ঢাকা ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

হজের সময় পিরিয়ড শুরু হলে করণীয়

  • ধর্ম ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:২৯:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জুন ২০২৩
  • ১৫৯ বার পড়া হয়েছে

হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং ফরজ বিধান। এই বিধান নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মক্কায় গিয়ে হজকার্য সম্পন্ন করে ফিরে আসার সামর্থ্য রাখে—এমন প্রত্যেক মুসলমান নারী-পুরুষের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। আল্লাহ পাক ঘোষণা করেন, ‘মানুষের মধ্যে যারা সেখানে (বায়তুল্লাহ) পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, তাদের ওপর আল্লাহর উদ্দেশে এ গৃহের হজ করা ফরজ। আর কেউ যদি অস্বীকার করে তাহলে তোমাদের জেনে রাখা উচিত, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতের প্রতি মুখাপেক্ষী নন।’ (সুরা আলে ইমরান: ৯৭)

হজের ইহরাম বাঁধার পর নারীর হায়েজ বা মাসিক শুরু হতে পারে। এ অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে যারা জানে না তারা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান এবং অনেক আমল থেকে বিরত থাকেন। আসুন জেনে নিই হজের সময় হায়েজ শুরু হলে নারীদের করণীয় কী।

মূলত হায়েজ (পিরিয়ড) অবস্থায় নারীরা শুধু তাওয়াফ ছাড়া হজের অন্য সকল আমল পালন করতে পারবেন। যেমন উকুফে আরাফা, উকুফে মুজদালিফা, সাফা-মারওয়া সাঈ, কঙ্কর নিক্ষেপ ইত্যাদি। হায়েজ শেষ হওয়ার পর গোসল করে তাওয়াফ করতে হবে। হায়েজের কারণে তাওয়াফ বিলম্বিত হলে কোনো গুনাহ হবে না। সুতরাং এ নিয়ে দুশ্চিন্তা বা মনোক্ষুণ্ন হওয়ারও কোনো কারণ নেই।

আয়েশা (রা.) বলেন, আমি যখন মক্কায় পৌঁছলাম তখন আমার হায়েজ চলছিল। আমি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করিনি এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করিনি। তিনি বলেন, তখন আমি এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর কাছে অভিযোগ করলাম। রাসুলুল্লাহ (স.) বললেন, হাজি যে কাজগুলো করে তুমিও তা করতে থাক। শুধু বায়তুল্লাহর তাওয়াফ পবিত্র হওয়া পর্যন্ত করবে না।’ (সহিহ বুখারি: ১/২২৩)

তবে হায়েজ বন্ধ হওয়ার আগেই ফেরত ফ্লাইটের তারিখ হয়ে গেলে ওষুধ খেয়ে হায়েজ বন্ধ করে তাওয়াফ করা যাবে। যদি শুরু থেকেই ওষুধ-বড়ি খেয়ে পিরিয়ড বন্ধ রেখে কেউ হজের সমস্ত কাজ করেন, তাতেও শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি নেই। (মাহমুদিয়া: ১৫/৪৯১, তাতারখানিয়া: ২/৪৭১ ফাতহুল কাদির: ২/৩৩৭ রহিমিয়া: ৮/৮৭)

জরুরি কারণে দেশে ফেরার জন্য কেউ যদি হায়েজ অবস্থায় তাওয়াফে জিয়ারত করতে চায়, তা-ও পারবে। তবে শর্ত হলো— তাকে একটি উট বা গরু জবাই করতে হবে। সাথে সে আল্লাহর দরবারে ইস্তেগফারও করবে। মোটকথা কোনো অবস্থাতেই তাওয়াফে জিয়ারত না করে দেশে যাবে না। অন্যথায় তাকে আবার মক্কায় এসে তাওয়াফ করতে হবে। যতদিন তাওয়াফ না করবে ততদিন স্বামীর সাথে থাকতে পারবে না। (রদ্দুল মুহতার: ২/৫১৮-৫১৯; মাআরিফুস সুনান: ৬/৩৫৭-৩৫৮)

হজের সময় ঋতুস্রাব অবস্থায় কেউ তাওয়াফে জিয়ারত ও সাঈ করে ফেললে পবিত্র হওয়ার পর তাকে শুধু তাওয়াফে জিয়ারতই করতে হবে। সাঈ পুনরায় করা জরুরি নয়। তবে সম্ভব হলে সাঈও পুনরায় করে নেওয়া ভালো। (গুনইয়াতুন নাসিক: ২৭৩; যুবদাতুল মানাসিক: ৩৭১; রদ্দুল মুহতার ২/৫৫১; আলবাহরুল আমীক: ২/১১২৫)

আল্লাহ তাআলা নারী হজযাত্রীদের হজ কবুল করুন। তাদেরকে হজের যাবতীয় মাসায়েল জানার ও আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হজের সময় পিরিয়ড শুরু হলে করণীয়

আপডেট সময় ০৬:২৯:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জুন ২০২৩

হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং ফরজ বিধান। এই বিধান নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মক্কায় গিয়ে হজকার্য সম্পন্ন করে ফিরে আসার সামর্থ্য রাখে—এমন প্রত্যেক মুসলমান নারী-পুরুষের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। আল্লাহ পাক ঘোষণা করেন, ‘মানুষের মধ্যে যারা সেখানে (বায়তুল্লাহ) পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, তাদের ওপর আল্লাহর উদ্দেশে এ গৃহের হজ করা ফরজ। আর কেউ যদি অস্বীকার করে তাহলে তোমাদের জেনে রাখা উচিত, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতের প্রতি মুখাপেক্ষী নন।’ (সুরা আলে ইমরান: ৯৭)

হজের ইহরাম বাঁধার পর নারীর হায়েজ বা মাসিক শুরু হতে পারে। এ অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে যারা জানে না তারা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান এবং অনেক আমল থেকে বিরত থাকেন। আসুন জেনে নিই হজের সময় হায়েজ শুরু হলে নারীদের করণীয় কী।

মূলত হায়েজ (পিরিয়ড) অবস্থায় নারীরা শুধু তাওয়াফ ছাড়া হজের অন্য সকল আমল পালন করতে পারবেন। যেমন উকুফে আরাফা, উকুফে মুজদালিফা, সাফা-মারওয়া সাঈ, কঙ্কর নিক্ষেপ ইত্যাদি। হায়েজ শেষ হওয়ার পর গোসল করে তাওয়াফ করতে হবে। হায়েজের কারণে তাওয়াফ বিলম্বিত হলে কোনো গুনাহ হবে না। সুতরাং এ নিয়ে দুশ্চিন্তা বা মনোক্ষুণ্ন হওয়ারও কোনো কারণ নেই।

আয়েশা (রা.) বলেন, আমি যখন মক্কায় পৌঁছলাম তখন আমার হায়েজ চলছিল। আমি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করিনি এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করিনি। তিনি বলেন, তখন আমি এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর কাছে অভিযোগ করলাম। রাসুলুল্লাহ (স.) বললেন, হাজি যে কাজগুলো করে তুমিও তা করতে থাক। শুধু বায়তুল্লাহর তাওয়াফ পবিত্র হওয়া পর্যন্ত করবে না।’ (সহিহ বুখারি: ১/২২৩)

তবে হায়েজ বন্ধ হওয়ার আগেই ফেরত ফ্লাইটের তারিখ হয়ে গেলে ওষুধ খেয়ে হায়েজ বন্ধ করে তাওয়াফ করা যাবে। যদি শুরু থেকেই ওষুধ-বড়ি খেয়ে পিরিয়ড বন্ধ রেখে কেউ হজের সমস্ত কাজ করেন, তাতেও শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি নেই। (মাহমুদিয়া: ১৫/৪৯১, তাতারখানিয়া: ২/৪৭১ ফাতহুল কাদির: ২/৩৩৭ রহিমিয়া: ৮/৮৭)

জরুরি কারণে দেশে ফেরার জন্য কেউ যদি হায়েজ অবস্থায় তাওয়াফে জিয়ারত করতে চায়, তা-ও পারবে। তবে শর্ত হলো— তাকে একটি উট বা গরু জবাই করতে হবে। সাথে সে আল্লাহর দরবারে ইস্তেগফারও করবে। মোটকথা কোনো অবস্থাতেই তাওয়াফে জিয়ারত না করে দেশে যাবে না। অন্যথায় তাকে আবার মক্কায় এসে তাওয়াফ করতে হবে। যতদিন তাওয়াফ না করবে ততদিন স্বামীর সাথে থাকতে পারবে না। (রদ্দুল মুহতার: ২/৫১৮-৫১৯; মাআরিফুস সুনান: ৬/৩৫৭-৩৫৮)

হজের সময় ঋতুস্রাব অবস্থায় কেউ তাওয়াফে জিয়ারত ও সাঈ করে ফেললে পবিত্র হওয়ার পর তাকে শুধু তাওয়াফে জিয়ারতই করতে হবে। সাঈ পুনরায় করা জরুরি নয়। তবে সম্ভব হলে সাঈও পুনরায় করে নেওয়া ভালো। (গুনইয়াতুন নাসিক: ২৭৩; যুবদাতুল মানাসিক: ৩৭১; রদ্দুল মুহতার ২/৫৫১; আলবাহরুল আমীক: ২/১১২৫)

আল্লাহ তাআলা নারী হজযাত্রীদের হজ কবুল করুন। তাদেরকে হজের যাবতীয় মাসায়েল জানার ও আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।