ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সরাইলে নদীর মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়, হুমকির মুখে ফসলি জমি

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে তিতাস নদীর মাটি কেটে বিক্রি হচ্ছে ইটভাটায়। এতে হুমকির মুখে পড়ছে ফসলি জমি। প্রশাসনের কোন রকম অনুমতি ছাড়াই চলছে তিতাস নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার উৎসব। আর সেই মাটি যাচ্ছে এক কিলোমিটার অদূরে মেসার্স এশিয়া নামক ইটভাটায়। ইট ভাটায় ব্যবহারের পরে অবশিষ্ট মাটি চড়া দামে অন্যত্র বিক্রি করছে একটি চক্র।
উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের চাঁনপুর এলাকার নদী সংলগ্ন ফসলি মাঠ থেকে মাটি কেটে এমন হরিলুট করছে একটি চক্র। নদী ও মাটি খেকোঁ প্রভাশালী চক্রের কাছে অসহায় সেখানকার কৃষকরা। অনেকে ভয়ে মুখ খোলার সাহস করছেন না।

সরজমিন অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগী কৃষক সূত্রে জানা যায়, ধর্মতীর্থ এলাকার কৃষকরা বারবার নদী, ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা চক্রের শিকার হচ্ছেন। ওই চক্রটি ইটভাটায় মাটি বিক্রি করে বাণিজ্য করছেন প্রতিনিয়ত। চক্রটি সহজ সরল কৃষকদের ফুসলিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ফসলি জমি ও গোচারণ ভূমির মাটি ক্রয় করে আসছে।

একটি জমি ক্রয় করে আশপাশের জমির মালিকদের বেকায়দায় ফেলে মাটি বিক্রি করতে বাধ্য করে ওই চক্রটি। হাওরের শতশত একর ফসলি জমি এখন চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে। ফসলি জমির পর এখন তারা নদীর দিকে নজর দিয়েছেন। চানপুর মৌজায় তিতাস নদীতে গত ১৫ দিন ধরে ড্রেজারের সাহায্যে মাটি কেটে এক কিলোমিটার দূরে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কের পাশে এশিয়া নামক ইটভাটায় নিচ্ছেন। সেখান থেকে ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি বিক্রি করছেন।

এতে করে নদীর দু’পাড়ে শতশত একর ফসলি জমি এখন ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। কৃষকদের প্রতিবাদ আমলে নিচ্ছেন না প্রভাবশালী চক্রটি। গত মঙ্গলবার দুপুরে নদীর মাঝখানে ড্রেজার চলতে দেখা যায়। প্রায় ৮-১২ ইঞ্চি প্রস্থের পাইপ দিয়ে এক কিলোমিটার দূরে মাটি যাচ্ছে। এসময় গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ড্রেজারের কাছ থেকে দ্রুত সটকে পড়ার চেষ্টা করেন ড্রেজার তদারককারী নুরনবী।

ড্রেজার চালক লাখাই থানার মো. ইসমাঈল মিয়া (৪০) নদীর মাটি ইটভাটায় যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ঠিকাদার মফিজ মিয়া, হযরত আলী ও সাইজ উদ্দিন, আমরা শ্রমিক। ৪ জনের মধ্যে আমিসহ দু’জনের মাসিক বেতন ৪০ হাজার টাকা। অপর দু’জনের মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা। অনুমতি বা বৈধ কাগজপত্র আছে কিনা আমরা জানি না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেখানকার একাধিক কৃষক বলেন, তারা হাওরের ফসলি জমি খাইছে। এখন মাটি কেটে যেভাবে গভীর করছে নদীর পাড়ের ফসলি জমি গুলো ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হয়ে যাবে, আমরা শেষ। স্যার পারলে জমি গুলো রক্ষা করে আমাদের বাঁচান। আমাদের নাম লিখলে তারা মেরে ফেলবে।

ঠিকাদার মফিজ মিয়া নদীর মাটি ইটভাটায় বিক্রির কথা স্বীকার করে বলেন, এশিয়া ইটভাটায় মাটি বিক্রি করছি। অনুমতির কথা দূর্গাচরন দাদা বলতে পারবে। তিনিই কাজটি করছেন। আমরা শুধু দেখা শুনা করি।

দূর্গাচরণ দাস ও মাটি বিক্রির কথা স্বীকার করে বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে নদী খননের অনুমতি এনেছি। সেখানে মাটি কাটার কথা বলা আছে। তবে ইটভাটায় বিক্রির কথা বলা নেই। এটি উন্নয়ন প্রকল্প। মাটি বিক্রি না করলে রাখব কোথায়?

এই বিষয়ে জানতে চাইলে, সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবা উল আলম ভূঁইয়া বলেন, দূর্গাচরণ দাস অনুমতির কোন কাগজ আমাকে দেখাতে পারেননি। অনুমতি ছাড়া উনি যা করছেন, তা করতে পারেন না। আমি উনাকে নদীতে মাটি কাটা বন্ধ রাখতে বলেছি। কথা না শুনলে আইনগত ব্যবস্থা নিব।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরাইলে নদীর মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়, হুমকির মুখে ফসলি জমি

আপডেট সময় ১২:২৩:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে তিতাস নদীর মাটি কেটে বিক্রি হচ্ছে ইটভাটায়। এতে হুমকির মুখে পড়ছে ফসলি জমি। প্রশাসনের কোন রকম অনুমতি ছাড়াই চলছে তিতাস নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার উৎসব। আর সেই মাটি যাচ্ছে এক কিলোমিটার অদূরে মেসার্স এশিয়া নামক ইটভাটায়। ইট ভাটায় ব্যবহারের পরে অবশিষ্ট মাটি চড়া দামে অন্যত্র বিক্রি করছে একটি চক্র।
উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের চাঁনপুর এলাকার নদী সংলগ্ন ফসলি মাঠ থেকে মাটি কেটে এমন হরিলুট করছে একটি চক্র। নদী ও মাটি খেকোঁ প্রভাশালী চক্রের কাছে অসহায় সেখানকার কৃষকরা। অনেকে ভয়ে মুখ খোলার সাহস করছেন না।

সরজমিন অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগী কৃষক সূত্রে জানা যায়, ধর্মতীর্থ এলাকার কৃষকরা বারবার নদী, ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা চক্রের শিকার হচ্ছেন। ওই চক্রটি ইটভাটায় মাটি বিক্রি করে বাণিজ্য করছেন প্রতিনিয়ত। চক্রটি সহজ সরল কৃষকদের ফুসলিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ফসলি জমি ও গোচারণ ভূমির মাটি ক্রয় করে আসছে।

একটি জমি ক্রয় করে আশপাশের জমির মালিকদের বেকায়দায় ফেলে মাটি বিক্রি করতে বাধ্য করে ওই চক্রটি। হাওরের শতশত একর ফসলি জমি এখন চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে। ফসলি জমির পর এখন তারা নদীর দিকে নজর দিয়েছেন। চানপুর মৌজায় তিতাস নদীতে গত ১৫ দিন ধরে ড্রেজারের সাহায্যে মাটি কেটে এক কিলোমিটার দূরে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কের পাশে এশিয়া নামক ইটভাটায় নিচ্ছেন। সেখান থেকে ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি বিক্রি করছেন।

এতে করে নদীর দু’পাড়ে শতশত একর ফসলি জমি এখন ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। কৃষকদের প্রতিবাদ আমলে নিচ্ছেন না প্রভাবশালী চক্রটি। গত মঙ্গলবার দুপুরে নদীর মাঝখানে ড্রেজার চলতে দেখা যায়। প্রায় ৮-১২ ইঞ্চি প্রস্থের পাইপ দিয়ে এক কিলোমিটার দূরে মাটি যাচ্ছে। এসময় গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ড্রেজারের কাছ থেকে দ্রুত সটকে পড়ার চেষ্টা করেন ড্রেজার তদারককারী নুরনবী।

ড্রেজার চালক লাখাই থানার মো. ইসমাঈল মিয়া (৪০) নদীর মাটি ইটভাটায় যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ঠিকাদার মফিজ মিয়া, হযরত আলী ও সাইজ উদ্দিন, আমরা শ্রমিক। ৪ জনের মধ্যে আমিসহ দু’জনের মাসিক বেতন ৪০ হাজার টাকা। অপর দু’জনের মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা। অনুমতি বা বৈধ কাগজপত্র আছে কিনা আমরা জানি না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেখানকার একাধিক কৃষক বলেন, তারা হাওরের ফসলি জমি খাইছে। এখন মাটি কেটে যেভাবে গভীর করছে নদীর পাড়ের ফসলি জমি গুলো ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হয়ে যাবে, আমরা শেষ। স্যার পারলে জমি গুলো রক্ষা করে আমাদের বাঁচান। আমাদের নাম লিখলে তারা মেরে ফেলবে।

ঠিকাদার মফিজ মিয়া নদীর মাটি ইটভাটায় বিক্রির কথা স্বীকার করে বলেন, এশিয়া ইটভাটায় মাটি বিক্রি করছি। অনুমতির কথা দূর্গাচরন দাদা বলতে পারবে। তিনিই কাজটি করছেন। আমরা শুধু দেখা শুনা করি।

দূর্গাচরণ দাস ও মাটি বিক্রির কথা স্বীকার করে বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে নদী খননের অনুমতি এনেছি। সেখানে মাটি কাটার কথা বলা আছে। তবে ইটভাটায় বিক্রির কথা বলা নেই। এটি উন্নয়ন প্রকল্প। মাটি বিক্রি না করলে রাখব কোথায়?

এই বিষয়ে জানতে চাইলে, সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবা উল আলম ভূঁইয়া বলেন, দূর্গাচরণ দাস অনুমতির কোন কাগজ আমাকে দেখাতে পারেননি। অনুমতি ছাড়া উনি যা করছেন, তা করতে পারেন না। আমি উনাকে নদীতে মাটি কাটা বন্ধ রাখতে বলেছি। কথা না শুনলে আইনগত ব্যবস্থা নিব।