ঢাকা ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সরাইলে দেওয়ান মাহবুব আলীর স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ন্যাপের কেন্দ্রীয় নেতা প্রয়াত দেওয়ান মাহবুব আলী (কুতুব মিয়া) র নামে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজের উদ্বাধন করা হয়েছে।

শুক্রবার(৩১মার্চ) বাদ জুমা সরাইল সদরের কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সংলগ্ন খালি জায়গায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর।

স্থানীয় ‘দেওয়ান মাহবুব আলী স্মৃতি পরিষদ’ এর দীর্ঘদিনের দাবী ছিল কুতুব মিয়া ‘র স্মৃতি রক্ষার্তে একটি স্তম্ভ নির্মাণের। শুক্রবার এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করায় প্রাণ প্রিয় এই নেতার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও ত্যাগের ঋণ কিছুটা হলেও পরিশোধ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

উদ্বোধন কালে উপস্থিত ছিলেন, স্মৃতি পরিষদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. আব্দুর রাশেদ, সদস্য সরাইল কলেজের অধ্যক্ষ মৃধা আহমাদুল কামাল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইসমত আলী, ন্যাপ নেতা আব্দুল জব্বার, ত্রিতাল সংগীত নিকেতনের অধ্যক্ষ সঞ্জীব কুমার দেবনাথ, সরাইল সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার, আওয়ামী লীগ নেতা মো. মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম কানু, সরাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আইয়ুব খান, সহ-সভাপতি এম.এ মুসা, সম্পাদক মোহাম্মদ মাহবুব খান, সাবেক সম্পাদক মো. তারিকুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ কামরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মো. ইব্রাহিম, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ, উদীচীর সম্পাদক মো. সুমন পারভেজ, যুবলীগ নেতা হাফিজুল আসাদ সিজার, সাংবাদিক শাহগীর মৃধা, দীপক কুমার দেবনাথ, কবি আশিক জুনাঈদ প্রমূখ।

উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর বলেন, নিজ জন্মভূমি ও দেশের মানুষের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করেছেন তিনি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বড় মনের রাজনীতিবিদ। তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে নিজের ভোট চাইতে গিয়ে বলেছিলেন ‘আমাকে যদি আপনারা ভোট না দেন, তবে দেশ ও জাতির স্বার্থে নৌকা মার্কায় ভোট দিবেন। রাজনৈতিক ভাবে মহান ও উদার এই নেতা ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে এমএলএ হয়েছিলেন। সরাইলের ঐতিহাসিক দেওয়ান পরিবারে জন্ম নেয়া মাহবুব আলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র থাকাকালে ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সেই সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে কারাবরণ করেছেন।

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মহান মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের পক্ষে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেষ্টে আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে ভাষণ দেন। সেখান থেকে ৪ জুন মস্কো হয়ে দেশে ফেরার পথে দিল্লি বিমান বন্দরে হৃদরোগে আক্রান্ত তিনি মারা যান। দিল্লি শাহী কবরস্থানে রাজকীয় মর্যাদায় তাঁর লাশ দাফন করা হয়। সরাইলের প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে মাহবুব আলীর কর্মকান্ড, দেশ প্রেম ও ত্যাগের ইতিহাস জানানোর জন্যই স্মৃতিস্তম্ভটি খুবই প্রয়োজন ছিল ।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরাইলে দেওয়ান মাহবুব আলীর স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

আপডেট সময় ০১:৩১:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মার্চ ২০২৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ন্যাপের কেন্দ্রীয় নেতা প্রয়াত দেওয়ান মাহবুব আলী (কুতুব মিয়া) র নামে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজের উদ্বাধন করা হয়েছে।

শুক্রবার(৩১মার্চ) বাদ জুমা সরাইল সদরের কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সংলগ্ন খালি জায়গায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর।

স্থানীয় ‘দেওয়ান মাহবুব আলী স্মৃতি পরিষদ’ এর দীর্ঘদিনের দাবী ছিল কুতুব মিয়া ‘র স্মৃতি রক্ষার্তে একটি স্তম্ভ নির্মাণের। শুক্রবার এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করায় প্রাণ প্রিয় এই নেতার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও ত্যাগের ঋণ কিছুটা হলেও পরিশোধ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

উদ্বোধন কালে উপস্থিত ছিলেন, স্মৃতি পরিষদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. আব্দুর রাশেদ, সদস্য সরাইল কলেজের অধ্যক্ষ মৃধা আহমাদুল কামাল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইসমত আলী, ন্যাপ নেতা আব্দুল জব্বার, ত্রিতাল সংগীত নিকেতনের অধ্যক্ষ সঞ্জীব কুমার দেবনাথ, সরাইল সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার, আওয়ামী লীগ নেতা মো. মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম কানু, সরাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আইয়ুব খান, সহ-সভাপতি এম.এ মুসা, সম্পাদক মোহাম্মদ মাহবুব খান, সাবেক সম্পাদক মো. তারিকুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ কামরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মো. ইব্রাহিম, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ, উদীচীর সম্পাদক মো. সুমন পারভেজ, যুবলীগ নেতা হাফিজুল আসাদ সিজার, সাংবাদিক শাহগীর মৃধা, দীপক কুমার দেবনাথ, কবি আশিক জুনাঈদ প্রমূখ।

উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর বলেন, নিজ জন্মভূমি ও দেশের মানুষের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করেছেন তিনি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বড় মনের রাজনীতিবিদ। তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে নিজের ভোট চাইতে গিয়ে বলেছিলেন ‘আমাকে যদি আপনারা ভোট না দেন, তবে দেশ ও জাতির স্বার্থে নৌকা মার্কায় ভোট দিবেন। রাজনৈতিক ভাবে মহান ও উদার এই নেতা ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে এমএলএ হয়েছিলেন। সরাইলের ঐতিহাসিক দেওয়ান পরিবারে জন্ম নেয়া মাহবুব আলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র থাকাকালে ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সেই সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে কারাবরণ করেছেন।

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মহান মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের পক্ষে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেষ্টে আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে ভাষণ দেন। সেখান থেকে ৪ জুন মস্কো হয়ে দেশে ফেরার পথে দিল্লি বিমান বন্দরে হৃদরোগে আক্রান্ত তিনি মারা যান। দিল্লি শাহী কবরস্থানে রাজকীয় মর্যাদায় তাঁর লাশ দাফন করা হয়। সরাইলের প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে মাহবুব আলীর কর্মকান্ড, দেশ প্রেম ও ত্যাগের ইতিহাস জানানোর জন্যই স্মৃতিস্তম্ভটি খুবই প্রয়োজন ছিল ।