ঢাকা ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুমিল্লা- সিলেট মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে রেখেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা Logo ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা’র সহধর্মীনি এডভোকেট সিগমা হুদার ইন্তেকাল Logo আমতলীতে ২য় শ্রেণির মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ, ধর্ষক আটক Logo বাঘাইছড়িতে ছাত্রলীগের প্রতিবাদ মিছিল Logo সরাইলে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সাথে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ Logo ভাঙ্গায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-৩ আহত ৪০ Logo রূপসায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন Logo শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে মুরাদনগরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ Logo সদরপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া Logo যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাসিম এর মুত‍্যু বার্ষিকী পালিত

সাংবাদিক রমিজ খানের অসমাপ্ত লেখা ও অপ্রকাশিত গ্রন্থ সংগ্রহের উদ্যোগ

আজিম উল্যাহ হানিফ

সাংবাদিক ও ছড়াকার রমিজ খান ১৯৬১ সালের ৬ মার্চ কুমিল্লা জেলার সদর উপজেলার উত্তর চর্থায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা-মো: সোনা মিয়া, মাতা-আয়েশা বেগম। ১৯৭৮ সালে কুমিল্লা শহরের ইফসুফ বহুমুখি কারিগরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। হাইস্কুল জীবনেই লেখালেখির হাতে খড়ি ঘটে।

১৯৮১ সালে এলাকার একটি ক্লাবের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে একটি ম্যাগাজিন সম্পাদনার কাজ করেন। সেই থেকে সুস্থ ধারার সাহিত্য-সাংস্কৃতিক চর্চায় জড়িয়ে পড়েন। মানুষকে যদি সুস্থ ও সুন্দরের পথে আনা না যায়, তাহলে সাংস্কৃতিক শুদ্ধতা আসবে না, সেই উপলব্ধি থেকে কয়েকজন সমমনা বন্ধুকে নিয়ে ১৯৮১ সালে ২৮ জুন গড়ে তুলেন উষসী সাহিত্য পর্ষদ। পরবর্তীতে এটি হয় উষসী পরিষদ। প্রথমে তার সাথে যুক্ত হয়েছিলেন উত্তম, জীবন, শোয়েব, এমদাদ। পরে যুক্ত হন ঐ সময়ের অনেক খ্যাতিমান মানুষেরা, বিশেষ করে রুপসী বাংলার সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল ওহাব, প্রয়াত সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা চৌধুরী (১৯২৮-২০০৫), কবি ইসহাক সিদ্দিকী, মঞ্জুর হোসেন, মো: ইউনুস উল্লাহ প্রমুখ। ১৯৮২ সালে এরশাদের সামরিক শাসন জারি হওয়ার পর দেশের সকল রাজনীতিবিদ, ছাত্র জনতা, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মীরা স্বৈর শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামিল হয়। সে সময়ে রমিজ খান উষসী পরিষদকে নিয়ে এক অনন্য উচ্চতায়। রাজনীতিও সংস্কৃতির মাঝে তিনি সমান ভূমিকা পালন করেন।

নিজে বের করেন ছড়ার বই- ‘নানা-নানির দেশও হরতাল’, এবং স্বৈরাচার বিরোধী ছড়াও কবিতার সংকলন। মুক্ত অনুষ্ঠানে আবৃত্তি ও গণ সংগীতের অনুষ্ঠান করা ছিল রমিজ খানের প্রায় রুটিন ওয়ার্কের অংশ। উষসী পরিষদে ছিল ৩টি বিভাগ। উল্টরণ, উম্মেষ ও উচ্চারণ নামে। আপাদমস্তক একজন সাংগঠনিক মানুষ ছিলেন তিনি। অস্থিমজ্জায় তিনি একজন সুস্থ ধারার মানুষ ছিলেন। অন্যায়ের সাথে আপোষ করেন নি কখনো, নিয়েছেন একের পর এক উদ্যোগ। একদিকে করেছেন সংস্কৃতি চর্চা, অন্যদিকে করেছেন রাজপথের লড়াকু সৈনিকের ভূমিকায়। চেয়েছিলেন যারা সাহিত্য-সংস্কৃতির ও শিল্পের সাথে যুক্ত,তারা সবাই এক প্লাটফরমে এসে কাজ করুক। স্বপ্ন ছিলো তার অনেক বড়। ৯০ এর দশকে কুমিল্লা শহরের ঝাউতলাস্থ দৃষ্টিপাত ভবনে উষসী পরিষদ ছিল ২৪ ঘন্টাই খোলা। দেশের প্রগতিশীল,চিন্তাবিদ, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, গবেষকদের নির্ভরতারও মিলনমেলার স্থান হয়ে উঠেছিল উষসী পরিষদ। মঞ্চপাগল মানুষ ছিলেন রমিজ খান। কিন্তু নিজে মঞ্চে না উঠে,অন্যকে ঠাঁই করে দিতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করতেন। ১৯৮১ সালে জন্ম নেয়া উষসীতে এসে বহু সংগঠক পরবর্তীতে কুমিল্লাতে শত সংগঠনের জন্ম দিয়েছেন।

কুমিল্লাতে প্রথম কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ক্লাসিক কম্পিউটার সেন্টার গড়ে তুলেন তিনি। পুলিশ লাইনে গড়ে তুলেন উষসীর তত্তাবধানে ইংরেজি মিডিয়াম স্কুল শিশুকানন। বিভিন্নভাবেই তিনি বেকার যুবক যুবতীদেরও শিশু কিশোরদের কাজে লাগানোর পাশাপাশি তাদের সুস্থ ধারার সংস্কৃতি বিকাশে উৎসাহিত করেন। ১৯৮১-২০২৪ দীর্ঘ ৪৩ বছর উষসী পরিষদকে টেনে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। ফলে সারাদেশেই তার একটি পরিচয় রয়েছে। বিশেষ করে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে জেলে গেছেন উষসীর কর্মীরা। ১৯৮৮ সালের ২৫ শে মার্চ কুমিল্লা শহরের টাউন হল বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তনে সারাদেশের আবৃত্তিকারদের নিয়ে পালিত হয় প্রতিবাদী আবৃত্তি উৎসব- “এ মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না” যা নিয়ে সমকালীন শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকদের মধ্যেও সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। মোহাম্মদ ফজলে রাব্বী (১৯২৫-১৯৯৪) সম্পাদিত সাপ্তাহিক আমোদ পত্রিকাসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় যা গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছিলো। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) এর প্রথম জাতীয় নজরুল জন্ম জয়ন্তীতে যে আবৃত্তি দলটি অংশগ্রহণ করেছিল তাদের বেশিরভাগই ছিল উষসী পরিষদের “উচ্চারণ” বিভাগের কর্মী ও সংগঠক। এরাই পরে কুমিল্লার আবৃত্তি সংগঠনগুলো গড়ে তুলেছিলো। মনোযোগ দেন চাকুরী, সাংবাদিকতাও সমাজকর্মে। ২০০০ সালে ডেফোডিল ইন্সটিটিউট কুমিল্লার বাঞ্চ নিয়ে তিনি কাজ করতে শুরু করেন। তৈরি করেন একদল আইটি বিশেষজ্ঞ। যারা পরবর্তীতে কুমিল্লাতে আইটি ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০০৮ সালে গড়ে তুলেন সমমনা ও কর্মউদ্যোগী কিছু সহযোদ্ধাকে নিয়ে ন্যাচারাল এগ্রো কমপ্লেক্স (ন্যাক),যা বহু বছর কুমিল্লার ভোক্তাদের ফরমালিন ও ভেজাল মুক্ত ফল ও খাদ্য সরবরাহ করেছে। ২০১৩ সাল থেকে ঢাকাস্থ মাসরুবা মেডিকেল টেকনোলজী তে চিফ প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হিসেবে যোগ দেন এবং করোনাকালীন সময়ে করোনাসহ দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে চাকুরি থেকে অবসর নেন। যুক্ত ছিলেন আরো বহুমুখি সামাজিক কর্মকান্ডে। দাম্পত্য জীবনে সাবিহা শিরিনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুই মেয়ে। বড় মেয়ে তাসনুভা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপ-সচিব,বিসিএস ক্যাডার। ছোট মেয়ে তাইয়্যেবা ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানী কাস্টার রিসার্চ বাংলাদেশ (প্রা:) লি: এর সিনিয়র রিসার্চ ম্যানেজার পদে কর্মরত। রমিজ খান ছিলেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি, দি নিউনেশন ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি। এই প্রসঙ্গে একটি গ্রন্থে পেলাম, ১৯৮১ সালে উষসী পরিষদ গঠন, এরপরই এরশাদের ক্ষমতা দখল, ১৯৮৪ সালে কুমিল্লাকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করে বি-বাড়িয়া জেলা ও চাঁদপুর জেলা করণ, ১৯৮৪ সালে আবুল হাসানাত বাবুলের নেতৃত্বে তিননদী পরিষদ গঠন করে জামতলায় নিয়মিত প্রোগ্রামের আয়োজনকরণ,যা এখনো বলবৎ আছে। ১৯৮৪ সালে ভাষাসৈনিক আবদুল জলিল (১৯৩৬-২০১৯) এর সম্পাদনায় সাপ্তাহিক লাকসাম পত্রিকা প্রকাশনা শুরু। সবগুলোই একই সূত্রে গাথা। রমিজ খান সমসাময়িক সাহিত্যিক-সাংবাদিক বন্ধু মহলে পেয়েছেন- কবি হাসান হাফিজ, আবদুল হাই শিকদার, কবি আসাদ বিন হাফিজ (১৯৫৮-২০২৪), রাশেদ রউফ, রেজাউদ্দিন স্টালিন, শাহীন রেজা, মো: ইউনুস, মাহমুদুল হাসান নিজামী, কবি এস এম আবুল বাশার (১৯৩৫-২০২৩), এম এস দোহা, সফিকুর রহমান সফিক, নঈম নিজাম, ডক্টর মেহেদী হাসান, সায়েম মাহবুব (১৯৭২-২০২৩), এএফএম শোয়ায়েব (১৯৭২-২০২৪) প্রমুখ। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক পত্রিকা, অনলাইন মিডিয়াগুলোতে নিয়মিত লিখতেন। ম্যাগাজিনে লেখা দিতেন। নিয়মিত খোঁজখবর নিতেন।

১৫ এপ্রিল’২৪ শেষ নি:শ^াস ত্যাগ করেন তিনি। ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহে রাজেউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তার অসমাপ্ত লেখা, অপ্রকাশিত গ্রন্থ ও লেখাগুলো সংগ্রহের কাজ চলছে পাশাপাশি প্রকাশের জন্য প্রকাশক ও মিডিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

লেখক: আজিম উল্যাহ হানিফ, কবিও কলামিস্ট।

আপলোডকারীর তথ্য

কুমিল্লা- সিলেট মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে রেখেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা

সাংবাদিক রমিজ খানের অসমাপ্ত লেখা ও অপ্রকাশিত গ্রন্থ সংগ্রহের উদ্যোগ

আপডেট সময় ১২:৫৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০২৪

আজিম উল্যাহ হানিফ

সাংবাদিক ও ছড়াকার রমিজ খান ১৯৬১ সালের ৬ মার্চ কুমিল্লা জেলার সদর উপজেলার উত্তর চর্থায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা-মো: সোনা মিয়া, মাতা-আয়েশা বেগম। ১৯৭৮ সালে কুমিল্লা শহরের ইফসুফ বহুমুখি কারিগরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। হাইস্কুল জীবনেই লেখালেখির হাতে খড়ি ঘটে।

১৯৮১ সালে এলাকার একটি ক্লাবের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে একটি ম্যাগাজিন সম্পাদনার কাজ করেন। সেই থেকে সুস্থ ধারার সাহিত্য-সাংস্কৃতিক চর্চায় জড়িয়ে পড়েন। মানুষকে যদি সুস্থ ও সুন্দরের পথে আনা না যায়, তাহলে সাংস্কৃতিক শুদ্ধতা আসবে না, সেই উপলব্ধি থেকে কয়েকজন সমমনা বন্ধুকে নিয়ে ১৯৮১ সালে ২৮ জুন গড়ে তুলেন উষসী সাহিত্য পর্ষদ। পরবর্তীতে এটি হয় উষসী পরিষদ। প্রথমে তার সাথে যুক্ত হয়েছিলেন উত্তম, জীবন, শোয়েব, এমদাদ। পরে যুক্ত হন ঐ সময়ের অনেক খ্যাতিমান মানুষেরা, বিশেষ করে রুপসী বাংলার সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল ওহাব, প্রয়াত সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা চৌধুরী (১৯২৮-২০০৫), কবি ইসহাক সিদ্দিকী, মঞ্জুর হোসেন, মো: ইউনুস উল্লাহ প্রমুখ। ১৯৮২ সালে এরশাদের সামরিক শাসন জারি হওয়ার পর দেশের সকল রাজনীতিবিদ, ছাত্র জনতা, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মীরা স্বৈর শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামিল হয়। সে সময়ে রমিজ খান উষসী পরিষদকে নিয়ে এক অনন্য উচ্চতায়। রাজনীতিও সংস্কৃতির মাঝে তিনি সমান ভূমিকা পালন করেন।

নিজে বের করেন ছড়ার বই- ‘নানা-নানির দেশও হরতাল’, এবং স্বৈরাচার বিরোধী ছড়াও কবিতার সংকলন। মুক্ত অনুষ্ঠানে আবৃত্তি ও গণ সংগীতের অনুষ্ঠান করা ছিল রমিজ খানের প্রায় রুটিন ওয়ার্কের অংশ। উষসী পরিষদে ছিল ৩টি বিভাগ। উল্টরণ, উম্মেষ ও উচ্চারণ নামে। আপাদমস্তক একজন সাংগঠনিক মানুষ ছিলেন তিনি। অস্থিমজ্জায় তিনি একজন সুস্থ ধারার মানুষ ছিলেন। অন্যায়ের সাথে আপোষ করেন নি কখনো, নিয়েছেন একের পর এক উদ্যোগ। একদিকে করেছেন সংস্কৃতি চর্চা, অন্যদিকে করেছেন রাজপথের লড়াকু সৈনিকের ভূমিকায়। চেয়েছিলেন যারা সাহিত্য-সংস্কৃতির ও শিল্পের সাথে যুক্ত,তারা সবাই এক প্লাটফরমে এসে কাজ করুক। স্বপ্ন ছিলো তার অনেক বড়। ৯০ এর দশকে কুমিল্লা শহরের ঝাউতলাস্থ দৃষ্টিপাত ভবনে উষসী পরিষদ ছিল ২৪ ঘন্টাই খোলা। দেশের প্রগতিশীল,চিন্তাবিদ, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, গবেষকদের নির্ভরতারও মিলনমেলার স্থান হয়ে উঠেছিল উষসী পরিষদ। মঞ্চপাগল মানুষ ছিলেন রমিজ খান। কিন্তু নিজে মঞ্চে না উঠে,অন্যকে ঠাঁই করে দিতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করতেন। ১৯৮১ সালে জন্ম নেয়া উষসীতে এসে বহু সংগঠক পরবর্তীতে কুমিল্লাতে শত সংগঠনের জন্ম দিয়েছেন।

কুমিল্লাতে প্রথম কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ক্লাসিক কম্পিউটার সেন্টার গড়ে তুলেন তিনি। পুলিশ লাইনে গড়ে তুলেন উষসীর তত্তাবধানে ইংরেজি মিডিয়াম স্কুল শিশুকানন। বিভিন্নভাবেই তিনি বেকার যুবক যুবতীদেরও শিশু কিশোরদের কাজে লাগানোর পাশাপাশি তাদের সুস্থ ধারার সংস্কৃতি বিকাশে উৎসাহিত করেন। ১৯৮১-২০২৪ দীর্ঘ ৪৩ বছর উষসী পরিষদকে টেনে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। ফলে সারাদেশেই তার একটি পরিচয় রয়েছে। বিশেষ করে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে জেলে গেছেন উষসীর কর্মীরা। ১৯৮৮ সালের ২৫ শে মার্চ কুমিল্লা শহরের টাউন হল বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তনে সারাদেশের আবৃত্তিকারদের নিয়ে পালিত হয় প্রতিবাদী আবৃত্তি উৎসব- “এ মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না” যা নিয়ে সমকালীন শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকদের মধ্যেও সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। মোহাম্মদ ফজলে রাব্বী (১৯২৫-১৯৯৪) সম্পাদিত সাপ্তাহিক আমোদ পত্রিকাসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় যা গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছিলো। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) এর প্রথম জাতীয় নজরুল জন্ম জয়ন্তীতে যে আবৃত্তি দলটি অংশগ্রহণ করেছিল তাদের বেশিরভাগই ছিল উষসী পরিষদের “উচ্চারণ” বিভাগের কর্মী ও সংগঠক। এরাই পরে কুমিল্লার আবৃত্তি সংগঠনগুলো গড়ে তুলেছিলো। মনোযোগ দেন চাকুরী, সাংবাদিকতাও সমাজকর্মে। ২০০০ সালে ডেফোডিল ইন্সটিটিউট কুমিল্লার বাঞ্চ নিয়ে তিনি কাজ করতে শুরু করেন। তৈরি করেন একদল আইটি বিশেষজ্ঞ। যারা পরবর্তীতে কুমিল্লাতে আইটি ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০০৮ সালে গড়ে তুলেন সমমনা ও কর্মউদ্যোগী কিছু সহযোদ্ধাকে নিয়ে ন্যাচারাল এগ্রো কমপ্লেক্স (ন্যাক),যা বহু বছর কুমিল্লার ভোক্তাদের ফরমালিন ও ভেজাল মুক্ত ফল ও খাদ্য সরবরাহ করেছে। ২০১৩ সাল থেকে ঢাকাস্থ মাসরুবা মেডিকেল টেকনোলজী তে চিফ প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হিসেবে যোগ দেন এবং করোনাকালীন সময়ে করোনাসহ দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে চাকুরি থেকে অবসর নেন। যুক্ত ছিলেন আরো বহুমুখি সামাজিক কর্মকান্ডে। দাম্পত্য জীবনে সাবিহা শিরিনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুই মেয়ে। বড় মেয়ে তাসনুভা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপ-সচিব,বিসিএস ক্যাডার। ছোট মেয়ে তাইয়্যেবা ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানী কাস্টার রিসার্চ বাংলাদেশ (প্রা:) লি: এর সিনিয়র রিসার্চ ম্যানেজার পদে কর্মরত। রমিজ খান ছিলেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি, দি নিউনেশন ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি। এই প্রসঙ্গে একটি গ্রন্থে পেলাম, ১৯৮১ সালে উষসী পরিষদ গঠন, এরপরই এরশাদের ক্ষমতা দখল, ১৯৮৪ সালে কুমিল্লাকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করে বি-বাড়িয়া জেলা ও চাঁদপুর জেলা করণ, ১৯৮৪ সালে আবুল হাসানাত বাবুলের নেতৃত্বে তিননদী পরিষদ গঠন করে জামতলায় নিয়মিত প্রোগ্রামের আয়োজনকরণ,যা এখনো বলবৎ আছে। ১৯৮৪ সালে ভাষাসৈনিক আবদুল জলিল (১৯৩৬-২০১৯) এর সম্পাদনায় সাপ্তাহিক লাকসাম পত্রিকা প্রকাশনা শুরু। সবগুলোই একই সূত্রে গাথা। রমিজ খান সমসাময়িক সাহিত্যিক-সাংবাদিক বন্ধু মহলে পেয়েছেন- কবি হাসান হাফিজ, আবদুল হাই শিকদার, কবি আসাদ বিন হাফিজ (১৯৫৮-২০২৪), রাশেদ রউফ, রেজাউদ্দিন স্টালিন, শাহীন রেজা, মো: ইউনুস, মাহমুদুল হাসান নিজামী, কবি এস এম আবুল বাশার (১৯৩৫-২০২৩), এম এস দোহা, সফিকুর রহমান সফিক, নঈম নিজাম, ডক্টর মেহেদী হাসান, সায়েম মাহবুব (১৯৭২-২০২৩), এএফএম শোয়ায়েব (১৯৭২-২০২৪) প্রমুখ। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক পত্রিকা, অনলাইন মিডিয়াগুলোতে নিয়মিত লিখতেন। ম্যাগাজিনে লেখা দিতেন। নিয়মিত খোঁজখবর নিতেন।

১৫ এপ্রিল’২৪ শেষ নি:শ^াস ত্যাগ করেন তিনি। ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহে রাজেউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তার অসমাপ্ত লেখা, অপ্রকাশিত গ্রন্থ ও লেখাগুলো সংগ্রহের কাজ চলছে পাশাপাশি প্রকাশের জন্য প্রকাশক ও মিডিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

লেখক: আজিম উল্যাহ হানিফ, কবিও কলামিস্ট।