দেবব্রত মন্ডল, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
খুলনার ডুমুরিয়ায় টানা কয়েক দিনের অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ফের প্লাবন দেখা দিয়েছে বয়ারশিং ও আঁধারমানিক খলসিবুনিয়া সহ বিস্তির্ন এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে গ্রামের রাস্তাঘাট, বসত বাড়ি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কয়েক হাজার মৎস্য ঘের। গত কয়েক বছর যাবত বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের ভোগান্তিতে পড়ে আসছে তিন গ্রামের অন্তত প্রায় ১ হাজার পরিবার।
জলাবদ্ধতা নিরসনে বয়ারশিং শ্মশান ঘাট সংলগ্ন দোয়ানিয়া খালের উপর পাকারাস্তার ভিতর দিয়ে একটি পাইপ বসানো রয়েছে।এলাকাবাসীর জোর দাবী এই পাইপ সংস্কার করলে ও একটি স্লুইসগেট নির্মান করলে একালার কয়েক হাজার হেক্টর জমি ধান রোপন সহ মৎস্য চাষ করার জন্য উপযুক্ত হবে বলে আশাবাদী এলাকার ভূক্তভোগী জনগন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওতাধীন আঁধারমানিক বয়ারশিংও খলসীবুনিয়া গ্রাম তিনটি প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এলাকায় সামান্য বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত হয়।
এলাকায় প্রায় ১ হাজার একর জমি রয়েছে। যেখানে বসতি, ফসলি জমি ও মৎস্য ঘের রয়েছে।
কিন্তু পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা না থাকার কারণে প্রতিবছরই ভোগান্তিতে পড়তে হয় এলাকার বসবাসরত মানুষদের।
একদিকে বৃষ্টির পানি অন্যদিকে অবৈধ ভাবে উঠানো নদীর জোয়ারের পানিতে তলিয়ে একাকার হয়ে পড়ে এ অঞ্চলের বিস্তির্ণ এলাকা।
আঁধারমানিক একেবিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিও পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। বয়ারশিং গ্রামের ভুক্ত ভোগী জনগনেরা জানান টানা বৃষ্টির কারনে ও কিছু অসাধু ঘের ব্যবসায়ীর কারনে এলাকার কিছু সুবিধাদিদের মাছ চাষের সুবিধার্থে বিলে জোয়ারের পানি প্রবেশ করানোর কারণে ব্যাপন কভাবে প্লাবন দেখা দিয়েছে।
একই এলাকার শ্যামল মন্ডল জানান, পানিতে তলিয়ে তাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির চাপে এলজিইডি কর্তৃক সদ্য নির্মাণাধীন রাস্তাটি কয়েক জায়গায় ভেঙে গেছে। এতে সর্বসাধারণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এলাকার ভূক্তভোগী জনগন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন জানান, পানি নিষ্কাশনের সু-ব্যবস্থা না থাকায় অঞ্চলটি সামান্য বৃষ্টিতেই প্লাবিত হয়। তালতলা রেগুলেটরের মুখে পলি ভরাট হওয়ার কারণে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আপদকালীন সময় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য আঁধারমানিক ওয়াপদায় পাইপ বসানো সম্পন্ন করা হয়েছে। এখান দিয়ে পানি নিষ্কাশন হলে আশাকরি কিছু দিনের মধ্যই পানি কিছুটা হলেও কমবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল-আমিন গত কিছুদিন আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন অতি দ্রুত গেটের মুখের পলি অপসারন ও নতুন স্লুইস গেট নির্মান করার জন্য খুলনা পানী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকতাদের সাথে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দান করেন। আর যারা মাছ চাষের সুবিধার্থে জোয়ারের পানি বিলে প্রবেশ করাইছে তাদেরকে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন।।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
Copyright © 2025 Muktirlorai | মুক্তির লড়াই. All rights reserved.