নিউ ইয়র্কের রাজধানী আলবেনীতে অবস্থিত স্টেট সিনেট চেম্বারে প্রথম বারের মত বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বন্ধু সিনেটর সেপুনভেদার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই স্বরণীয় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাসহ বাংলাদেশী অভিবাসী সমাজের ৫০ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি অংশগ্রহণ করবেন। ৮ মার্চ ২০২৫ জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে টাইমস স্কয়ারে সহস্র কন্ঠে ‘বাংলা বর্ষবরণ’ প্রথম মহড়া অনুষ্ঠানে এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড-এর সভাপতি বিশ্বজিত সাহা অনুষ্ঠানসূচি ঘোষণা করেন। সংগীত শিল্পী মহিতোষ তলুকদার তাপসের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ মহড়ায় শুরুতে এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড-এর সৌম্যব্রত দাসগুপ্ত, বর্ষবরণ ম্যাগাজিন-এর প্রধান সম্পাদক নুরুল বাতেন ও কৃষ্ণেন্দু রুপ্র বক্তব্য রাখেন। শিল্পী মহিতোষ তালুকদার তাপস এদিন শতাধিক শিল্পীদের নিয়ে ২০২৫ সালের বর্ষবরণের জন্য প্রস্তুতিমূলক মহড়ায় ১০০টি গান তোলেন। বড়দের পাশাপাশি এবার টাইমস স্কয়ারে অনুষ্ঠিত ছোটদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠান প্রস্তুতি নিচ্ছেন মহিতোষ তালুকদার তাপস। আমেরিকায় বেড়ে ওঠা শতাধিক শিশু-কিশোর নিয়ে একটি অনুষ্ঠিত হবে।
৭ এপ্রিল ২০২৫ আলবেনিতে নববর্ষের ওপর বিশেষ সেশন থাকবে। এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের উদ্যোগে এদিন সকাল ৯টায় জ্যাকসন হাইটস থেকে বাস ছাড়বে। বাসটি ফিরে আসবে জ্যাকসন হাইটসে ওইদিন রাতে।
এর আগে ২২ জানুয়ারি ২০২৫ নিউ ইয়র্ক স্টেটের সর্বোচ্চ আইনপ্রনয়ণকারী সংস্থা স্টেট সিনেট সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পহেলা বৈশাখকে এই অঙ্গরাজ্যের বাংলা নববর্ষ হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে। নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের স্বীকৃতি হিসাবে ও এই রাজ্যে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি দৃঢ় করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। পহেলা বৈশাখ বাঙ্গালির জীবনে অতি গুরুত্বপূর্ণ সেকথা উল্লেখ করে সিদ্ধান্তটিতে বলা হয়, প্রতি বছরই বিপুল সমারোহে এই দিনটি উদযাপিত হয়ে থাকে। ২০২২ সাল থেকে দিবসটি নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হয়ে আসছে। এতে উল্লেখ করা হয়, প্রবাসে বাংলা নববর্ষ উদযাপন ও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসারে নিউ ইয়র্ক মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
সিদ্ধান্তে বলা হয়, নিউ ইয়র্ক স্টেট বিশ্বব্যাপী বাংলা ভাষাভাষী মানুষের গৌরবময় সাফল্যের, বিশেষত এই রাজ্যে বসবাসরত বাঙ্গালিদের অব্যাহত অবদানের স্বীকৃতি জানিয়ে ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখকে এই রাজ্যে বাংলা নববর্ষ হিসাবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তে নিউ ইয়র্ক স্টেট সিনেটর আমেরিকায় বিশেষ অবদানের জন্য শিকাগো টাওয়ার খ্যাত প্রকৌশলী এফ আর খান, Leaving the world behind খ্যাত রুমানা আনম, লেখক ঝুম্পা লাহিড়ী , অমিতাভ ঘোষ, ইকবাল কাদির, ইউটিউবের কো ফাউন্ডার জাওয়েদ করিম, খান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সালমান খান, ওমর ইশরাকসহ কৃতি বাঙালিদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বিশ্বজিত সাহার উদ্দোগে সিনেটর Luis Sepulveda সিনেটে প্রস্তাবনাটি তুলে ধরেন এবং ২২ জানুয়ারি ২০২৫ এটি গৃহীত হয়। বিশ্বজিত সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাইরে যে বিশ্ববাঙালি রয়েছে এই স্বাীকৃতি তাদের সকলকে উজ্জীবিত ও গৌরবান্বিত করবে। উল্লেখ্য এনআরবি ওয়াল্ড ওয়াইডের উদ্যেগে ২০২৩ সাল থেকে টাইমস স্কয়ারে বিশ্ববাঙালি বাংলা বর্ষবরণ করে আসছে।
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্তে বলা হয়, ভারতের মুঘল সাম্রাজ্যে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সূচনা। বর্তমানে বাংলাদেশ ছাড়াও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে, যেমন- লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ডসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে একই সময়ে নববর্ষ উদযাপিত হয়ে থাকে। বাংলা ভাষায় কথা বলেন এমন অভিবাসীর কথা উল্লেখ করে এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলা থেকে আগত বিপুল সংখ্যক অভিবাসী এই রাজ্যে নানাভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
Copyright © 2025 Muktirlorai | মুক্তির লড়াই. All rights reserved.