বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

সৌদি প্রবাসীদের ফ্ল্যাট আত্মসাৎ এর অভিযোগ হাজী সেলিম এর বিরুদ্ধে

Muktir Lorai / ২৩৬ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় শনিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২২

মোঃ দেলোয়ার হোসেন রুবেল, স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম: বিদেশে মরুর বুকে ঘাম ঝড়ানো শ্রমের বিনিময়ে কামানো টাকা দেশে বিনিয়োগ করতে এক হয়েছিল সৌদি আরবে কাজ করা চট্টগ্রামের ১২ প্রবাসী। পরিকল্পনা ছিল তাদের বিনিয়োগে চট্টগ্রাম শহরে একটা জায়গায় ভবন নির্মাণ করে জায়গার মালিককে ভবনের অর্ধেক দিয়ে বাকি অর্ধেক নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিবেন তারা।
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে একজনকে পুরো প্রকল্প তদারকির দায়িত্বও দেন তারা। নির্মাণ ব্যয় বহনের পাশাপাশি সেই তদারকির জন্য প্রতি স্কয়ার ফিটে তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রবাসীকে ৩০০ টাকা করে কমিশন দেয়ার সিদ্ধান্তও হয় তাদের। এসব শর্তে চুক্তি করে ভবন নির্মাণ হলেও নির্মাণ কাজের শেষ পর্যায়ে এসে বেঁকে বসেছেন তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধি।
হাজী মো. সেলিম উদ্দিন নামের ওই প্রবাসী বাকি ১১ প্রবাসীদের এখন বলছেন বাজার মূল্য অনুযায়ী ফ্ল্যাটগুলো বুঝে নিতে হবে তাদের। ওই প্রবাসীরা বিনিয়োগ ও চুক্তির বিষয় স্মরণ করিয়ে দিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব দিলে তাদের এক শব্দে সেলিম উদ্দিন জবাব দিচ্ছেন এই বিষয়ে কোন আলাপ আলোচনাতেই আগ্রহ নেই তার। বাজার মূল্যে কেনার আগ্রহ না থাকলে আদালতে এই বিষয়ে সূরাহা করার কথাই শুধু বলছেন হাজী সেলিম।
এদিকে সরল বিশ্বাসে দীর্ঘদিনের শ্রমের টাকা সহকর্মীর হাতে তুলে দিয়ে এমন প্রতারণার শিকার হওয়া প্রবাসীরা বলছেন দেশে কিছু খারাপ মানুষের কুপরামর্শে আইনি ফাঁকফোকর তৈরি করে তাদের জিম্মি করছেন হাজী সেলিম। তারা বলছেন সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্রের সহযোগিতা নিয়ে দেওয়ানী মামলার জটিলতার ফাঁদে ফেলে তাদের হয়রানি করছেন হাজী সেলিম।
এই চক্রে স্থানীয় রাজনৈতিক ক্যাডার সহ বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তিও আছেন বলে অভিযোগ হয়রানির শিকার হওয়া এসব প্রবাসীর। এই হয়রানি মোকাবেলা করার সময় মানসিক শক্তি কোনোটাই নেই দাবি করে তারা বলছেন, হয়রানির হাত থেকে মুক্তি পেতে প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা চান তারা। অন্যদিকে ১১ প্রবাসীর এমন অভিযোগ অস্বীকার করে হাজী সেলিম বলছেন, নিজের টাকায় এই ভবন তৈরি করেছেন তিনি।
প্রতারণার শিকার হওয়া সৌদি আরব প্রবাসী হারুন উর রশীদ চৌধুরী দৈনিক মুক্তির লড়াই প্রতিনিধিকে বলেন- ‘মক্কা জেদ্দায় বসবাসরত প্রবাসীদের একটা সংগঠন আছে আমাদের। আরব চট্টগ্রাম বিল্ডার ইনভেস্টম্যান্ট প্রা. লি. নামে। সেই সংগঠনের সভাপতি হলেন মিজান ভাই সাধারণ সম্পাদক সেলিম ভাই। সেলিম ভাই ২০১৫ সালের দিকে মিজান ভাইকে বলেন, চট্টগ্রামের চট্টেশ্বরী রোডে ১০ শতক জায়গা আছে যেখানে আমরা বিনিয়োগ করতে পারি। এজন্য আমরা ইনভেস্ট করবো। ল্যান্ড ডোনার পুরো প্রকল্পের অর্ধেক পাবে। আর আমরা প্রত্যেকে একটি করে ফ্ল্যাট নিব। সেই ফ্ল্যাটের জন্য আমরা নির্মাণ ব্যায়ের (প্রতি স্কয়ার ফিট ২৬০০ টাকা) পাশাপাশি ৩০০ টাকা কমিশন দিব। যে টাকা কাজ যারা দেখবে তারা নিবে। সেই রকম একটা চুক্তিও হয়েছিল আমাদের। চুক্তি অনুযায়ী আমরা উনাকে ধাপে ধাপে নির্মাণ ব্যয় বাবদ টাকা দিয়ে যাচ্ছিলাম। আমি নিজে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মত দিয়েছি।’
সংকট শুরুর বিষয়টি তুলে ধরে হারুন উর রশীদ চৌধুরী দৈনিক মুক্তির লড়াই বলেন- ‘আমাদের চুক্তিতে স্পষ্ট লেখা ছিল নির্মাণ ব্যায়ের পাশাপাশি আমরা ৩০০ টাকা করে দিব। কাজ শেষ হয়ে আসলে এই কথা থেকে একদম সরে যান সেলিম ভাই। তিনি বলছেন প্রতি স্কয়ার ফিট ৪০০০ টাকা দিয়ে আমরা কিনে নিতে হবে। এখন এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইলেও তিনি কথা বলছেন না। তিনি বলছেন আদালতে গিয়ে মামলা করতে। আমরা সেখানে গেলে স্থানীয় সন্ত্রাসী দিয়েও তিনি আমাদের হুমকি ধামকি দিচ্ছেন।’
হারুন উর রশীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আরব চট্টগ্রাম বিল্ডার্স ইনভেস্টমেন্ট প্রাইভেট লি. এর সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টা সত্য। আমরা সকলেই ভাই বন্ধু এখানে একসাথে কাজ করি। এই জায়গাটা সেলিম ভাই দেখেছেন। উনি আমাকে বলেছেন। আমি বাকিদের এখানে যুক্ত করেছি। কথা ছিল এই পাওয়ারটা আমার নেয়ার। কিন্তু ভিসা জটিলতায় আমি যেতে না পারায় আমরা উনাকে এই পাওয়ার নিতে বলি। কতটা ভাল সম্পর্ক থাকলে এভাবে বিশ্বাস করা যায় ভাবুন। সেই মানুষটা এখন কারও সাথে কথা বলতেও রাজি না। আসলে আমার ভাইটা লোভে পড়ে গেছেন। আমি আল্লার কাছে দোয়া করি আল্লাহ উনাকে হেদায়েত দিন। যা বুঝলাম উনি কিছু খারাপ লোকের পাল্লায় পড়েছেন। কিন্তু ওদের কাছেও সব প্রমাণ আছে। এখন যারা তাকে বুদ্ধি পরামর্শ দিচ্ছে তারা এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাচ্ছে যে দেওয়ানি মামলার দীর্ঘসূত্রতা মোকাবেলা করার মানসিক শক্তি বা সময় কোনটাই প্রবাসীদের নেই। এজন্যই পরিকল্পিতভাবে একটা হয়রানি তৈরি করা হচ্ছে। আমরা প্রবাসীরা খুব কষ্ট করে টাকা উপার্জন করি। সেই টাকা দেশে বিনিয়োগ করতে গিয়ে এমন হয়রানির মুখে যারা আমাদের ফেলছেন তারা আইনি ফাঁকফোকর হয়তো দেখাতে পারবেন তবে নৈতিকভাবে খুব খারাপ কাজ করছেন।’
হারুন উর রশীদ চৌধুরী ছাড়াও এই প্রকল্পে বিনিয়োগকারী আরেক প্রবাসী হারুন উর রশীদের পক্ষে এই বিষয়গুলো দেখাশুনা করছেন তার ভাগ্নে মিনহাজ চৌধুরী। এই প্রক্রিয়ায় হাজী সেলিমের সাথে স্থানীয় রাজনৈতিক ক্যাডাররাও এক হয়েছে জানিয়ে মিনহাজ চৌধুরী বলেন, ‘হাজী সেলিম কারও সাথে কথা বলতে বা শুনতে রাজি না। এসবে তাকে ইন্ধন দিচ্ছে আকরাম নামে একজন। তার কাজই এসব ধান্দাবাজি। সে আমাকে ডেকে আমার কাছে ৫ লাখ টাকা চেয়েছে। বলেছে এত কিছুর দরকার নাই। ফ্ল্যাট প্রতি আমাকে ৫ লাখ করে দাও। আমি সব ঠিক করে দিব। সেই প্রস্তাবে মিনহাজ চৌধুরী রাজি না হওয়াতে হাজী সেলিম তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তাকে হুমকি ধুমকি হত্যা এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখাতে শুরু করে।


এই বিভাগের আরো সংবাদ
Translate »
Translate »