেছি। নুরুল্লাহর একটি ঘরে বসে রাতে ওই কিশোররা আড্ডা দেয়। দোকানটিও আমাদের হাতে নিয়ে এসেছি।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসলাম হোসেন বলেন, সুমন পরিবার থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন। সে ছিল মাদকাসক্ত। আমরা প্রাথমিক অবস্থায় অনেকটা নিশ্চিত হয়েছি অতিরিক্ত মাদক (জুতার আঠা) সেবনের কারনেই তার মৃত্যু হয়েছে। ময়না তদন্তের পর আরো নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *