নিজস্ব প্রতিবেদক
সত্য প্রকাশ ও জনস্বার্থে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়াই কি অপরাধ? রাজধানীর দারুস সালামে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক ভয়াবহ ও বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন তিন সাংবাদিক। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কেবল লাঞ্ছিতই হননি, বরং কারখানা মালিক ও তার সশস্ত্র বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে রক্ত ঝরাতে হয়েছে ‘অপরাধ জগৎ’-এর সাংবাদিক শাহিন আলম আশিক ও তার সহকর্মীদের। সন্ত্রাসীদের রডের আঘাতে ভেঙে গেছে সাংবাদিকের হাড়, ছিনতাই করা হয়েছে পেশাগত সরঞ্জাম।
অনুসন্ধানের নেপথ্যে: সিলগালা কারখানায় মৃত্যুর কারবার, জানা গেছে, গত ১১ মে ২০২৬, বিকেল আনুমানিক ৪:২০ মিনিটে সাংবাদিক শাহিন আলম আশিক তার সহকর্মী ক্যামেরাম্যান রায়হান মোস্তফা এবং গোলাম মগ্নী রিপনকে নিয়ে দারুস সালামের গৈদারটেক এলাকায় একটি বিশেষ অনুসন্ধানে যান। পূর্বে সিলগালাকৃত একটি নোংরা মিষ্টি তৈরির কারখানা আইন অমান্য করে পুনরায় সচল হওয়ার খবর পেয়ে তারা সেখানে উপস্থিত হন। সরেজমিনে দেখা যায়, চরম অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই তৈরি হচ্ছে খাবার।
বর্বরোচিত হামলা ও অবরুদ্ধ নির্যাতন
জনস্বার্থে এই অনিয়মের ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলেই বাধার সম্মুখীন হন তারা। কারখানার মালিক সোহেল (৪০) এবং তার পালিত ১৫-২০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী লাঠিসোটা, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাংবাদিকদের টেনে-হিঁচড়ে কারখানার ভেতরে নিয়ে তালাবদ্ধ করে ফেলে এবং দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালায়।
গুরুতর জখম:
সন্ত্রাসীদের রডের আঘাতে সাংবাদিক গোলাম মগ্নী রিপনের বাম হাতের হাড় ভেঙে গেছে। ক্যামেরাম্যান রায়হানকে লোহার হাতল দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে। বর্তমানে তারা শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।
লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকি
শারীরিক নির্যাতনের পর শুরু হয় প্রকাশ্য লুটতরাজ। সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়:
একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পেশাগত ভিডিও ক্যামেরা ও স্ট্যান্ড।
তিনটি মোবাইল মেমোরি কার্ড (যাতে দুর্নীতির তথ্য সংরক্ষিত ছিল)।
নগদ ১০,২০০ টাকা, মানিব্যাগ, চশমা ও হাতঘড়ি।
অভিযোগ অনুযায়ী, মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টায় তাদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয় এবং ঘটনা জানাজানি করলে বা আইনি ব্যবস্থা নিলে তাদের সপরিবারে হত্যার হুমকি দিয়ে কারখানা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
বিচারহীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন
এই পৈশাচিক হামলার ঘটনায় শাহিন আলম আশিক বাদী হয়ে দারুস সালাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এদিকে, রাজধানীর সাংবাদিকদের ওপর এমন প্রকাশ্যে হামলার ঘটনায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাংবাদিক নেতারা এই ঘটনাকে 'গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার অপচেষ্টা' হিসেবে অভিহিত করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামি সোহেলসহ সকল হামলাকারীকে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছেন।
আইনি পরিক্রমা: দারুস সালাম থানা পুলিশ জানিয়েছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
Copyright © 2026 Muktirlorai | মুক্তির লড়াই. All rights reserved.