• মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৫৬ অপরাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
শিরোনাম
খুলশীতে দশম শ্রেনীর ছাত্রীকে অপহরণের সময় চারজন আটক : ভিকটিম উদ্ধার রাজশাহীতে বন্ধগেট – সিটি হাট পর্যন্ত সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ কাজের উদ্বোধন হাতিয়ায় ইউপি নির্বাচনে বিজয়ী হলেন যাঁরা শ্রীবরদীতে ইউএনওর হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল ৮ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী অনেক আকাংখার কন্যা সন্তানকে কোলে নেয়া হলো না পিতা আতিক মুন্সীর কাজী আনাস, ইসলামিক নাশিদ অঙ্গনে এক উদীয়মান নাম বাঘাইছড়ি মৎস্যচাষী সমবায় সমিতির মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে গোপালগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের নব নির্বাচিত কমিটির শ্রদ্ধা দিঘলিয়ায় ইউপি নির্বাচনে আ.লীগর এক বিদ্রোহী পাঁচ প্রার্থীর জয়লাভ মুরাদনগরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে চাচীকে জখম করায় ভাতিজা গ্রেফতার
বিজ্ঞাপন
মুক্তিকামী জনতার দৈনিক 'মুক্তির লড়াই' পত্রিকার জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ব্যুরো চীফ, প্রতি জেলা ও উপজেলার একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করুন। যোগাযোগের ঠিকানাঃ কামরুজ্জামান জনি- সম্পাদক, মুক্তির লড়াই। ইমেইলঃ jobmuktirlorai@gmail.com । ধন্যবাদ ।

৬৪ জেলায় গাছ লাগিয়ে ইতিহাস গড়লেন সিলেটের ফাহিম

Muktir Lorai / ৩৯ বার ভিউ করা হয়েছে
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট: “আসুন সবুজ বাংলাদেশ গড়ি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় নিজ হাত দিয়ে হাজার খানেক গাছ লাগিয়েছেন ২৩ বছরের তরুণ ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার-সিলেট জেলার কো-অর্ডিনেটর মুমিনুল হক ফাহিম। উক্ত সামাজিক কর্মসূচির নাম দিয়েছেন “Planting Trees in 64 Districts of Bangladesh”।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় “জাতিসংঘের ২৬ তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন”কে সামনে রেখে British Council সারা বিশ্বব্যাপী তরুণ জলবায়ু যুদ্ধাদের জন্য “Cop-26 Challenge Fund” নামে একটি অর্থায়ন প্রকল্প চালু করে।

জাতিসংঘের ২৬ তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন যা COP26 -Climate Change Conference নামেও পরিচিত। যেটি এই বছরের নভেম্বর মাসের ১ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত স্কটল্যান্ডের Glasgow শহরে অনুষ্ঠিত হবে যার আয়োজনে থাকছে UK।
মূলত এই সম্মেলনকে সফল করার জন্য অর্থায়ন প্রধান করতেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।

“Youth Engagement Cop-26” এ ৬৪ জেলায় বৃক্ষরোপণের একটি সামাজিক কর্ম প্রকল্প শেয়ার করেন মোমিনুল হক ফাহিম যা গ্রান্টেড হয়।

ফাহিম মূলত ৬৪ জেলায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করেন ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে নিজের ছাদ বাগান থেকে। তারপর ২৪ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ি,ফরিদপুর, শরীয়তপুর মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ এবং বরিশাল বিভাগের বরিশাল ,বরগুনা ,ভোলা, পটুয়াখালী ,ঝালকাঠি, পিরোজপুর এবং খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট এবং মেহেরপুর জেলাসহ মোট ১৫ টি জেলায় বৃক্ষরোপন করে সিলেটে ফিরে আসেন।
তারপর ২০২০ সালে করোনাভাইরাস এর কারণে তার এই প্রজেক্টটি থেমে যায়।

পরবর্তীতে ২০২১ সালের মে মাসে যখন ব্রিটিশ কাউন্সিলের অর্থায়ন পায় তখন তার এই কার্যক্রম আবার শুরু হয় ২১ মে সুনামগঞ্জ জেলাতে বৃক্ষরোপণ এর মধ্যে দিয়ে। এখান থেকেই শেষ ৪৯ টি জেলায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করেন।
২৪ মে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলাতে বৃক্ষরোপন করা হয়। হবিগঞ্জ জেলাতে আইডিয়াল হাই স্কুলে এবং মৌলভীবাজার জেলাতে বেগম রাছুলজান আব্দুল বারী উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ করা হয়।
তারপর ২৮ মে থেকে ২৪ জুন এক টানা ২৮ দিনে ৬ টি বিভাগের (খুলনা বিভাগ,রাজশাহী বিভাগ,রংপুর বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ, ঢাকা বিভাগ এবং চট্টগ্রাম বিভাগ) ৪৫ টি জেলায় বৃক্ষরোপন করে ৬৪ জেলায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচির শেষ করেন কক্সবাজার এসে।
ফাহিমের সঙ্গী ছিলেন জয়ন্ত পাল, দূর্জয় রায়, জয় ভট্টাচার্য্য এবং আমিনা বেগম।
প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সহযোগিতায় ছিলেন প্রজেক্ট এর উপদেষ্টা মোঃ আব্দুস সালাম।

বৃক্ষরোপনের জায়গা হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছিলেন বিভিন্ন জেলার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অফিস। যেমন ঢাকা জেলাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ,চট্টগ্রাম জেলা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় , রাঙ্গামাটি জেলা রেড ক্রিসেন্টের অফিস ,কক্সবাজার জেলা সাহিত্যিকা উচ্চ বিদ্যালয় ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, মোমিনুল হক ফাহিম এর গ্রামের বাড়ি বিশ্বনাথে এবং বসবাস করছেন সিলেট নগরীর তালতলা এলাকায় ,বাবা মো:আব্দুল হক সিটি ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী এবং মা গৃহিনী। তাছাড়া তিনি ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সিলেট জেলার সমন্বয়ক। পাশাপাশি তিনি অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথেও জড়িত। অবলা প্রাণীদের অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার এই মানুষটি বেশ ভ্রমণপিপাসুও বটে। তিনি ইতিমধ্যে ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মাত্র ২১ বছর বয়সে বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় ভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন।

৬৪ জেলাগুলোতে ফলজ গাছ, ঔষধি গাছ,বনজ গাছ ও কাট গাছ লাগিয়েছেন যেমন কৃষ্ণচূড়া, আমলকি, হরতকি, বয়রা, নিম, রাধাচূড়া, মিনি ট্যাগ, মেহগনি, বেটেল , বাদাম, কাগজি লেবু, পেয়ারা, আম, কাঠাল ,জামরুলসহ বহু মূল্যবান বৃক্ষ রোপন করেন।

বৃক্ষরোপণ এর পাশাপাশি লিফলেট বিতরণ, গাছ লাগানোর উপকারিতা এবং গাছ কাটার অপকারিতা সম্পর্কে মানুষদের সাথে কথা বলেন তিনি।
৬৪ জেলায় যারা যারা তাকে সহযোগিতা করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান ফাহিম। তাছাড়াও এবং প্রজেক্ট এর টিম মেম্বার, উপদেষ্টা এবং যে সংঘঠন তাকে সাহায্য করেছে ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশ, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ এবং ব্রিটিশ কাউন্সিল।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “২০৩৫ সালের ভিতরে ইসরাইল ছাড়া বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশ ভ্রমণ করতে চান এবং প্রতিটি দেশেই বৃক্ষরোপণ করতে চান”।


এই বিভাগের আরো সংবাদ