সবাইকে শুভেচ্ছা! নতুন বছরে এক নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হতে যাচ্ছে এবং বেইজিং থেকে আমি আপনাদের সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি!
২০২৫ সালে চীনের ১৪তম পাঁচসালা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শেষ হয়। গত পাঁচ বছরে, আমরা দৃঢ় সংকল্প ও অধ্যবসায়ের সাথে সামনে এগিয়েছি; অসংখ্য অসুবিধা ও চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেছি; এবং আমাদের লক্ষ্য অর্জন করেছি ও নির্ধারিত কাজগুলো সফলভাবে সম্পাদন করেছি। চীনা শৈলীর আধুনিকায়নের নতুন যাত্রায় আমরা অবিচল পদক্ষেপ নিয়েছি। চীনের মোট অর্থনৈতিক উত্পাদন ক্রমাগত নতুন নতুন মাইলফলক অতিক্রম করেছে এবং এই বছর এটি ১৪০ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। চীনের অর্থনৈতিক শক্তি, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত শক্তি, জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তি, এবং সামগ্রিক জাতীয় শক্তি—সবই নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সবুজ পাহাড় ও স্বচ্ছ জলরাশি একটি সুন্দর পটভূমিতে পরিণত হয়েছে এবং জনগণের লাভ, সুখ ও নিরাপত্তার অনুভূতি ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পাঁচ বছর অসাধারণ ছিল এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা সাফল্য অর্জন করেছি। প্রত্যেকের কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও অবদানে একটি সমৃদ্ধ চীন গড়ে উঠছে। আমি অবদান রাখা প্রতিটি পরিশ্রমী ব্যক্তিকে সালাম জানাই!
বিদায়ী বছরটি ছিল অবিস্মরণীয়। আমরা জাপানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চীনা জনগণের প্রতিরোধযুদ্ধ ও বিশ্বের ফ্যাসিবাদবিরোধী যুদ্ধে বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী উদযাপন করেছি এবং তাইওয়ান পুনরুদ্ধার স্মারক দিবস নির্ধারণ করেছি। এই বিশাল জাতীয় অনুষ্ঠানটি ছিল মহিমান্বিত ও বিস্ময়কর। বিজয়ের গৌরব চিরকাল ইতিহাসে লিপিবদ্ধ থাকবে; চীনা জনগণকে ইতিহাস স্মরণ করতে, শহীদদের স্মৃতি লালন করতে, শান্তির মূল্য দিতে, ও একটি উন্নত ভবিষ্যত গড়তে অনুপ্রাণিত করবে। এইভাবে চীনা জাতির মহান পুনর্জাগরণের জন্য অপরিসীম শক্তি যুক্ত হবে।
উচ্চমানের উন্নয়নের জন্য আমরা উদ্ভাবনের ওপর নির্ভর করি। শিল্পের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গভীর একীকরণের ফলে, উদ্ভাবনী সাফল্যের উত্থান ঘটেছে। বড় আকারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলো দ্রুত বিকশিত হচ্ছে এবং স্বাধীন চিপ উন্নয়নে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। উদ্ভাবনের দিক থেকে চীন দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি হয়ে উঠেছে। থিয়ানওয়েন-২ তার ‘তারকা-ধাওয়া’ শুরু করেছে। ইয়াসিয়া জলবিদ্যুত প্রকল্পের বাস্তবায়নকাজ শুরু হয়েছে এবং প্রথম ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট-সজ্জিত বিমানবাহী রণতরী আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবহরে যুক্ত হয়েছে। হিউম্যানয়েড রোবটগুলো তাদের ‘কুংফু মোড’ প্রদর্শন করছে এবং ড্রোনগুলো দর্শনীয় ‘আতশবাজি’ উপহার দিচ্ছে।
উদ্ভাবন ও সৃষ্টি নতুন ধরণের উৎপাদনশীলতাকে উৎসাহিত করছে এবং জীবনকে সমৃদ্ধ থেকে সমৃদ্ধতর করছে।
আমরা আমাদের আধ্যাত্মিক ঘরকে সংস্কৃতি দিয়ে পুষ্ট করি। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও অবৈষয়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি উত্সাহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে; বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় নতুন সদস্য যুক্ত হয়েছে; এবং ‘উখং’ ও ‘ন্যচার’ মতো চীনা চরিত্র বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রাচীন চীনা নান্দনিকতা তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ‘শীর্ষ নান্দনিক প্রবণতা’ হয়ে উঠেছে। নগর ও গ্রামীণ সাংস্কৃতিক পর্যটনবাজার ক্রমশ সমৃদ্ধ হচ্ছে; শীতকালীন খেলাধুলা শীতকালীন আবেগকে জাগিয়ে তুলছে। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশ্রণ চীনা সংস্কৃতিকে আরও উজ্জ্বল করেছে ও করছে।
আমরা একসাথে একটি উন্নত জীবন গড়ি ও তা ভাগাভাগি করি। আমি সিচাং ও সিনচিয়াংয়ে উদযাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছি। তুষারাবৃত মালভূমি থেকে থিয়ানশান পর্বতমালার উত্তর ও দক্ষিণ পর্যন্ত, সকল জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে আমি হাতে হাত রেখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি, ডালিমের বীজের মতো শক্তভাবে আবদ্ধ থাকার মতো। তাঁরা সাদা হাদা (আনুষ্ঠানিক স্কার্ফ) এবং উত্সাহী গান ও নৃত্যের মাধ্যমে মাতৃভূমির প্রতি তাদের ভালোবাসা ও সুখ প্রকাশ করছিলেন।
যত ছোটই হোক না কেন, জনগণের জীবিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদায়ী বছরে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকার ও স্বার্থ আরও সুরক্ষিত করা হয়েছে; বয়স-বান্ধব সংস্কার বয়স্কদের জন্য সুবিধা বয়ে এনেছে; এবং শিশুসহ পরিবারগুলো প্রতিমাসে অতিরিক্ত ৩০০ ইউয়ান করে ভর্তুকি পাচ্ছে। চার ঋতুতে প্রতিটি ‘ছোট পরিবার’-এর দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ হচ্ছে; পরিবারগুলো সমৃদ্ধ হচ্ছে; এবং এভাবে চীনের ‘বড় পরিবার’ সমৃদ্ধ হচ্ছে।
আমরা দু’হাত বাড়িয়ে বিশ্বকে আলিঙ্গন করার নীতি অনুসরণ করে যাচ্ছি। শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও)-র থিয়ানচিন শীর্ষসম্মেলন ও বৈশ্বিক নারী শীর্ষ সম্মেলন সুষ্ঠুভাবে আয়োজিত হয়েছে এবং হাইনান অবাধ বাণিজ্য বন্দরের বিশেষ শুল্ক কার্যক্রম চালু হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করতে, নতুন দফার জাতীয় স্বতন্ত্র অবদানের ঘোষণা দিয়েছে চীন। ‘তিনটি প্রস্তাব’-এর একটি হিসেবে আমি ‘বৈশ্বিক ব্যবস্থাপনা প্রস্তাব’ উত্থাপন করেছি, যার লক্ষ্য আরও ন্যায্য ও সুসংহত বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা। আজ বিশ্ব অশান্তিতে পরিপূর্ণ এবং কিছু অঞ্চল এখনও যুদ্ধে বিধ্বস্ত। চীন সর্বদা ইতিহাসের সঠিক দিকে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশের সাথে হাতে হাত রেখে, বিশ্বের শান্তি ও উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে এবং মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গড়ে তুলতে, চীন আগ্রহী।
কিছুদিন আগে, আমি জাতীয় গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হই। কুয়াংতুং, হংকং ও ম্যাকাও—এই তিনটি অঞ্চলকে ঐক্য ও সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে দেখা ছিল বেশ আনন্দদায়ক। দৃঢ়ভাবে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতি কাজে লাগিয়ে, দেশের উন্নয়ন-প্রক্রিয়ার সাথে সুষ্ঠুভাবে যুক্ত হতে, হংকং ও ম্যাকাওকে সমর্থন করে যেতে হবে এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য কাজ অব্যাহত রাখতে হবে। তাইওয়ান প্রণালীর দু’তীরের স্বদেশীদের মধ্যে রক্তের বন্ধন পানির চেয়েও ঘন; মাতৃভূমির পুনর্মিলনের ঐতিহাসিক প্রবণতা অপ্রতিরোধ্য!
একটি শক্তিশালী দেশের জন্য একটি শক্তিশালী পার্টি অপরিহার্য। আমরা কেন্দ্রীয় কমিটির আট-দফা নিয়ন্ত্রণের চেতনার ওপর গভীর অধ্যয়ন ও শিক্ষা পরিচালনা করেছি; ব্যবহারিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সততা প্রতিষ্ঠা করে পার্টিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও শাসন করেছি। ক্ষয় দূর করে আত্ম-বিপ্লবকে এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে, পার্টির আচরণ ও রাজনৈতিক চেতনা ক্রমাগত উন্নত হয়েছে। আমাদের অবশ্যই নিজেদের মূল আকাঙ্ক্ষা ও লক্ষ্যের প্রতি সত থাকতে হবে, অধ্যবসায় জারি রাখতে হবে, অধ্যবসায়ের সুফল আহরণ করতে হবে, এবং ইয়ান আনে সিপিসি’র প্রাথমিক সময়ের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের কথা (‘গুহাবাসের প্রশ্ন’) স্মরণে রেখে, পার্টির বিদ্যমান ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
২০২৬ সাল হল ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার’ সূচনা বছর। যারা কিছু শুরু করতে চান, তাদের অবশ্যই আগে থেকেই এর ফলাফল বিবেচনা করা উচিত; অন্যদিকে, যারা দুর্দান্ত কিছু অর্জন করতে চান, তাঁরা প্রায়শই শুরু থেকেই সাবধানতার সাথে পরিকল্পনা করেন। আমাদের অবশ্যই নিজেদের লক্ষ্য ও কাজের ওপর মনোনিবেশ করতে হবে, আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে, সুযোগ কাজে লাগাতে হবে, উচ্চমানের উন্নয়নকে দৃঢ়ভাবে উত্সাহিত করতে হবে, সকল দিকে সংস্কার ও উন্মুক্তকরণকে আরও গভীর করতে হবে, সকল মানুষের সাধারণ সমৃদ্ধির জন্য কাজ করে যেতে হবে, এবং চীনা অলৌকিকতার একটি নতুন অধ্যায় রচনা করতে হবে।
স্বপ্ন পূরণের জন্য পাহাড়-সমুদ্র পেরিয়ে যাওয়ার পথ, মনোযোগ বা বিশ্বাসের কারণে, খুব বেশি দূরের বলে মনে হয় না; সামনের পথ দীর্ঘ ও কঠিন, কিন্তু আমরা দ্বিধা ছাড়াই দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী পদক্ষেপ নেব। আমাদেরকে ছুটন্ত ঘোড়াকে চাবুক মারার সাহস সঞ্চয় করতে হবে; হাজার হাজার ঘোড়ার শক্তিকে ছুটতে ছুটতে অবমুক্ত করতে হবে; ঘোড়ার মতো অক্লান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে; এবং স্বপ্ন ও সুখের জন্য একসাথে কাজ করে, আমাদের মহান দৃষ্টিভঙ্গিকে একটি সুন্দর বাস্তবতায় রূপান্তরিত করতে হবে।
নববর্ষের নতুন সূর্য উদিত হতে চলেছে। আমাদের মাতৃভূমি মহান হোক, আমাদের ভূমি সমৃদ্ধ হোক, এবং জাতি সমৃদ্ধি, প্রাণশক্তি ও ইতিবাচক শক্তিতে ভরপুর হোক। আপনাদের সকলের হৃদয় আনন্দে ভরে থাকুক, আপনাদের কর্মজীবনে সাফল্য আসুক; এবং আপনাদের সকল আশা পূরণ হোক!
সূত্র:ছাই-হাইমান-আলিম-আনন্দি,সিএমজি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
Copyright © 2026 Muktirlorai | মুক্তির লড়াই. All rights reserved.