সরাইলে প্রবাসীকে খুনের অভিযোগ

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ষোলাবাড়ি এলাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় কাদির (৫০) নামের এক প্রবাসীকে খুনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত বুধবার রাত ৮টার দিকে গ্রামের নির্জন স্থানে তাকে বল্লম দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর আহত করে একদল লোক। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়।

একটি পাসপোর্ট না পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হত্যা কান্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কিছু লোক। আবার অনেকেই বলছেন এটা তৃতীয় পক্ষের কারো কাজও হতে পারে।

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, পানিশ্বর ইউনিয়নের ষোলাবাড়ি গ্রামের প্রয়াত বজলুর রহমানের ছেলে আব্দুল কাদির। অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভাল না। ৫ সন্তানের জনক কাদিরের সংসার চলত খুবই কষ্টে। গত দুই বছর আগে কাদির বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রতিবেশী রমজান মিয়ার সাথে চুক্তি করেন। চুক্তি অনুসারে রমজানকে দেন ৩ লাখ টাকা। কাদির ইরাকে গিয়েছেন ঠিকই, চাকরি পাননি, থাকতেও পারেননি। বরং উল্টো ৯ দিন হাজতবাস করে দেশে ফিরেন খালি হাতে । দেশে এসে রমজানের বিরূদ্ধে সমাজের লোকজনের কাছে বিচার প্রার্থী হন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিস বৈঠক হয়েছে। চুড়ান্ত নিস্পত্তি হয়নি। কাদিরের দাবী ছিল রমজানের কাছে তার পাসপোর্টটি ছিল। সেটি তাকে দেয়নি রমজান। এতে করে তাদের দু’জনের মধ্যে বিরোধ তৈরী হয়।

পাসপোর্টটি না দেওয়ায় গত ২৭ জুন রমজানের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন কাদির। তদন্তের তারিখও পড়েছিল। গত বুধবার রাতে সালিসকারক মলাই মিয়ার সাথে দেখা করতে তার বাড়িতে যান কাদির। মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। মলাই মিয়ার বাড়ি থেকে ফেরার পথে ষোলাবাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ১০০ গজ উত্তর পাশে কাদিরের উপর হামলা চালায় একদল লোক। কিছুক্ষণ পর পাশের বাড়ির ২-৩ জন যুবক এসে দেখেন একটি লাশ পড়ে আছে।

পরে স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় কাদিরকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক কাদিরকে মৃত ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সরজমিনে দেখা যায়, ময়না তদন্ত শেষে নিহত কাদিরের লাশ বাড়িতে এসেছে। বিধবা স্ত্রী ও পিতৃহারা সন্তানদের বুকফাটা আর্তচিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে ওই বাড়ির পরিবেশ। অভিযুক্ত রমজানের বাড়ি একেবার ফাঁকা, দরজায় তালা ঝুলছে । বাদ আছর জানাযা শেষে কাদিরের লাশ তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের কয়েকজন লোক জানিয়েছেন, ঘটনাটি তৃতীয় কোন পক্ষ ঘটিয়ে থাকতে পারে।

পানিশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. দ্বীন ইসলাম বলেন, সালিসের রায়ে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে রমজান কাদিরকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিল। পাসপোর্টটি রমজানের কাছেই ছিল। সেটি দিচ্ছিলেন না রমজান। আর জন্যই আদালতে রমজানের বিরূদ্ধে মামলা করেছিল কাদির।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসলাম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ হত্যাকান্ডের পেছনে অনেক বিষয় জড়িত আছে। ঘটনাটি কারা ঘটিয়েছে নিশ্চিত করে এখনই বলা যাচ্ছে না। তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই সব কিছু বেরিয়ে আসবে। তবে এই সুযোগে কেউ যদি কারো বাড়িঘর ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে তাকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *