• সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ১২:১৭ অপরাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
শিরোনাম
পাচার বাণিজ্যে মতানৈক্যের জেরে সীমান্তে অপহৃত নাবালক ৬ চিকিৎসক নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে বরগুনা সরকারি হাসপাতাল সামাজিক দূরত্ব ভুলে রাসিক মেয়র লিটনের খাদ্য সামগ্রী বিতরন সলঙ্গায় ১০কেজি গাঁজাসহ মাদক ব‍্যবসায়ী আটক বরুড়ায় ১৫০ অক্সিজেন সিলিন্ডার দিলেন এসকিউ গ্রুপের শফিউদ্দিন শামীম বাবার মৃত্যুর একদিন পর মাকেও হারালেন সহকারী এটর্নি জেনারেল এড. ফারুক সাতক্ষীরা শহরের বাগানবাড়িতে ভূমিহীনদের পুর্নবাসনের দাবিতে উঠান বৈঠক আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মুরাদনগরে দিনব্যাপী ডিউটি অফিসারের ভূমিকায় এএসপি রূপগঞ্জে ওয়ারেন্টভুক্ত চার পলাতক আসামি গ্রেফতার
বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

সরাইলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীকে হয়রানির অভিযোগ

news / ৯৫ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার, ২ জুলাই, ২০২১

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীকে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক লিটন কর্মকার । যার নাম শুনলেই থমকে যান অনেক রোগী। কারণ উনার ব্যবহার ও আচার আচরণে রোগীরা সন্তুষ্ট হতে পারেন না।
অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে যান ওই চিকিৎসক। উনার কাছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীকে কথায় কথায় ধমক মারার অভিযোগ আছে । দিনের ১২টার পর রোগী দেখতে বিরক্তবোধ করেন তিনি। এমনিতেই সকাল ১০টার পরে বহিঃবিভাগে বসেন।
এছাড়াও ভর্তিকৃত রোগীদের সাথে দূর্ব্যবহার করা উনার পুরনো অভ্যাস। যেকোন ধরণের রোগীকে কয়েক ধরণের নিরীক্ষা দিয়ে থাকেন। এমন অভিযোগ সরাইল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগীর।

এরই ধারাবাহিকতায় তিনি শুক্রবার সকালে বল্লমের আঘাতে আহত ভর্তিকৃত রোগী মোছেদা বেগমকে (৪৫) হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে ধমক দিতে থাকেন। হাসপাতাল না ছাড়লে পুলিশে দেওয়ার হুমকিও দেন। চিকিৎসকের এমন আচরণে পাশের বেডে থাকা রোগীরাও ভয় পেয়ে যান।

মোছেদা ও চিকিৎসাধীন রোগীরা জানায়, মোছেদা উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের তেরকান্দা গ্রামের ছোট্রন মিয়া’র স্ত্রী। গত সোমবার সকালে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মোছেদাকে মারধর করে। ওইদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মোছেদাকে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। মোছেদার মাথায় অনেক আঘাত ছিল। যার কারণে দিতে হয়েছে ৮ টি সেলাই। এছাড়াও গলার বাম পাশে রয়েছে বল্লমের খুঁচা (গাই)। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে ফোলা জখম।

শুক্রবার সকালে চিকিৎসক লিটন কর্মকার মোছেদাকে হাসপাতাল থেকে চলে যেতে বলেন। বাড়ি থেকে পুরুষ লোক আসলে চলে যাবেন বলে আস্বস্ত করা হয় । মোছেদার এই কথা আরো উত্তেজিত হয়ে পড়েন ওই চিকিৎসক। তিনি রোগী মোছেদাকে হাসপাতাল না ছাড়লে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেন। চিকিৎসকের এমন চিৎকার ও হুমকিতে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পরেন পাশের বেডের রোগীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ভর্তিকৃত আরেক রোগী রূহেনা বেগম (৪২) বলেন, ডাক্তার সাহেবের ধমকে আমি খুব ভয় পেয়েছি। মন চাইছিল তখন পালিয়ে যাই।

শাহেদা বেগম (৬০) বলেন, স্যারে এসেই মোছেদাকে বলেছেন তুমি এখনও আছ? হাসপাতাল থেকে এখন বেরিয়ে যাও, নাটক পাইছ? মোছেদা তখন বাড়ি থেকে পুরুষ লোক আসেনি বলার সাথেই স্যার আরো রেগে যান। এখন হাসপাতাল না ছাড়লে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেন। এক সময় বডের মধ্যে লাথি মারার অঙ্গভঙ্গিও করেন। স্যারের চিৎকারে অন্যান্য বেডের রোগীরা ভয় পেয়ে যায়।

রোগী মোছেদার স্বামী মো. ছোট্র মিয়া (৫৫) বলেন, আমার স্ত্রীকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি করেছি। সুস্থ্য হয়ে বাড়ি যাওয়ার সময় হলে বড় স্যার বলবেন। অথবা সংশ্লিষ্ট কোন চিকিৎসক রিলিজের কাগজ দিবেন। কোনটিই তো হয়নি। রোগী হাসপাতালে থাকলে সরকার খাবার দেয়, ঔষধ দেয়। আমাদের মত গরীব মানুষদের সেবা দেয়ার জন্য চিকিৎসকদের সরকার বেতন দেন। একজন চিকিৎসক রোগীর সাথে এমন আচরণ করলে আমরা যাব কোথায়? আমাদের প্রতিপক্ষের ইন্দনে লিটন স্যার এমন করছেন না তো?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একাধিক কর্মচারি জানান, লিটন স্যার রোগীদের সাথে সবসময় রাগারাগি করেন। ধমক দেন। হাসপাতালে জ্বর নিয়ে রোগী এলে উনি জ্বরের তাপ মাত্রা পরিমাপ করতে রোগীদের বাহিরে ফার্মেসিতে পাঠিয়ে দেন। এছাড়া ১২টার পর রোগী দেখতে বিরক্তবোধ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মচারিদের গালমন্দও করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসক লিটন কর্মকারের মুঠোফোনে (০১৭২৩-৭৫২৫৪২) ৪-৫ বার ফোন দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো. নোমান মিয়া বলেন, ভর্তিকৃত রোগীকে গালমন্দ করা বা পুলিশে দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। অন্যান্য অভিযোগ গুলোও সঠিক নয়। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।


এই বিভাগের আরো সংবাদ