শিরোনাম
ডেউয়াতলী গ্রামের মরহুম মোঃ কোব্বাদ খান ও মান্নান চৌধুরী পরিবারবর্গকে নিয়ে সফিউল্লা খন্দকারের মানহানিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ পলাশ শিল্পাঞ্চল সরকারি কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারিদের বিক্ষোভ বাস্তবময় জীবনের বাস্তবতা…অনামিকা চৌধুরী রু লাকসামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন : প্রায় ৭লাখ টাকার ক্ষতি মুরাদনগরে সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের অভ্যন্তরীন প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত পদ্মা সেতু আমাদের জাতিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে দীঘিনালায় জেলেদের মাঝে ছাগল বিতরণ গোমস্তাপুরে চাঞ্চল্যকর কুলুলেস ‍‍`মেহেরুল‍‍` হত্যা মামলার আসামি আটক তরুন উদ্যোক্তা নাসিমা জাহান বিনতী’র গ্লোবাল ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড অর্জন পলাশে চাচীর সাথে পরকিয়া করতে গিয়ে প্রেমিকের হাতের কব্জি কর্তন
বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠনে জটিলতায় শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ

Muktir Lorai / ১৬০ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার, ১ জানুয়ারি, ২০২১

তন্ময় আহমেদ নয়ন, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে জটিলতায় শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ৭ মাস থেকে বন্ধ রয়েছে। ফলে অর্থাভাবে অধিকাংশ শিক্ষক কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছে। অপরদিকে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি প্রদানের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড দিনাজপুরের একটি চিঠিতে দেখা যায়, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমিটি না থাকলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতিস্বাক্ষরে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারিদের বেতন ভাতাদি প্রদান করতে পারবেন । কিন্তু শিক্ষক ও কর্মচারিদের বেতন প্রদানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার নীরব ভুমিকা পালক করার অভিযোগ উঠেছে।
হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীদের আবেদন সুত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৫ এপ্রিলে ঐ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। পরবর্তী ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন গঠন চলাকালে এর উপর অনিয়মের অভিযোগ এনে জনৈক অবিভাবক মোঃ দুলাল হোসেন মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং ৪৫৩২/২০২০ দায়ের করলে শুনানি অন্তে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেন। ফলে পুর্নাঙ্গ ম্যানেজিং কমিটি/এডহক কমিটি গঠন নিয়ে শুরু হয় জটিলতা। ফলে জুন মাস থেকে চলতি ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ঐ স্কুলের সকল শিক্ষক কর্মচারীর বেতন-ভাতা উত্তোলন করতে পারেনি।
বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রাদুর্ভাবে ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীগণ বেতন-ভাতা উত্তোলন করতে না পেরে নানাভাবে লাঞ্চিত ও বঞ্চনার স্বীকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ৭ মাস যাবত বেতন-ভাতা উত্তোলন করতে না পেরে অধিকাংশ শিক্ষক-কর্মচারীর মর্যাদাহানীসহ আর্থিক দৈন্যতা চরমে পৌঁছে গেছে। ধার-দেনা করাসহ দাদন ব্যবসায়ীর কাছে ব্যাংকের চেকবই বন্ধক রেখে ঋণ নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঋণের পাল্লা দিনদিন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে অনেকে লোকলজ্জার ভয়ে লুকিয়ে বেড়াচ্ছে।
অপর দিকে ঋণের টাকা সময়মত পরিশোধ করতে না পেরে অনেক দাদন ব্যবসায়ী শিক্ষক কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিচ্ছে বলে জানা গেছে। এ থেকে রেহাই পেতে ঐ স্কুলের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর বারবার আবেদন করেও তার কোন সুফল পাচ্ছেনা বলে শিক্ষক কর্মচারীদের দাবী। আর এ সমাধান কবে হবে তা কেউ বলতে পারছে না।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড দিনাজপুর এর স্মারক নং- মাউশিবোদি/বিদ্যা/অনুঃ ২০২০/১৯৪৬(০৫) তারিখ- ০৫/০৫/২০২০ খ্রিঃ- এর আলোকে কমিটি বিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তরবর্তীকালীন সময়ে শিক্ষক কর্মচারীদের বিলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রতিস্বাক্ষর দিয়ে বিল প্রদানের নির্দেশনা রয়েছে।
একইভাবে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের স্মারক নং-শিম/শাঃ১১/২(২)/৯৯(অংশ-১)/১২৮৮ তাং- ০৫/১০/২০২০ খ্রিঃ-এর আলোকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমুহে (স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা) ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি কোন কারণে স্থগিত থাকলে বা সভাপতি না থাকলে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বিলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রতিস্বাক্ষর দিয়ে বিল প্রদান করার নির্দেশনা রয়েছে।
সর্বশেষ নিরুপায় হয়ে হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ঐ স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির জটিলতায় জুন মাস থেকে স্কুলের বন্ধ থাকা বেতন-ভাতা প্রদানের অনুমতি জন্য মহামান্য হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং- ৫৪৫২/২০২০ শুনানির জন্য আবেদন করেন। শুনানি অন্তে মহামান্য হাইকোর্ট শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নতুন কমিটির অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতন-ভাতা উত্তোলনের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানের বিলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামিউল আমিনকে প্রতিস্বাক্ষর দিয়ে বিল প্রদানের নির্দেশ দিলেও আজও কোন শিক্ষক কর্মচারী বেতন-ভাতা পাননি।
ঐ স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশনকারী জনৈক অভিভাবক মোঃ দুলাল হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের সময় যথেষ্ট অনিয়ম করা হয়েছে। ফলে আমি হাইকোর্টে রিট পিটিশন করলে আদালত রুল জারি করেন। সেই রুলের এখনও চুড়ান্ত রায় হয়নি বলে তিনি জানান।
হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মতিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার স্ত্রী দেড় বছর যাবত ব্রেইন স্ট্রোকে বিছানায় পড়ে আছে। তার চিকিৎসা করতে অনেক টাকা ঋণ হয়েছে।
স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ যোগাতে না পেরে আমার শেষ সম্বল বেতনের চেক বই ও ১৫ শতাংশ জমি বন্ধক এবং দেড় শতাংশ বিক্রি করে তার চিকিৎসা করি। তার উপর গত জানুয়ারি মাসে স্কুলের জাতীয় খেলাধুলা চলাকালে আমার পা ভেঙ্গে যায়। সংসার চালানো তো দুরের কথা স্ত্রীসহ নিজের চিকিৎসা করার মতো সামান্য অর্থও নেই।
৭ মাস থেকে স্কুলের বেতন-ভতা বন্ধ থাকায় প্রায়ই না খেয়ে অর্ধাহারে থাকতে হয়। বাকি খেতে খেতে এখন দোকানদারও আর বাকি দিতে চায়না। ফলে ভালো ভাবে চলাফেরা করতে পারছিনা। এভাবে আর কিছুদিন চললে পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবেনা বলে তিনি কাঁদতে থাকেন।
এ বিষয়ে কথা হলে হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমজি মোস্তফা বলেন, করোনাকালীন সময়ে যেখানে অনেকেই সংসার চালাতে দুর্বিষহ হয়ে পড়ছে। সেখানে শিক্ষা বোর্ড, সচিবালয় ও মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা দেয়ার পরও গত জুন মাস থেকে স্কুলের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ রেখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানিবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। যে কোন গণতান্ত্রিক দেশের জনসাধারণের জন্য এটা মঙ্গলজনক নয়। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির জটিলতার জন্য স্কুলের শিক্ষক কর্মচারীগণ যেহেতু অপরাধী নয়, তাই অনতিবিলম্বে তাদের বেতন-ভাতার বিলে প্রতিস্বাক্ষর দিয়ে তা সমাধানের অনুরোধ করেন ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক।
হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামিউল আমিন বলেন, ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ আবেদন করলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রিজাইটিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়। পরে প্রিজাইটিং অফিসার নির্বাচন সম্পন্ন করেন। এরপর সেই কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জনৈক একজন অভিভাবক হাইকোর্টে রিট করে, অপর দিকে দায়িত্ব বুঝিয়ে পাওয়ার জন্য ঐ কমিটির সভাপতিও হাইকোর্টে রিট করেন। ফলে দুই পক্ষের রিটের চুড়ান্ত রায় না দেয়া পর্যন্ত ঐ স্কুলের শিক্ষক কর্মচারীগন বেতন ভাতা পাচ্ছেনা। যেহেতু মহামান্য হাইকোর্টে উভয় পক্ষের মামলা চলমান রয়েছে এক্ষেত্রে আমার কিছু করার নেই।


এই বিভাগের আরো সংবাদ
Translate »
Translate »