• শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

সরাইলে পুলিশ ক্যাম্পে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় আ’লীগ নেতার ৩ ছেলে জড়িত থাকার অভিযোগ

news / ৬৮ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার, ১৫ জুন, ২০২১

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ গত ২৭ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল পুলিশ ক্যাম্পে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় ইউপি আ’লীগের সভাপতি মো. আবু তালেবের ৩ ছেলের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠেছিল ঘটনার প্রথম দিন থেকেই। ওই ঘটনার আড়াই মাস পর বিষয়টির সত্যতা প্রমাণ করতে তদন্তে নেমেছেন উপজেলা আ’লীগের একটি তদন্ত কমিটি।

গত শনিবার তারা সরেজমিনে তদন্তে গিয়েছিলেন। দলীয় ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ঘটনাটি সরজমিনে তদন্ত করতে গত শনিবার বিকালে অরুয়াইলে যান তদন্ত কমিটির সদস্যরা। ৫ সদস্যের ওই টিমের নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক এডভোকেট নাজমুল হোসেন। তদন্ত কমিটি ইউপি আ’লীগ ছাড়াও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মী, সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলেন।

তদন্ত টিমের সদস্য ও উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি মো. শফিকুর রহমান বলেন, তদন্তে হেফাজতের ওইদিনের তান্ডবে সভাপতির ৩ ছেলে ইসমাইল, জয়নাল, জাকারিয়ার নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টির প্রাথমিক ভাবে সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে অংশ গ্রহনকারী ২৬ জনের মধ্যে ২০-২২ জনই জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা কেউ জামাত হেফাজত ও কেউ বিএনপি’র সক্রিয় কর্মী। আমরা উপজেলা আওয়ামীলীগের আগামী সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে জেলাকে জানিয়ে দিব।

আরেক সদস্য ও উপজেলা আ’লীগের সদস্য হাজী মো. কায়কোবাদ জানান, তদন্তে অংশগ্রহনকারী অধিকাংশ সদস্য উনার ভাই ও ৩ ছেলে তান্ডবে জড়িত থাকার কথা বলেছেন। তারা জামাত হেফাজত ও বিএনপি করার কথা ওঠেছে।

উপজেলা আ’লীগের আহবায়ক নাজমুল হোসেন বলেন, জেলা আ’লীগের নির্দেশে উপজেলা আ’লীগ গত ২৯ মে এক সভায় বসেন। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত শনিবার বিকেলে আমরা অরুয়াইলে গিয়ে তদন্ত করেছি। এখানেই শেষ না। আরো তদন্ত হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আমরা জেলা কমিটিকে অবহিত করব।

পুলিশ, মামলার এজহার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রতিবাদে গত ২৭ মার্চ হেফাজতের নেতা কর্মী ও সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অরুয়াইল বাজারে জড়ো হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে অরুয়াইল পুলিশ ক্যাম্পে তারা হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ক্যাম্পটি ভাংচুর করে।

এ ঘটনায় অন্তত ২০ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরের দিন ২৮ মার্চ পুলিশ ক্যাম্পটি প্রত্যহার করে নেন কর্তৃপক্ষ। সরাইল থানার এস আই সজল চন্দ্র মজুমদার বাদী হয়ে ৩১ মার্চ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৬৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ১২শত লোককে আসামী করা হয়। সভাপতি আবু তালেবের ছেলে ইসমাইলের নাম রয়েছে এজহারে। তবে অন্য দুই ছেলে রয়েছে সন্দেহের তালিকায়। ২৭ মার্চের বিক্ষোভে নেতৃত্বদানকারীদের একজন হচ্ছেন জাকারিয়া। ইতিমধ্যে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আর বিএনপি’র একজন সক্রিয় কর্মী হচ্ছেন জয়নাল আবেদিন।

আবু তালেব বলেন, আমার কোন ছেলেই হেফাজতের তান্ডবে জড়িত নয়। এক ছেলে আগে বিএনপি করত। এখন সেখানে নেই। আগামী নির্বাচনে আমি আ’লীগ থেকে মনোনয়ন চাইব। তাই আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে একটি মহল। বাজারে আমার ১৬০ টি দোকান ও অফিস রক্ষার জন্য ছেলেরা ওইদিন বাজারে গিয়েছিল। আমার সুনাম নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা এক ছেলেকে মামলায় জড়িছে। আর ২ ছেলেকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।


এই বিভাগের আরো সংবাদ